২৪/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪০৬ - সম্পদ সঞ্চয় ও আনুগত্যের শিক্ষা
যে সম্পদের যাকাত দেয়া হয় তা কানয (জমাকৃত সম্পদ) নয়।
لِقَوْلِ النَّبِيِّ ﷺ لَيْسَ فِيمَا دُونَ خَمْسَةِ أَوَاقٍ صَدَقَةٌনবী (ﷺ)-এর ঐ উক্তির কারণে যে, পাঁচ উকিয়ার কম পরিমাণ সম্পদের যাকাত নেই।"
সম্পদ সঞ্চয়, ব্যয় ও আনুগত্যের হাদিস
সহীহ বুখারী : ১৪০৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪০৬
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، سَمِعَ هُشَيْمًا، أَخْبَرَنَا حُصَيْنٌ، عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ، قَالَ مَرَرْتُ بِالرَّبَذَةِ فَإِذَا أَنَا بِأَبِي، ذَرٍّ ـ رضى الله عنه ـ فَقُلْتُ لَهُ مَا أَنْزَلَكَ مَنْزِلَكَ هَذَا قَالَ كُنْتُ بِالشَّأْمِ، فَاخْتَلَفْتُ أَنَا وَمُعَاوِيَةُ فِي الَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلاَ يُنْفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ.قَالَ مُعَاوِيَةُ نَزَلَتْ فِي أَهْلِ الْكِتَابِ. فَقُلْتُ نَزَلَتْ فِينَا وَفِيهِمْ. فَكَانَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ فِي ذَاكَ، وَكَتَبَ إِلَى عُثْمَانَ ـ رضى الله عنه ـ يَشْكُونِي، فَكَتَبَ إِلَىَّ عُثْمَانُ أَنِ اقْدَمِ الْمَدِينَةَ. فَقَدِمْتُهَا فَكَثُرَ عَلَىَّ النَّاسُ حَتَّى كَأَنَّهُمْ لَمْ يَرَوْنِي قَبْلَ ذَلِكَ، فَذَكَرْتُ ذَاكَ لِعُثْمَانَ فَقَالَ لِي إِنْ شِئْتَ تَنَحَّيْتَ فَكُنْتَ قَرِيبًا. فَذَاكَ الَّذِي أَنْزَلَنِي هَذَا الْمَنْزِلَ، وَلَوْ أَمَّرُوا عَلَىَّ حَبَشِيًّا لَسَمِعْتُ وَأَطَعْتُ.
যাইদ ইব্নু ওয়াহব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাবাযাহ নামক স্থান দিয়ে চলার পথে আবূ যার (রাঃ)-এর সাথে আমার সাক্ষাৎ হলো। আমি তাঁকে বললাম, আপনি এখানে কী কারণে আসলেন? তিনি বললেন, আমি সিরিায়ায় অবস্থানকালে নিম্নোক্ত আয়াতের তাফসীর সম্পর্কে মু’আবিয়া (রাঃ)-এর সাথে আমার মতানৈক্য হয়ঃ “যারা সোনা-রূপা জমা করে রাখে এবং আল্লাহর রাস্তায় তা ব্যয় করে না…….”-(আত-তাওবাঃ ৩৪)। মু’আবিয়া (রাঃ) বলেন, এ আয়াত কেবল আহলে কিতাবদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে। আমি বললাম, আমাদের ও তাদের সকলের সম্পর্কেই অবতীর্ণ হয়েছে। এ নিয়ে আমাদের উভয়ের মধ্যে বিরোধ চলছিল।এক সময় মু’আবিয়া (রাঃ) ‘উসমান (রাঃ)-এর নিকট আমার নামে অভিযোগ করে পত্র পাঠালেন। তিনি পত্রযোগে আমাকে মদীনায় ডেকে পাঠান। মদীনায় পৌছলে আমাকে দেখতে লোকেরা এত ভিড় করলো যে, এর পূর্বে যেন তারা কখনো আমাকে দেখেনি। ‘উসমান (রাঃ)-এর নিকট ঘটনা বিবৃত করলে তিনি আমাকে বললেন, ইচ্ছা করলে আপনি মদীনার বাইরে নিকটে কোথাও থাকতে পারেন। এ হল আমার এ স্থানে অবস্থানের কারণ। খলীফা যদি কোন হাবশী লোককেও আমার উপর কর্তৃত্ব প্রদান করেন, তবুও আমি তাঁর কথা শুনব এবং আনুগত্য করবো।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবূ যার (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি সিরিয়ায় থাকাকালে সোনা-রূপা জমা করে আল্লাহর পথে ব্যয় না করার আয়াত নিয়ে মু‘আবিয়া (রাঃ)-এর সঙ্গে মতভেদে পড়েন। মু‘আবিয়া (রাঃ) বলেন, আয়াতটি আহলে কিতাবদের বিষয়ে; আবূ যার (রাঃ) বলেন, এটি আমাদের ও তাদের সবার বিষয়ে। পরে বিষয়টি ‘উসমান (রাঃ)-এর কাছে পৌঁছে এবং আবূ যার (রাঃ) মদীনায় আসেন। শেষে তিনি বলেন, খলীফা যদি কোনো হাবশী লোককেও তাঁর উপর কর্তৃত্ব দেন, তবু তিনি শুনবেন ও আনুগত্য করবেন। এতে সম্পদের হক নিয়ে সতর্কতা এবং বৈধ কর্তৃত্বের আনুগত্য—দুই দিকের শিক্ষা পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সোনা-রূপা জমা করে আল্লাহর পথে ব্যয় না করা সতর্কতার বিষয়।
- আয়াতের অর্থ বুঝতে সাহাবীদের মাঝে আলোচনা হতো।
- মতভেদ হলেও শৃঙ্খলা ও আনুগত্য বজায় রাখা উচিত।
- দায়িত্বশীল কথাবার্তায় দ্বীন ও সমাজ—দুই দিকের ভারসাম্য দরকার।
