২৫/৪৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৯২ - আশুরার সাওম ও রমজানের ফরজিয়ত
মহান আল্লাহর বাণীঃ আল্লাহ মানুষের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন মহা সম্মানিত ঘর কাবাকে, সম্মানিত মাসকে, কুরবানির জন্য কাবায় প্রেরিত পশুকে এবং গলায় মালা পরিহিত পশুকে। এর কারণ এই যে, তোমরা যেন জানতে পার যে, অবশ্যই আল্লাহ জানেন যা কিছু আছে আসমানে এবং যা কিছু আছে জমিনে, আর আল্লাহ তো সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। (আল-মায়িদাহঃ ৯৭)
﴾جَعَلَ اللّٰهُ الْكَعْبَةَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ قِيَامًا لِلنَّاسِ وَالشَّهْرَ الْحَرَامَ وَالْهَدْيَ وَالْقَلَائِدَ ذَلِكَ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللّٰهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَنَّ اللّٰهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ﴿আল্লাহ মানুষের কল্যাণের জন্য নির্ধারিত করে দিয়েছেন মহাসম্মানিত ঘর কা‘বাকে, সম্মানিত মাসকে, কুরবানীর জন্য কা‘বায় প্রেরিত পশুকে এবং গলায় মালা পরানো পশুকে। এর কারণ এই যে, তোমরা যেন জানতে পার যে, অবশ্যই আল্লাহ জানেন যা কিছু আছে আসমানে এবং যা কিছু আছে জমিনে, আর আল্লাহ তো সর্ববিষয়ে সর্বজ্ঞ। (আল-মায়িদা: ৯৭)"
আশুরার সাওম: রমজান ফরজ হওয়ার আগে ও পরে বিধান
সহীহ বুখারী : ১৫৯২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৫৯২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ ح و حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَبْدُ اللهِ هُوَ ابْنُ الْمُبَارَكِ قَالَ أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي حَفْصَةَ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانُوا يَصُومُونَ عَاشُورَاءَ قَبْلَ أَنْ يُفْرَضَ رَمَضَانُ وَكَانَ يَوْمًا تُسْتَرُ فِيهِ الْكَعْبَةُ فَلَمَّا فَرَضَ اللهُ رَمَضَانَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ شَاءَ أَنْ يَصُومَهُ فَلْيَصُمْهُ وَمَنْ شَاءَ أَنْ يَتْرُكَهُ فَلْيَتْرُكْهُ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রমাযানের সাওম ফরজ হওয়ার পূর্বে মুসলিমগণ ‘আশূরার সাওম পালন করতেন। সে দিনই কা‘বা ঘর (গিলাফে) আবৃত করা হত। অতঃপর আল্লাহ যখন রমাযানের সাওম ফরজ করলেন, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ ‘আশূরার সাওম যার ইচ্ছা সে পালন করবে আর যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দিবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, রমজানের সাওম ফরজ হওয়ার আগে মুসলিমগণ আশুরার সাওম পালন করতেন। সে দিন কাবা ঘর গিলাফে আবৃত করা হতো। এরপর আল্লাহ যখন রমজানের সাওম ফরজ করলেন, তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, আশুরার সাওম যার ইচ্ছা সে রাখবে, আর যার ইচ্ছা সে ছেড়ে দেবে। এখানে মূল বিষয় আশুরার সাওম ও রমজানের ফরজিয়ত। বর্ণনা থেকে পরিষ্কার বোঝা যায়, আশুরার সাওম আগে পালন করা হতো, কিন্তু রমজানের সাওম ফরজ হওয়ার পর এটি বাধ্যতামূলকভাবে উল্লেখ করা হয়নি; বরং ইচ্ছাধীন বলা হয়েছে। হাদিসটি ইবাদতের বিধান কীভাবে নবীজির কথায় পরিষ্কার হয়, তা বুঝতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে কাবা ঘর গিলাফে আবৃত করার দিনের কথাও বর্ণনায় এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের সাওম ফরজ হওয়ার আগে আশুরার সাওম পালন করা হতো।
- রমজান ফরজ হওয়ার পর আশুরার সাওম ইচ্ছাধীন বলা হয়েছে।
- আশুরার দিন কাবা ঘর গিলাফে আবৃত করা হতো বলে বর্ণনায় এসেছে।
- ইবাদতের বিধান নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর বক্তব্যে পরিষ্কারভাবে জানা যায়।
