১২/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ১৭৩ - পরিচ্ছন্ন দ্বীন ও নবীর অনুসরণ
বিদ‘আত
পরিচ্ছন্ন দ্বীন: রাসূলের অনুসরণই মুসলিমের নিরাপদ পথ
ঊপদেশ : ১৭৩
ঊপদেশহাদিস নম্বর ১৭৩
عَنْ جَابِرٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ حِينَ أَتَاهُ عُمَرُ فَقَالَ إِنَّا نَسْمَعُ أَحَادِيثَ مِنْ يَهُودَ تُعْجِبُنَا أَفْتَرَى أَنْ نَكْتُبَ بَعْضَهَا؟ فَقَال أَمُتَهَوِّكُوْنَ أَنْتُمْ كَمَا تَهَوَّكَتِ الْيَهُوْدُ وَالنَّصَارَى؟ لَقَدْ جِئْتُكُمْ بِهَا بَيْضَاءَ نَقِيَّةً وَلَوْ كَانَ مُوْسَى حَيًّا مَا وَسِعَهُ إِلاَّ إِتِّبَاعِيْ.
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জাবের (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন যে, একদিন যখন ওমর (রাঃ) তাঁর কাছে এসে বললেন, আমরা ইহুদীদের নিকটে তাদের অনেক পুরানো ধর্মীয় কাহিনীগুলি, যা আমাদের নিকটে চমৎকার বোধ হয়, তার কিছু কিছু লিখে রাখার জন্য আপনি আমাদের অনুমতি দিবেন কি? তখন জবাবে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, ‘তোমরা কি দিকভ্রান্ত হয়েছ, যেমন ইহুদী-নাছারারা দিকভ্রান্ত হয়েছে? অথচ আমি তোমাদের কাছে এসেছি উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন দ্বীন নিয়ে। যদি আজকে মূসাও বেঁচে থাকতেন, তাহলে তাঁর পক্ষেও আমার অনুসরণ ব্যতীত গত্যন্তর থাকত না’ (আহমাদ, বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান, মিশকাত হা/১৭৭)।
ঊপদেশ হাদিস ১৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওমর (রাঃ) ইহুদীদের কিছু পুরনো ধর্মীয় কাহিনী লিখে রাখার অনুমতি চাইলে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, তোমরা কি দিকভ্রান্ত হয়েছ, যেমন ইহুদী-নাছারারা দিকভ্রান্ত হয়েছে? এরপর তিনি জানান, তিনি উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন দ্বীন নিয়ে এসেছেন। এমনকি মূসা (আলাইহিস সালাম) যদি তখন জীবিত থাকতেন, তাঁর পক্ষেও মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ ছাড়া পথ থাকত না। এখানে শিক্ষা হলো, মুসলিমের জন্য রাসূলের আনা দ্বীন পূর্ণ ও পরিষ্কার। তাই দ্বীনের দিশা নেওয়ার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অন্য ধর্মীয় কাহিনীর প্রতি আকর্ষণ রাখা ঠিক নয়। মুসলিমের মূল ভরসা কুরআন ও সুন্নাহ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহর আনা দ্বীন উজ্জ্বল ও পরিচ্ছন্ন।
- দ্বীনের দিশা নিতে কুরআন ও সুন্নাহ যথেষ্ট পথনির্দেশ।
- আগের জাতির দিকভ্রান্ত পথ অনুসরণ থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
- মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর অনুসরণ সব মুসলিমের জন্য মূল পথ।
