৬/৩২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭২৯ - রোজায় চুমু, আলিঙ্গন ও সংযম
রোযা থাকাবস্থায় স্বামী-স্ত্রীর আলিঙ্গন
রোজায় চুমু ও আলিঙ্গন: মূল শর্ত আত্মসংযম
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭২৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭২৯
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، وَالأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُقَبِّلُ وَيُبَاشِرُ وَهُوَ صَائِمٌ وَكَانَ أَمْلَكَكُمْ لإِرْبِهِ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَأَبُو مَيْسَرَةَ اسْمُهُ عَمْرُو بْنُ شُرَحْبِيلَ . وَمَعْنَى لإِرْبِهِ لِنَفْسِهِ .
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রোজা থাকাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (স্ত্রীকে) চুম্বন দিতেন এবং আলিঙ্গন করতেন। আর তিনি তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি নিয়ন্ত্রণের অধিকারী ছিলেন।
আবূ ঈসা এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন। আবূ মাইসারার নাম আম্র এবং পিতার নাম শুরাহ্বীল। লিইরবিহি অর্থ ‘তাঁর নিজের উপর’।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭২৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) দুটি কাজ একসঙ্গে উল্লেখ করেছেন: রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু দিতেন এবং আলিঙ্গন করতেন। এরপর তিনি বলেন, নিজের আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণে নবী (صلى الله عليه وسلم) অন্যদের চেয়ে বেশি সক্ষম ছিলেন। এই শেষ অংশটিই হাদিস বোঝার গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি। রোজায় চুমু বা আলিঙ্গন নিয়ে শুধু বাহ্যিক কাজ দেখলে ভুল ধারণা হতে পারে। বর্ণনাটি একই সঙ্গে অনুমোদিত আচরণের উদাহরণ এবং ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণের পার্থক্য দেখায়। কারও ক্ষেত্রে এমন সান্নিধ্য রোজাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে সে আশঙ্কা নাও থাকতে পারে—তবে হাদিস সরাসরি সবার অবস্থা এক বলে দেয়নি। তাই রোজার পবিত্রতা রক্ষা, নিজের দুর্বলতা জানা এবং আবেগের সময় সীমা মানা জরুরি। নবীজির আমল অনুসরণের নামে তাঁর ব্যতিক্রমী আত্মসংযমের কথাটি বাদ দেওয়া উচিত নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) রোজা অবস্থায় চুমু ও আলিঙ্গন—দুইটিই করেছেন।
- আয়িশা (রাঃ) তাঁর শক্ত আত্মনিয়ন্ত্রণকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন।
- ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণের পার্থক্য বিবেচনা না করে সবার জন্য এক রকম দাবি করা ঠিক নয়।
- রোজা নিরাপদ রাখতে নিজের দুর্বলতা সম্পর্কে সতর্ক থাকা দরকার।
