১৩/৪৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৩০৬ - গর্ভবতী বিধবার ইদ্দত
গর্ভবতীর ইদ্দত
গর্ভবতী বিধবার ইদ্দত কখন শেষ হয়
সুনানে আবূ দাউদ : ২৩০৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৩০৬
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ الْمَهْرِيُّ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، حَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ أَبَاهُ، كَتَبَ إِلَى عُمَرَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الأَرْقَمِ الزُّهْرِيِّ يَأْمُرُهُ أَنْ يَدْخُلَ، عَلَى سُبَيْعَةَ بِنْتِ الْحَارِثِ الأَسْلَمِيَّةِ فَيَسْأَلَهَا عَنْ حَدِيثِهَا وَعَمَّا قَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حِينَ اسْتَفْتَتْهُ فَكَتَبَ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ يُخْبِرُهُ أَنَّ سُبَيْعَةَ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا كَانَتْ تَحْتَ سَعْدِ ابْنِ خَوْلَةَ - وَهُوَ مِنْ بَنِي عَامِرِ بْنِ لُؤَىٍّ وَهُوَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا - فَتُوُفِّيَ عَنْهَا فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَهِيَ حَامِلٌ فَلَمْ تَنْشَبْ أَنْ وَضَعَتْ حَمْلَهَا بَعْدَ وَفَاتِهِ فَلَمَّا تَعَلَّتْ مِنْ نِفَاسِهَا تَجَمَّلَتْ لِلْخُطَّابِ فَدَخَلَ عَلَيْهَا أَبُو السَّنَابِلِ بْنُ بَعْكَكٍ - رَجُلٌ مِنْ بَنِي عَبْدِ الدَّارِ - فَقَالَ لَهَا مَا لِي أَرَاكِ مُتَجَمِّلَةً لَعَلَّكِ تَرْتَجِينَ النِّكَاحَ إِنَّكِ وَاللَّهِ مَا أَنْتِ بِنَاكِحٍ حَتَّى تَمُرَّ عَلَيْكِ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ .قَالَتْ سُبَيْعَةُ فَلَمَّا قَالَ لِي ذَلِكَ جَمَعْتُ عَلَىَّ ثِيَابِي حِينَ أَمْسَيْتُ فَأَتَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ فَأَفْتَانِي بِأَنِّي قَدْ حَلَلْتُ حِينَ وَضَعْتُ حَمْلِي وَأَمَرَنِي بِالتَّزْوِيجِ إِنْ بَدَا لِي . قَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَلاَ أَرَى بَأْسًا أَنْ تَتَزَوَّجَ حِينَ وَضَعَتْ وَإِنْ كَانَتْ فِي دَمِهَا غَيْرَ أَنَّهُ لاَ يَقْرَبُهَا زَوْجُهَا حَتَّى تَطْهُرَ .
‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁর পিতা ‘উমার ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আরক্বাম আয-যুহরীকে এ মর্মে নির্দেশ প্রদান করেন যে, তিনি যেন আল হারীস আল-আসলামীর মেয়ে সুবাইয়ার নিকট গিয়ে তাঁকে তাঁর হাদীসের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেন, এবং তিনি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) নিকট ফাতাওয়াহ জানতে চাইলে তিনি তাঁকে কি উত্তর দিয়েছিলেন তাও যেন জিজ্ঞেস করেন।‘উমার ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উতবাহকে জানালেন, সুবাইয়া (রাঃ) তাঁকে জানিয়েছেন যে, তিনি সা’দ ইবনু খাওলাহ্ (রাঃ) এর বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন। আর তিনি ছিলেন আমির ইবনু লুয়াঈ গোত্রের লোক এবং অন্যতম বদরী সাহাবী। তিনি গর্ভবতী অবস্থায় তাঁর স্বামী বিদায় হাজ্জ্বের সময় মারা যান। তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন পরে তাঁর সন্তান প্রসব হয়। তিনি নিফাসমুক্ত হওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাবের আশার সাজসজ্জা করেন। তখন ‘আবদুদ-দার গোত্রীয় আবুস সানাবিল ইবনু বা’কাক তাঁর নিকট এসে বললো, আমি যে তোমাকে সুসজ্জিত দেখছি, তুমি কি বিয়ের ইচ্ছা করো? আল্লাহর শপথ! চার মাস দশ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তুমি কোথাও বিয়ে করতে পারবে না।সুবাইয়া (রাঃ) বলেন, তিনি আমাকে একথা বললে আমি আমার পোশাক গুটিয়ে সন্ধ্যার সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট গমন করে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করি। তিনি আমাকে বললেন, ‘আমি তখনই হালাল হয়েছি যখন আমি সন্তান জন্ম দিয়েছি। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন, আমি ইচ্ছা করলে বিয়ে বসতে পারি। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, সন্তান প্রসবের পর তাঁর বিয়ে বসাতে আমি কোন দোষ দেখি না, যদিও তাঁর নিফাসের রক্ত চালু রয়েছে। তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত তাঁর স্বামী তাঁর সাথে সহবাস করবে না।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৩০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে গর্ভবতী বিধবার ইদ্দত নিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা এসেছে। সুবাইআ বিনতুল হারিস (রাঃ)-এর স্বামী সা’দ ইবন খাওলাহ (রাঃ) বিদায় হজ্জের সময় মারা যান, তখন তিনি গর্ভবতী ছিলেন। স্বামীর মৃত্যুর কিছুদিন পর তিনি সন্তান প্রসব করেন। নিফাস থেকে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি বিয়ের প্রস্তাবের আশায় সাজসজ্জা করেন। তখন আবু সানাবিল তাকে বলেন, চার মাস দশ দিন না গেলে তার বিয়ে বৈধ নয়। সুবাইআ (রাঃ) সরাসরি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করেন। তিনি জানান, সন্তান জন্ম দেওয়ার সাথে সাথেই তিনি হালাল হয়েছেন এবং ইচ্ছা করলে বিয়ে করতে পারেন। এখানে গর্ভবতী বিধবার ইদ্দত, সন্তান প্রসব ও বিয়ের অনুমতির বিষয়টি পরিষ্কার হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গর্ভবতী নারীর স্বামী মারা গেলে সন্তান প্রসবের পর তার ইদ্দত শেষ হয়।
- ধর্মীয় বিষয়ে সন্দেহ হলে যোগ্য ব্যক্তির কাছে সরাসরি জিজ্ঞেস করা উচিত।
- কারও কথায় বিভ্রান্ত হলে সুন্নাহর নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে।
- নিফাস চললেও বিয়ের আকদ হতে পারে—তবে পবিত্র না হওয়া পর্যন্ত সহবাস নয়, এ কথা ইবনু শিহাব বলেছেন।
