৬/৪৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৪৯ - আরাফার রোজা ও দুই বছরের কাফফারা
আরাফার দিন রোযা পালনের ফজিলত
আরাফার রোজার ফজিলত: দুই বছরের গুনাহ কাফফারার আশা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৪৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৪৯
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ الزِّمَّانِيِّ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِي بَعْدَهُ» . قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي سَعِيدٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي قَتَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدِ اسْتَحَبَّ أَهْلُ الْعِلْمِ صِيَامَ يَوْمِ عَرَفَةَ إِلاَّ بِعَرَفَةَ .
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ আমি আল্লাহ্ তা’আলার নিকট আরাফাতের দিনের রোজা সম্পর্কে আশা করি যে, তিনি এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী এক বছর এবং পরবর্তী এক বছরের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দিবেন।
আবূ সাঈদ (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা (রহঃ) আবূ কাতাদা (রাঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। আরাফাতে অবস্থানরত ব্যক্তিদের ছাড়া অন্যদের জন্য এই দিনে রোজা পালন করাকে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ মুস্তাহাব বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৪৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় আরাফার দিনের রোজা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তিনি আল্লাহর কাছে আশা করেন যে এই রোজার মাধ্যমে আগের এক বছর এবং পরের এক বছরের গুনাহ কাফফারা করা হবে। এখানে ভাষাটি লক্ষ্য করার মতো—তিনি ‘আশা করি’ বলেছেন। তাই আরাফার রোজার ফজিলত আলোচনা করতে গিয়ে নিশ্চিত ও সীমাহীন ক্ষমার দাবি না করে হাদিসের এই ভারসাম্যপূর্ণ ভাষাই রাখা উচিত। হাদিসটি আরাফার দিনের নফল রোজার বড় মর্যাদা তুলে ধরে এবং একজন মুসলিমকে আল্লাহর ক্ষমা কামনা করে রোজা রাখতে উৎসাহ দেয়। তবে এই বর্ণনায় হজে আরাফার ময়দানে অবস্থানরত ব্যক্তির অবস্থা বলা হয়নি। সে বিষয়ে পরের সংশ্লিষ্ট বর্ণনাগুলো আলাদা তথ্য দেয়। এই হাদিসের কেন্দ্র হলো আরাফার রোজা এবং দুই বছরের গুনাহ কাফফারার আশা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আরাফার রোজায় আগের এক বছরের গুনাহ কাফফারার আশা করা যায়।
- পরের এক বছরের গুনাহ কাফফারার আশাও হাদিসে এসেছে।
- ফজিলত বর্ণনায় ‘আশা করি’—এই নববী ভাষা বজায় রাখা উচিত।
- আল্লাহর ক্ষমা কামনা করে আরাফার রোজা রাখা যায়।
