৭/২৩. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৪০ - ইহরাম অবস্থায় বিয়ে

ইহরামধারী লোকের বিয়ে করানো মাকরুহ

ইহরাম অবস্থায় বিয়ে ও বিয়ে করানোর নিষেধ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৮৪০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ ابْنُ عُلَيَّةَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ نُبَيْهِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَرَادَ ابْنُ مَعْمَرٍ أَنْ يُنْكِحَ، ابْنَهُ فَبَعَثَنِي إِلَى أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ وَهُوَ أَمِيرُ الْمَوْسِمِ بِمَكَّةَ فَأَتَيْتُهُ فَقُلْتُ إِنَّ أَخَاكَ يُرِيدُ أَنْ يُنْكِحَ ابْنَهُ فَأَحَبَّ أَنْ يُشْهِدَكَ ذَلِكَ . قَالَ لاَ أُرَاهُ إِلاَّ أَعْرَابِيًّا جَافِيًا إِنَّ الْمُحْرِمَ لاَ يَنْكِحُ وَلاَ يُنْكِحُ . أَوْ كَمَا قَالَ ثُمَّ حَدَّثَ عَنْ عُثْمَانَ مِثْلَهُ يَرْفَعُهُ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي رَافِعٍ وَمَيْمُونَةَ .قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ عُثْمَانَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ بَعْضِ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ مِنْهُمْ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ وَعَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ وَابْنُ عُمَرَ وَهُوَ قَوْلُ بَعْضِ فُقَهَاءِ التَّابِعِينَ وَبِهِ يَقُولُ مَالِكٌ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ لاَ يَرَوْنَ أَنْ يَتَزَوَّجَ الْمُحْرِمُ قَالُوا فَإِنْ نَكَحَ فَنِكَاحُهُ بَاطِلٌ .

নুবাইহ্ ইবনু ওয়াহাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইবনু মামার তার (ইহরামধারী) ছেলেকে বিয়ে করাতে মনস্থ করলেন। তাই তিনি আমাকে আমীরুল হজ্জ আবান ইবনু উসমানের নিকট পাঠালেন। তাঁর নিকট এসে আমি বললাম, আপনার ভাই তাঁর ছেলেকে বিয়ে করাতে চান। এই বিষয়ে তিনি আপনাকে সাক্ষী রাখতে চান। তিনি বললেন, আমি দেখছি সে তো এক মূর্খ বেদুঈন! ইহরামধারী ব্যক্তি না নিজে বিয়ে করতে পারে আর না অন্যকে বিয়ে করাতে পারে, অথবা এরকমই বলেছেন। নুবাইহ বলেন, এরপর তিনি হাদীসটিকে উসমান (রাঃ)-এর মারফতে মারফূভাবে বর্ণনা করেছেন।

আবূ রাফি ও মাইমূনা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা উসমান (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এই হাদীস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর একদল সাহাবী আমল করার কথা ব্যক্ত করেছেন। উমর ইবনুল খাত্তাব, আলী ইবনু আবূ তালিব ও ইবনু উমর (রাঃ) তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। কিছুসংখ্যক তাবিঈ ফিকহবিদের বক্তব্যও তাই। ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর মতও তাই অর্থাৎ ইহরাম পরিহিত অবস্থায় কোন লোক বিয়ে করতে পারে না। তারা বলেন, ইহরাম অবস্থায় কোন লোক বিয়ে করলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে। - সহীহ, ইবনু মা-জাহ (১৯৬৬), মুসলিম।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৮৪০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় ইহরাম অবস্থায় বিয়ে। ইবন মা’মার তাঁর ছেলেকে বিয়ে করাতে চাইলে নুবাইহকে হজ্জের আমির আবান ইবন উসমানের কাছে সাক্ষী করার জন্য পাঠান। আবান বিষয়টি শুনে বলেন, ইহরামধারী ব্যক্তি নিজে বিয়ে করতে পারে না এবং অন্য কাউকেও বিয়ে করাতে পারে না। এরপর তিনি একই বক্তব্য উসমান (রাঃ)-এর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পর্যন্ত বর্ণনা করেন। অনুবাদের পরের অংশে বলা হয়েছে, কয়েকজন সাহাবি ও আলেম এ মত গ্রহণ করেছেন এবং ইহরাম অবস্থায় করা বিয়েকে বৈধ মনে করেননি। হাদিসটি দেখায়, হজ্জ বা উমরার ইহরাম শুধু পোশাকের পরিবর্তন নয়; কিছু সামাজিক চুক্তিও এ সময়ে স্থগিত থাকে। তাই বিয়ের তারিখ ঠিক করার আগে বর, কনে বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি ইহরামে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া দরকার।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইহরামধারী ব্যক্তি নিজে বিয়ে করবে না।
  • ইহরামধারী অন্যের বিয়েও সম্পন্ন করাবে না।
  • বিয়ের আয়োজনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ইহরামের অবস্থা যাচাই করা দরকার।
  • বর্ণনাটি উসমান (রাঃ)-এর মাধ্যমে নবী صلى الله عليه وسلم পর্যন্ত পৌঁছেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন