১৫/৮১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬০২ - বাহনে ওঠার দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা
বাহনে চড়ার সময় যে দোয়া পড়তে হয়
বাহনে ওঠার দোয়া ও আল্লাহর কাছে ক্ষমা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৬০২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৬০২
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيُّ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ رَبِيعَةَ، قَالَ شَهِدْتُ عَلِيًّا - رضى الله عنه - وَأُتِيَ بِدَابَّةٍ لِيَرْكَبَهَا فَلَمَّا وَضَعَ رِجْلَهُ فِي الرِّكَابِ قَالَ بِسْمِ اللَّهِ فَلَمَّا اسْتَوَى عَلَى ظَهْرِهَا قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ ثُمَّ قَالَ ﴾ سُبْحَانَ الَّذِي سَخَّرَ لَنَا هَذَا وَمَا كُنَّا لَهُ مُقْرِنِينَ * وَإِنَّا إِلَى رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُونَ ﴿ ثُمَّ قَالَ الْحَمْدُ لِلَّهِ . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ . ثُمَّ قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ . ثَلاَثَ مَرَّاتٍ ثُمَّ قَالَ سُبْحَانَكَ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلاَّ أَنْتَ . ثُمَّ ضَحِكَفَقِيلَ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ مِنْ أَىِّ شَىْءٍ ضَحِكْتَ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ فَعَلَ كَمَا فَعَلْتُ ثُمَّ ضَحِكَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِنْ أَىِّ شَىْءٍ ضَحِكْتَ قَالَ " إِنَّ رَبَّكَ يَعْجَبُ مِنْ عَبْدِهِ إِذَا قَالَ اغْفِرْ لِي ذُنُوبِي يَعْلَمُ أَنَّهُ لاَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ غَيْرِي " .
‘আলী ইবনু রবী’আহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি দেখলাম, ‘আলী (রাঃ) এর কাছে আরোহণের একটি পশু আনা হলে তিনি এর পা-দানিতে পা রাখতেই বললেন, ‘বিসমিল্লাহ’ এবং এর পিঠে চড়ে সোজা হয়ে বসে বললেন, আল-হামদুলিল্লাহ”।অতঃপর তিনি এ আয়াত পড়লেনঃ “মহান পবিত্র তিনি, যিনি একে আমাদের অনুগত বানিয়েছেন, তা না হলে একে বশ করতে আমরা সক্ষম ছিলাম না। নিশ্চয়ই আমাদেরকে আমাদের রব্বের নিকট ফিরে যেতে হবে” (সূরা আয-যুখরুফ : আয়াত ১৩-১৪)।পুনরায় তিনি তিনবার ‘আল-হামদুলিল্লাহ’ এবং তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন। অতঃপর বললেন, “(হে আল্লাহ!) আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, আমিই আমার উপর যুলুম করেছি, আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আপনি ছাড়া কেউই গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না”। অতঃপর তিনি হেসে দিলেন।তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, হে আমীরুল মু’মিনীন! আপনি কেন হাসলেন? তিনি বললেন, আমি যেরূপ করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কেও এরূপ করতে দেখেছি। তিনি যখন হেসেছিলেন তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি হাসলেন কেন? তিনি বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক তাঁর বান্দার উপর সন্তুষ্ট হন যখন সে বলে: “(হে আমার রব্ব!) আপনি আমার গুনাহ ক্ষমা করুন”। আর বান্দা তো জানে যে, আমি (আল্লাহ) ছাড়া কেউই গুনাহ ক্ষমা করতে পারে না।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বাহনে ওঠার দোয়া ও আদব খুব সুন্দরভাবে এসেছে। আলী (রাঃ) বাহনের পাদানিতে পা রাখার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলেন। বাহনে বসে ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলেন এবং সূরা যুখরুফের আয়াত পড়েন, যেখানে আল্লাহর পবিত্রতা ও তাঁর দান স্বীকার করা হয়েছে। এরপর তিনি তিনবার ‘আলহামদুলিল্লাহ’, তিনবার ‘আল্লাহু আকবার’ বলেন এবং নিজের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। এই হাদিসের মূল কথা হলো, সফর বা বাহন ব্যবহার শুধু চলাচলের বিষয় নয়; এতে আল্লাহর অনুগ্রহ স্বীকার, কৃতজ্ঞতা, তাকবীর এবং ইস্তিগফার থাকা উচিত। বান্দা যখন জানে যে আল্লাহ ছাড়া কেউ গুনাহ ক্ষমা করেন না, তখন তার এই স্বীকারোক্তি আল্লাহর কাছে প্রিয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাহনে ওঠার সময় আল্লাহর নাম নেওয়া এবং তাঁর প্রশংসা করা নবী صلى الله عليه وسلم-এর আমল।
- সফরের শুরুতে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
- বান্দা যখন জানে আল্লাহ ছাড়া গুনাহ ক্ষমাকারী কেউ নেই, এটি তার ঈমানের পরিচয়।
- বাহনের নিয়ন্ত্রণ আল্লাহর দান—এ কথা মনে রেখে কৃতজ্ঞ থাকা দরকার।
