২৪/৫৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৫৬২ - ধার নেওয়ায় ক্ষতিপূরণের শর্ত
ধারকৃত বস্তু নষ্ট হলে তার ক্ষতিপূরণ দেয়া
ধার নেওয়ার সময় ক্ষতিপূরণের শর্ত
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৫৬২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৫৬২
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ مُحَمَّدٍ، وَسَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ، حَدَّثَنَا شَرِيكٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ، عَنْ أُمَيَّةَ بْنِ صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ اسْتَعَارَ مِنْهُ أَدْرَاعًا يَوْمَ حُنَيْنٍ فَقَالَ أَغَصْبٌ يَا مُحَمَّدُ فَقَالَ «لاَ بَلْ عَارِيَةٌ مَضْمُونَةٌ» . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَهَذِهِ رِوَايَةُ يَزِيدَ بِبَغْدَادَ وَفِي رِوَايَتِهِ بِوَاسِطَ تَغَيُّرٌ عَلَى غَيْرِ هَذَا .
সাফওয়ান ইব্ন উমাইয়া (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুনাইনের যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ) তার লৌহবর্মসমূহ ধার হিসেবে গ্রহণ করলে সাফওয়ান বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! আপনি জোরপূর্বক নিলেন? তিনি বললেনঃ না, বরং ধার হিসেবে, এর কোন ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৫৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুনাইনের যুদ্ধের দিনের একটি ঘটনা এসেছে। নবী صلى الله عليه وسلم সাফওয়ান থেকে লৌহবর্ম ধার নেন। তখন সাফওয়ান জানতে চান, এটি কি জোর করে নেওয়া হচ্ছে? নবী صلى الله عليه وسلم পরিষ্কার করে বলেন, না; বরং এটি ধার, এবং এতে ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, কারো সম্পদ নেওয়ার আগে তার সম্মতি ও শর্ত পরিষ্কার করা উচিত। ধার ও জোরপূর্বক নেওয়ার মধ্যে বড় পার্থক্য আছে। ধারকৃত জিনিস ব্যবহার করা যায়, কিন্তু মালিকের হক অক্ষুণ্ণ রাখতে হয়। এই হাদিসে ধারকৃত বস্তু, আমানত, ক্ষতিপূরণ এবং মানুষের সম্পদের সম্মান—এসব বিষয় একসাথে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারো সম্পদ নেওয়ার আগে ধার নাকি জোর—বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার।
- ধারকৃত জিনিস ক্ষতিগ্রস্ত হলে শর্ত অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের কথা আসতে পারে।
- মালিকের সম্মতি ছাড়া অন্যের সম্পদ নেওয়া ঠিক নয়।
- চুক্তি ও কথাবার্তায় স্পষ্টতা রাখা ইসলামী আদবের অংশ।
