৭/১০০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৪৫ - হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় হজের আমল
হজ্জের কোন কোন অনুষ্ঠান ঋতুবতী মহিলা পালন করবে?
হায়েজ ও নিফাসে হজ: তাওয়াফ ছাড়া বাকি আমল
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৯৪৫
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৯৪৫
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ جَابِرٍ، وَهُوَ ابْنُ يَزِيدَ الْجُعْفِيُّ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ حِضْتُ فَأَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ أَقْضِيَ الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا إِلاَّ الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ . قَالَ أَبُو عِيسَى الْعَمَلُ عَلَى هَذَا الْحَدِيثِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ أَنَّ الْحَائِضَ تَقْضِي الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا مَا خَلاَ الطَّوَافَ بِالْبَيْتِ . وَقَدْ رُوِيَ هَذَا الْحَدِيثُ عَنْ عَائِشَةَ مِنْ غَيْرِ هَذَا الْوَجْهِ أَيْضًا .حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ شُجَاعٍ الْجَزَرِيُّ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، وَمُجَاهِدٍ، وَعَطَاءٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَفَعَ الْحَدِيثَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ " أَنَّ النُّفَسَاءَ وَالْحَائِضَ تَغْتَسِلُ وَتُحْرِمُ وَتَقْضِي الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا غَيْرَ أَنْ لاَ تَطُوفَ بِالْبَيْتِ حَتَّى تَطْهُرَ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ .
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হায়েযগ্রস্তা হয়ে পড়লে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের বাকী সব অনুষ্ঠান পালন করার জন্য আমাকে নির্দেশ দিলেন। -সহীহ, ইবনু মা-জাহ (২৯৬৩), বুখারী, মুসলিম। ৯৪৫/২. ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এই হাদীস মারফূরূপে বর্ণনা করেছেন। হায়েযগ্রস্তা ও নিফাসগ্রস্তা মহিলারা গোসল করে ইহরাম বাধবে এবং হজ্জের সকল অনুষ্ঠান পালন করবে, কিন্তু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বাইতুল্লাহ্ তাওয়াফ করবে না।
আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করেছেন। তাদের মতে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজ্জের বাকী সকল অনুষ্ঠান ঋতুবতী মহিলা পালন করবে। এই হাদীসটি আইশা (রাঃ) হতে আরও কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত আছে। -সহীহ, সহীহ আবূ দাউদ (১৫৩১, ১৮১৮)।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৯৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হায়েজ ও নিফাস অবস্থায় হজের করণীয় খুব পরিষ্কারভাবে এসেছে। আয়েশা (রা.) হায়েজগ্রস্ত হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ছাড়া হজের বাকি সব অনুষ্ঠান পালন করতে বলেন। একই বর্ণনায় ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে এসেছে, হায়েজগ্রস্ত ও নিফাসগ্রস্ত নারী গোসল করবে, ইহরাম বাঁধবে এবং হজের সব আমল করবে; শুধু পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত কাবা ঘরের তাওয়াফ করবে না। এতে বোঝা যায়, মাসিক বা প্রসব-পরবর্তী রক্তস্রাব শুরু হলেই হজের পুরো সফর থেমে যায় না। নির্দিষ্ট একটি আমল, অর্থাৎ তাওয়াফ, পবিত্রতা আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে করতে হবে। অন্য আমলগুলো যথারীতি করা যায়। হায়েজ অবস্থায় হজের নিয়ম খুঁজছেন এমন নারীদের জন্য হাদিসটি সংক্ষিপ্ত ও সরাসরি দিকনির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হায়েজ ও নিফাস অবস্থায়ও নারী গোসল করে ইহরাম বাঁধতে পারেন।
- এই অবস্থায় তাওয়াফ ছাড়া হজের অন্যান্য অনুষ্ঠান পালন করা যায়।
- পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত বাইতুল্লাহর তাওয়াফ অপেক্ষা করে করতে হবে।
