৩/৩৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৫ - মুসলিমের জান-মাল ও সম্মানের মর্যাদা
উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট ইলম পৌঁছে দেয়
قَالَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ.ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে তা বর্ণনা করেন।
মুসলিমের জান-মাল ও সম্মান: মানব মর্যাদার সহিহ হাদিস
সহীহ বুখারী : ১০৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০৫
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي بَكْرَةَ، عَنْ أَبِي بَكْرَةَ، ذُكِرَ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ «فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ ـ قَالَ مُحَمَّدٌ وَأَحْسِبُهُ قَالَ وَأَعْرَاضَكُمْ ـ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، أَلاَ لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ مِنْكُمُ الْغَائِبَ». وَكَانَ مُحَمَّدٌ يَقُولُ صَدَقَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ كَانَ ذَلِكَ «أَلاَ هَلْ بَلَّغْتُ» مَرَّتَيْنِ
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)–এর কথা উল্লেখ করে বলেন যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের জান তোমাদের মাল; বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেন, ‘আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেনঃ এবং তোমাদের মান-সম্মান (অন্য মুসলমানদের জন্য) এ শহরে এ দিনের মতই মর্যাদা সম্পন্ন। শোন, (আমার এ বাণী যেন) তোমাদের মধ্যে উপস্থিত ব্যক্তি অনুপস্থিত ব্যক্তির নিকট পৌঁছে দেয়। বর্ণনাকারী মুহাম্মাদ (রহঃ) বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সত্য বলেছেন, তা-ই হয়েছে। তারপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দু’ দু’বার করে বললেন, হে লোক সকল! ‘আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?’
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) মানুষের জান, মাল এবং বর্ণনাকারীর ধারণা অনুযায়ী মান-সম্মানের মর্যাদা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেছেন, এগুলো পরস্পরের জন্য হারাম, যেমন সেই শহর, সেই দিন এবং সেই মাস সম্মানিত। অর্থাৎ অন্যের জীবন, সম্পদ ও সম্মানে আঘাত করা হালকা ব্যাপার নয়। হাদিসে আরও এসেছে, উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে এ বাণী পৌঁছে দেয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) দুইবার জিজ্ঞেস করলেন, তিনি কি পৌঁছে দিয়েছেন? এতে বোঝা যায়, এই বার্তাটি খুব গুরুত্বের সঙ্গে বলা হয়েছে। এই হাদিস মুসলিম সমাজে নিরাপত্তা, সম্মান এবং দায়িত্বশীলভাবে কথা পৌঁছানোর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিমের জান, মাল ও সম্মান রক্ষা করা বড় দায়িত্ব।
- অন্যের অধিকার নষ্ট করা পবিত্র সীমা ভাঙার মতো গুরুতর বিষয়।
- দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ বাণী সঠিকভাবে অন্যদের কাছে পৌঁছানো উচিত।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের দায়িত্ব পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি উম্মতের সামনে স্পষ্ট করেছেন।
