৬/৪৫. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৪৮ - রোজা ও পরিবারের হকের ভারসাম্য
বুধবার ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা প্রসঙ্গে
সারা বছর রোজা নয়: পরিবার ও নফল ইবাদতের ভারসাম্য
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৪৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৪৮
حَدَّثَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْحَرِيرِيُّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ مَدُّويَهْ، قَالاَ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، أَخْبَرَنَا هَارُونُ بْنُ سَلْمَانَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ مُسْلِمٍ الْقُرَشِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ سَأَلْتُ أَوْ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ صِيَامِ الدَّهْرِ فَقَالَ " إِنَّ لأَهْلِكَ عَلَيْكَ حَقًّا صُمْ رَمَضَانَ وَالَّذِي يَلِيهِ وَكُلَّ أَرْبِعَاءٍ وَخَمِيسٍ فَإِذًا أَنْتَ قَدْ صُمْتَ الدَّهْرَ وَأَفْطَرْتَ» . وَفِي الْبَابِ عَنْ عَائِشَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ مُسْلِمٍ الْقُرَشِيِّ حَدِيثٌ غَرِيبٌ . وَرَوَى بَعْضُهُمْ عَنْ هَارُونَ بْنِ سَلْمَانَ عَنْ مُسْلِمِ بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أَبِيهِ .
উবাইদুল্লাহ্ ইবনু মুসলিম আল-কুরাশী (রহঃ) হতে তার পিতা হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে পুরো বছর রোজা রাখা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলাম বা তাঁকে প্রশ্ন করা হল। তিনি বলেনঃ তোমার উপর অবশ্যই তোমার পরিবারের অধিকার আছে। অতএব তুমি রামাযান ও এর পরের মাস (শাওয়ালের ছয়টি নফল রোজা) এবং প্রতি বুধ ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখ। এই পদ্ধতি মানলে তুমি যেন পুরো বছরই রোজা রাখলে এবং রোজা ভেঙে ফেলার সুযোগ পেলে।
এ অনুচ্ছেদে আইশা (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা (রহঃ) বলেন, মুসলিম আল-কুরাশীর হাদীসটি গারীব। কেউ কেউ এটিকে হারূন ইবনু সালমান হতে তিনি মুসলিম ইবনু উবাইদুল্লাহ্ হতে তিনি তার পিতা উবাইদুল্লাহ্ (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রোজা এবং পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্যের শিক্ষা আছে। পুরো বছর রোজা রাখার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) প্রথমে স্মরণ করিয়ে দেন, পরিবারেরও মানুষের ওপর অধিকার আছে। এরপর তিনি রমজান, তার পরের মাস এবং প্রতি বুধবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখার কথা বলেন। বর্ণনায় বলা হয়েছে, এভাবে রোজা রাখলে যেন পুরো বছর রোজা রাখা এবং বিরতি নেওয়া—দুই দিকই পাওয়া যায়। মূল বক্তব্য হলো, নফল ইবাদত এমনভাবে করা উচিত নয় যাতে পরিবারের হক উপেক্ষিত হয়। একই সঙ্গে নিয়মিত রোজার একটি বাস্তবসম্মত পদ্ধতিও দেওয়া হয়েছে। এই হাদিস একজন ইবাদতকারীকে শুধু বেশি আমলের দিকে নয়, সঠিক ভারসাম্যের দিকে নিয়ে যায়। পরিবার ও ইবাদত—দুই দিকের অধিকার বুঝে চলাই এখানে সবচেয়ে পরিষ্কার শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- পরিবারের অধিকার নফল ইবাদতের কারণে উপেক্ষা করা উচিত নয়।
- সারা বছর রোজার বদলে বিরতিসহ একটি নিয়মিত পদ্ধতি শেখানো হয়েছে।
- রমজান ও তার পরের মাসের রোজার প্রতি গুরুত্ব এসেছে।
- ইবাদতে আগ্রহের সঙ্গে দায়িত্বের ভারসাম্য রাখা দরকার।
