৬/৫২. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৫৮ - যিলহজ্জের রোজা ও রাতের ইবাদত
যুলহিজ্জা মাসের দশ দিনের সৎকাজের ফজিলত
যিলহজ্জের দশ দিনের রোজা: প্রতিদিনের ইবাদতের বড় ফজিলত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৫৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৫৮
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مَسْعُودُ بْنُ وَاصِلٍ، عَنْ نَهَّاسِ بْنِ قَهْمٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «مَا مِنْ أَيَّامٍ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ أَنْ يُتَعَبَّدَ لَهُ فِيهَا مِنْ عَشْرِ ذِي الْحِجَّةِ يَعْدِلُ صِيَامُ كُلِّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ وَقِيَامُ كُلِّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ إِلاَّ مِنْ حَدِيثِ مَسْعُودِ بْنِ وَاصِلٍ عَنِ النَّهَّاسِ . قَالَ وَسَأَلْتُ مُحَمَّدًا عَنْ هَذَا الْحَدِيثِ فَلَمْ يَعْرِفْهُ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ مِثْلَ هَذَا . وَقَالَ قَدْ رُوِيَ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ مُرْسَلاً شَيْءٌ مِنْ هَذَا . وَقَدْ تَكَلَّمَ يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ فِي نَهَّاسِ بْنِ قَهْمٍ مِنْ قِبَلِ حِفْظِهِ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ এমন কোন দিন নেই যে দিনগুলোর (নফল) ইবাদত আল্লাহ্ তা‘আলার নিকট যিলহাজ্জ মাসের দশ দিনের ইবাদত হতে বেশি প্রিয়। এই দশ দিনের প্রতিটি রোজা এক বছরের রোজার সমকক্ষ এবং এর প্রতিটি রাতের ইবাদত কদরের রাতের ইবাদতের সমকক্ষ।
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি গারীব। শুধু উল্লিখিত সূত্রেই আমরা হাদীসটি জেনেছি। আমি মুহাম্মাদ আল-বুখারীকে এই হাদীস প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনিও এই সূত্র ব্যতীত অনুরূপ কিছু বলতে পারেননি। তিনি বলেন, কাতাদা হতে সাঈদ ইব্নুল মুসায়্যিব (রহঃ)-এর সূত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে উল্লিখিত হাদীসের কিছু অংশ মুরসাল হিসেবে বর্ণিত আছে। ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ (রহঃ) নাহ্হাস ইবনু কাহ্ম-এর স্মরণশক্তির সমালোচনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যিলহজ্জের দশ দিনের নফল ইবাদতের বিশেষ মর্যাদা বলা হয়েছে। বর্ণনায় এসেছে, এই দিনগুলোতে আল্লাহর ইবাদত করা অন্য সময়ের তুলনায় বেশি প্রিয়। প্রতিটি দিনের রোজাকে এক বছরের রোজার সমকক্ষ এবং প্রতিটি রাতের ইবাদতকে কদরের রাতের ইবাদতের সমকক্ষ বলা হয়েছে। তবে হাদিসের শেষ অংশে বর্ণনাটিকে ‘গরিব’ বলা হয়েছে এবং একজন বর্ণনাকারীর স্মরণশক্তি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। তাই বিষয়টি তুলে ধরার সময় হাদিসের এই মানসংক্রান্ত তথ্যও গোপন করা উচিত নয়। সরাসরি পাঠের শিক্ষা হলো, যিলহজ্জের প্রথম দশ দিনে রোজা ও রাতের ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো। একই সঙ্গে সহিহ বর্ণনায় এই দশ দিনের সাধারণ সৎকাজের মর্যাদাও এসেছে। তাই আমলের উৎসাহ থাকবে, তবে বর্ণনার মান সম্পর্কে সতর্ক ও সৎ ভাষা রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যিলহজ্জের দশ দিনে নফল ইবাদতের বড় মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে।
- প্রতিদিনের রোজা ও প্রতিরাতের ইবাদতের বিশেষ তুলনা এসেছে।
- বর্ণনাটি গরিব হিসেবে উল্লেখিত এবং সনদ নিয়ে আলোচনা আছে।
- ফজিলত বলার সময় হাদিসের মানসংক্রান্ত তথ্যও উল্লেখ করা উচিত।
