২৫/৪৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৮৮ - ঈমান ও উত্তরাধিকার বিধান

কাউকে মক্কায় অবস্থিত বাড়ির (ও জমির) ওয়ারিশ বানানো,তার কেনা-বেচা এবং বিশেষভাবে মাসজিদুল হারমে সকল মানুষের সমান অধিকার।

لِقَوْلِهِ تَعَالَى : ﴾إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا وَيَصُدُّونَ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ وَالْمَسْجِدِ الْحَرَامِ الَّذِي جَعَلْنَاهُ لِلنَّاسِ سَوَاءً الْعَاكِفُ فِيهِ وَالْبَادِ وَمَنْ يُرِدْ فِيهِ بِإِلْحَادٍ بِظُلْمٍ نُذِقْهُ مِنْ عَذَابٍ أَلِيمٍ﴿ الْبَادِي الطَّارِي ﴾مَعْكُوفًا﴿ مَحْبُوسًاএ পর্যায়ে আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই যারা কুফরী করে এবং আল্লাহর পথে বাধা সৃষ্টি করে ও মাসজিদুল হারাম থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করে, যে মাসজিদুল হারামকে স্থানীয় ও বহিরাগত সব মানুষের জন্য সমান করেছি, আর যে ব্যক্তি তথায় ইচ্ছাপূর্বক অন্যায়ভাবে কোনো পাপ কাজ করবে, আমি তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির স্বাদ আস্বাদন করাব।” (আল-হজ্জ: ২৫)অর্থ হলো الْبَادِي (আগন্তুক) এবং مَعْكُوفًا অর্থ হলো مَحْبُوسًا (আবদ্ধ)"

মুমিন ও কাফিরের উত্তরাধিকার: মক্কার বাড়ি প্রসঙ্গে শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৫৮৮

حَدَّثَنَا أَصْبَغُ قَالَ أَخْبَرَنِي ابْنُ وَهْبٍ عَنْ يُونُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عَلِيِّ بْنِ حُسَيْنٍ عَنْ عَمْرِو بْنِ عُثْمَانَ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ أَيْنَ تَنْزِلُ فِي دَارِكَ بِمَكَّةَ فَقَالَ وَهَلْ تَرَكَ عَقِيلٌ مِنْ رِبَاعٍ أَوْ دُورٍ وَكَانَ عَقِيلٌ وَرِثَ أَبَا طَالِبٍ هُوَ وَطَالِبٌ وَلَمْ يَرِثْهُ جَعْفَرٌ وَلاَ عَلِيٌّ شَيْئًا لأَنَّهُمَا كَانَا مُسْلِمَيْنِ وَكَانَ عَقِيلٌ وَطَالِبٌ كَافِرَيْنِ فَكَانَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ يَقُولُ لاَ يَرِثُ الْمُؤْمِنُ الْكَافِرَقَالَ ابْنُ شِهَابٍ وَكَانُوا يَتَأَوَّلُونَ قَوْلَ اللهِ تَعَالَى : ﴾إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللهِ وَالَّذِينَ آوَوْا وَنَصَرُوا أُولَئِكَ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ﴿ الآيَةَ

উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি মক্কায় অবস্থিত আপনার বাড়ির কোন্‌ স্থানে অবস্থান করবেন? তিনি (ﷺ) বললেনঃ ‘আকীল কি কোন সম্পত্তি বা ঘর-বাড়ি অবশিষ্ট রেখে গেছে? ‘আকীল ও তালিব আবূ তালিবের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন, জা‘ফর ও ‘আলী (রাঃ) হননি। কেননা তাঁরা দু’জন ছিলেন মুসলমান। ‘আকীল ও তালিব ছিল কাফির। এজন্যই ‘উমর ইব্‌নু খাত্তাব (রাঃ) বলতেন, মু’মিন কাফির-এর সম্পত্তির উত্তরাধিকার হয় না। ইব্‌নু শিহাব (যুহরী) (রহঃ) বলেন, (পূর্ববর্তীগণ নিম্ন উদ্ধৃত আয়াতে উক্ত বিলায়াতকে উত্তরাধিকার বলে) এই তাফসীর করতেন।আল্লাহ বলেনঃ “নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে, হিজরাত করেছে, নিজেদের ধন ও প্রাণ দিয়ে আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দান করেছে ও সাহায্য করেছে তারা একে অপরের বন্ধু। আর যারা ঈমান এনেছে কিন্তু হিজরাত করেনি তাদের অভিভাবকত্বের দায়িত্ব তোমাদের নেই যে পর্যন্ত না তারা হিজরাত করে। আর যদি তারা দ্বীনের ব্যাপারে তোমাদের সাহায্য চায় তবে তাদের সাহায্য করা তোমাদের অবশ্য কর্তব্য, কিন্তু তোমাদের সাথে যে ক্বাওমের চুক্তি রয়েছে তাদের মুকাবিলায় নয়। তোমরা যা কিছু কর আল্লাহ তা সবই দেখেন।” (আল-আনফালঃ ৭২)

সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৮৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উসামা ইবন যায়দ (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন, তিনি মক্কায় নিজের বাড়ির কোথায় থাকবেন। নবীজি বলেন, আকীল কি কোনো সম্পত্তি বা ঘর-বাড়ি রেখে গেছে? এরপর বর্ণনায় আসে, আকীল ও তালিব আবু তালিবের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়েছিলেন; জাফর ও আলী (রাঃ) হননি, কারণ তাঁরা মুসলিম ছিলেন আর আকীল ও তালিব তখন কাফির ছিলেন। উমর ইবন খাত্তাব (রাঃ) বলতেন, মুমিন কাফিরের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয় না। এখানে মূল বিষয় উত্তরাধিকার ও ঈমানের সম্পর্ক। বর্ণনায় আল-আনফাল ৭২ নম্বর আয়াতের অংশও এসেছে, যেখানে ঈমান, হিজরত, সাহায্য ও পারস্পরিক সম্পর্কের কথা বলা হয়েছে। এই হাদিস উত্তরাধিকার, পরিবার ও আকীদার বিষয়কে একসঙ্গে আলোচনায় আনে। তবে এর বাইরে অতিরিক্ত ফিকহি রায় না দিয়ে বর্ণনার মূল শিক্ষা হলো—ঈমান উত্তরাধিকার সংক্রান্ত সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুমিন ও কাফিরের উত্তরাধিকার বিষয়ে উমর (রাঃ)-এর বক্তব্য বর্ণিত হয়েছে।
  • নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর মক্কার ঘর-বাড়ি প্রসঙ্গ এই হাদিসে এসেছে।
  • ঈমান, হিজরত ও পারস্পরিক সাহায্যের সম্পর্ক বর্ণনায় গুরুত্ব পেয়েছে।
  • পারিবারিক সম্পত্তির বিষয়েও ধর্মীয় বিধানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন