৪/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৮ - রাতের সালাত ও হালকা ওজু
হালকাভাবে উযু করা।
রাতের সালাত, হালকা ওজু ও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৩৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩৮
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، قَالَ أَخْبَرَنِي كُرَيْبٌ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَامَ حَتَّى نَفَخَ ثُمَّ صَلَّى ـ وَرُبَّمَا قَالَ اضْطَجَعَ حَتَّى نَفَخَ ـ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى.ثُمَّ حَدَّثَنَا بِهِ سُفْيَانُ مَرَّةً بَعْدَ مَرَّةٍ عَنْ عَمْرٍو عَنْ كُرَيْبٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بِتُّ عِنْدَ خَالَتِي مَيْمُونَةَ لَيْلَةً، فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ مِنَ اللَّيْلِ، فَلَمَّا كَانَ فِي بَعْضِ اللَّيْلِ قَامَ النَّبِيُّ ﷺ فَتَوَضَّأَ مِنْ شَنٍّ مُعَلَّقٍ وُضُوءًا خَفِيفًا ـ يُخَفِّفُهُ عَمْرٌو وَيُقَلِّلُهُ ـ وَقَامَ يُصَلِّي فَتَوَضَّأْتُ نَحْوًا مِمَّا تَوَضَّأَ، ثُمَّ جِئْتُ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ ـ وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ عَنْ شِمَالِهِ ـ فَحَوَّلَنِي فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ، ثُمَّ صَلَّى مَا شَاءَ اللَّهُ، ثُمَّ اضْطَجَعَ، فَنَامَ حَتَّى نَفَخَ، ثُمَّ أَتَاهُ الْمُنَادِي فَآذَنَهُ بِالصَّلاَةِ، فَقَامَ مَعَهُ إِلَى الصَّلاَةِ، فَصَلَّى وَلَمْ يَتَوَضَّأْ.قُلْنَا لِعَمْرٍو إِنَّ نَاسًا يَقُولُونَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ تَنَامُ عَيْنُهُ وَلاَ يَنَامُ قَلْبُهُ. قَالَ عَمْرٌو سَمِعْتُ عُبَيْدَ بْنَ عُمَيْرٍ يَقُولُ رُؤْيَا الأَنْبِيَاءِ وَحْىٌ، ثُمَّ قَرَأَ ﴾إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ﴿.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা নবী (ﷺ) ঘুমিয়েছিলেন, এমনকি তাঁর নিঃশ্বাসের শব্দ হতে লাগল। অতঃপর তিনি সালাত আদায় করলেন। সুফিয়ান (রহঃ) আবার কখনো বলেছেন, তিনি শুয়ে পড়লেন, এমনকি নাক ডাকার আওয়াজ হতে লাগল। অতঃপর দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন। অন্য সূত্রে সুফিয়ান (রহঃ) ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আমি এক রাতে আমার খালা মাইমূনা (রাঃ)-এর নিকট রাত কাটালাম। রাতে নবী (ﷺ) ঘুম থেকে উঠলেন এবং রাতের কিছু অংশ চলে যাবার পর আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) একটি ঝুলন্ত মশক হতে হালকা ধরনের ওজু করলেন। রাবী ‘আমর (রহঃ) বলেন যে, হালকাভাবে ধুলেন, পানি কম ব্যবহার করলেন এবং সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন।ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তখন তিনি যেভাবে ওজু করেছেন আমিও সেভাবে ওজু করলাম এবং এসে তাঁর বাঁয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম। সুফিয়ান (রহঃ) কখনো কখনো يسار (বাম) শব্দের স্থলে شمال বলতেন। তারপর আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) আমাকে ধরে তাঁর ডান দিকে দাঁড় করালেন। অতঃপর আল্লাহ্র যতক্ষণ ইচ্ছা ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সালাত আদায় করলেন। অতঃপর কাত হলেন আর ঘুমিয়ে পড়লেন, এমনকি তাঁর নাক ডাকালেন। অতঃপর মুয়াজ্জিন এসে তাঁকে সালাতের কথা জানিয়ে দিলেন। তিনি তার সঙ্গে সালাতের জন্য চললেন এবং সালাত আদায় করলেন, কিন্তু ওজু করলেন না।আমরা ‘আমর (রহঃ)-কে বললামঃ লোকে বলে যে, আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর চোখ ঘুমায় কিন্তু তাঁর অন্তর ঘুমায় না। তখন ‘আমর (রহঃ) বললেন, ‘আমি ‘উবায়দ ইব্নু ‘উমায়র (রহঃ) কে বলতে শুনেছি, নবীগণের স্বপ্ন ওহী।অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করলেন, إِنِّي أَرَى فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ “আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে কোরবানি করছি” – (সূরা আস সাফ্ফাত ৩৭/১০২)।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁর খালা মাইমুনা (রাঃ)-এর ঘরে রাত কাটানোর ঘটনা বর্ণনা করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) রাতে উঠলেন, ঝুলন্ত মশক থেকে হালকা ধরনের ওজু করলেন এবং সালাতে দাঁড়ালেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাঁর মতো ওজু করে এসে বাম পাশে দাঁড়ালে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে ডান পাশে দাঁড় করালেন। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم) ঘুমালেন, এমনকি নাক ডাকার শব্দ হলো, তারপর মুয়ায্যিন সালাতের খবর দিলে তিনি সালাত আদায় করলেন, কিন্তু নতুন করে ওজু করলেন না। হাদিসের শেষে নবীদের স্বপ্ন ওহী হওয়ার কথাও এসেছে। এই হাদিস থেকে রাতের ইবাদত, কম পানি দিয়ে ওজু, ইমামের ডান পাশে দাঁড়ানোর আদব এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ অবস্থার কথা জানা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের সালাতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আদর্শে যত্নের শিক্ষা আছে।
- ওজুতে কম পানি ব্যবহার করেও সঠিকভাবে ওজু করা যায়।
- একজন মুক্তাদি হলে ইমামের ডান পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা আছে।
- নবীদের স্বপ্ন সাধারণ মানুষের স্বপ্নের মতো নয়; তা ওহীর সঙ্গে যুক্ত।
