৬/৩২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭২৮ - রোজায় আলিঙ্গন ও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ
রোযা থাকাবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর আলিঙ্গন
রোজায় আলিঙ্গনের ক্ষেত্রে আত্মনিয়ন্ত্রণ কেন জরুরি
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭২৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭২৮
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ أَبِي مَيْسَرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُبَاشِرُنِي وَهُوَ صَائِمٌ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لإِرْبِهِ .
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে রোজা থাকাবস্থায় আলিঙ্গন করতেন। তবে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি সামর্থবান ছিলেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর রোজা অবস্থায় দাম্পত্য সান্নিধ্যের একটি ঘটনা বলেছেন। তিনি জানান, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে আলিঙ্গন করতেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি একটি জরুরি সীমাও স্পষ্ট করেছেন—নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম ছিলেন। তাই এই বর্ণনাকে শুধু ‘রোজায় আলিঙ্গন করা যায়’—এমন ছোট বাক্যে সীমাবদ্ধ করলে হাদিসের অর্ধেক শিক্ষা হারিয়ে যায়। রোজায় আলিঙ্গন বিষয়ে এখানে আত্মসংযমই কেন্দ্রীয় কথা। যে আচরণ কাউকে নিয়ন্ত্রণ হারানোর দিকে নিয়ে যেতে পারে, তার জন্য নবীজির বিশেষ সামর্থ্যকে নিজের সাধারণ অবস্থার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা ঠিক নয়। হাদিসটি সরাসরি কোনো ব্যক্তির জন্য আলাদা সিদ্ধান্ত ঘোষণা করছে না; বরং ঘটনা ও সতর্কতার কথা একসঙ্গে বলছে। তাই নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে সৎ থাকা এবং রোজাকে ঝুঁকি থেকে বাঁচানোই সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোজা অবস্থায় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আলিঙ্গনের ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
- আয়িশা (রাঃ) একই সঙ্গে তাঁর বেশি আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন।
- নবীজির বিশেষ সক্ষমতাকে নিজের অবস্থার সঙ্গে সরলভাবে তুলনা করা ঠিক নয়।
- রোজা ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে নিরাপদ পথ বেছে নেওয়া উচিত।
