৬/৫৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৫৯ - শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত
শাওয়াল মাসের ছয় দিন রোজা পালন করা
শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত: পুরো বছরের রোজার সওয়াব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৫৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৫৯
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ، عَنْ أَبِي أَيُّوبَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ فَذَلِكَ صِيَامُ الدَّهْرِ " .وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَثَوْبَانَ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي أَيُّوبَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدِ اسْتَحَبَّ قَوْمٌ صِيَامَ سِتَّةِ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ بِهَذَا الْحَدِيثِ . قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ هُوَ حَسَنٌ هُوَ مِثْلُ صِيَامِ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ مِنْ كُلِّ شَهْرٍ . قَالَ ابْنُ الْمُبَارَكِ وَيُرْوَى فِي بَعْضِ الْحَدِيثِ «وَيُلْحَقُ هَذَا الصِّيَامُ بِرَمَضَانَ» . وَاخْتَارَ ابْنُ الْمُبَارَكِ أَنْ تَكُونَ سِتَّةَ أَيَّامٍ فِي أَوَّلِ الشَّهْرِ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ ابْنِ الْمُبَارَكِ أَنَّهُ قَالَ إِنْ صَامَ سِتَّةَ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ مُتَفَرِّقًا فَهُوَ جَائِزٌ .قَالَ وَقَدْ رَوَى عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ عَنْ صَفْوَانَ بْنِ سُلَيْمٍ وَسَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ عَنْ عُمَرَ بْنِ ثَابِتٍ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ هَذَا . وَرَوَى شُعْبَةُ عَنْ وَرْقَاءَ بْنِ عُمَرَ عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ هَذَا الْحَدِيثَ . وَسَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ هُوَ أَخُو يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الأَنْصَارِيِّ وَقَدْ تَكَلَّمَ بَعْضُ أَهْلِ الْحَدِيثِ فِي سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ . حَدَّثَنَا هَنَّادٌ قَالَ أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ الْجُعْفِيُّ عَنْ إِسْرَائِيلَ أَبِي مُوسَى عَنِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ قَالَ كَانَ إِذَا ذُكِرَ عِنْدَهُ صِيَامُ سِتَّةِ أَيَّامٍ مِنْ شَوَّالٍ فَيَقُولُ وَاللَّهِ لَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ بِصِيَامِ هَذَا الشَّهْرِ عَنِ السَّنَةِ كُلِّهَا .
আবূ আইয়ূব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে লোক রমজান মাসে রোজা পালন করলো, তারপর শাওয়াল মাসের ছয় দিন রোজা পালন করলো, সে লোক যেন সম্পূর্ণ বছরই রোজা পালন করলো।
জাবির, আবূ হুরায়রা ও সাওবান (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আবূ আইয়ূব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম এই হাদীসের ভিত্তিতে শাওয়াল মাসের ছয় দিন রোজা পালন করাকে মুস্তাহাব মনে করেন। ইবনুল মুবারাক বলেন, প্রতি মাসে তিন দিন রোজা পালনের মত এটিও মুস্তাহাব। এ রোজা রমজানের রোজার পরপরই পালনের কথা কোন কোন হাদীসে উল্লেখ আছে। তাই তিনি এই ছয়টি রোজা শাওয়াল মাসের শুরুর দিকে পালন করাকে বেশি পছন্দীয় মনে করেছেন তিনি আরও বলেছেনঃ শাওয়াল মাসের ভিন্ন ভিন্ন দিনের রোজা পালন করাও জায়িয আছে। আবূ ঈসা বলেন, বর্ণনাকারী আবদুল আযীয ইবনু মুহাম্মাদ এই হাদীসটি সাফওয়ান ইবনু সুলাইম ও সা’দ ইবনু সাঈদের সূত্রে উমর ইবনু সাবিত হতে আবূ আইয়ূব (রাঃ)-এর সনদে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। শুবা (রহঃ) এই হাদীস ওয়ার্কা ইবনু উমর হতে সা’দ ইবনু সাঈদ (রহঃ)-এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই সা’দ ইবনু সাঈদ হলেন ইয়াহ্ইয়া ইবনু সাঈদ আল-আনসারীর ভাই। একদল হাদীস বিশেষজ্ঞ তার স্মৃতিশক্তির সমালোচনা করেছেন। হাসান বাসরী হতে বর্ণিত আছে যে, তার নিকট শাওয়ালের ছয়টি রোজার উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ তিনি পূর্ণ বৎসরের পরিবর্তে এই মাসের রোজার প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। সনদ সহীহ্, মাকতু।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত খুব স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখে এবং পরে শাওয়াল মাসে ছয় দিন রোজা রাখে, সে যেন পুরো বছর রোজা রাখল। এখানে ক্রমটি গুরুত্বপূর্ণ: আগে রমজানের রোজা, তারপর শাওয়ালের ছয় দিন। মূল হাদিসে ছয় দিন ধারাবাহিকভাবে রাখতে হবে কি না, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। পরের আলোচনায় ইবনুল মুবারক থেকে মাসের শুরুতে রাখা পছন্দ করার কথা এবং আলাদা আলাদাভাবে রাখাও জায়েজ হওয়ার কথা এসেছে। তবে মূল শিক্ষাটি সহজ: রমজানের পর নফল ইবাদত চালু রাখা এবং শাওয়ালে ছয় দিন রোজা রাখা। এতে রমজানের পরও রোজার অভ্যাস ধরে রাখার সুযোগ তৈরি হয় এবং হাদিসে পুরো বছরের রোজার মতো সওয়াবের কথা বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের রোজার পর শাওয়ালে ছয় দিন রোজা রাখতে বলা হয়েছে।
- এই আমলকে পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য বলা হয়েছে।
- মূল হাদিসে ছয় দিন ধারাবাহিক হওয়া শর্ত হিসেবে বলা হয়নি।
- রমজানের পরও নফল ইবাদতের ধারাবাহিকতা রাখা যায়।
