২৫/৬৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬২১ - তাওয়াফে মানবিকতা ও ভুল রীতি সংশোধন
তাওয়াফের সময় রশি দিয়ে কাউকে টানতে দেখলে বা অশোভণীয় কোন কিছু দেখলে তা হতে বাধা প্রদান করবে।
তাওয়াফের আদব: সম্মান ও স্বাভাবিকতার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৬২১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬২১
حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ سُلَيْمَانَ الأَحْوَلِ عَنْ طَاوُسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ رَأَى رَجُلاً يَطُوفُ بِالْكَعْبَةِ بِزِمَامٍ أَوْ غَيْرِهِ فَقَطَعَهُ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে কা’বা ঘরে তাওয়াফ করতে দেখতে পেলেন এ অবস্থায় যে, চাবুকের ফিতা বা অন্য কিছু দিয়ে (তাকে টেনে নেয়া হচ্ছে)। তখন তিনি তা বিচ্ছিন্ন করে দিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬২১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কা’বা ঘরের তাওয়াফের একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব বোঝানো হয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) দেখলেন, একজন মানুষ তাওয়াফ করছে, কিন্তু তাকে চাবুকের ফিতা বা অন্য কিছু দিয়ে টেনে নেওয়া হচ্ছে। তিনি সেটি কেটে দিলেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, তাওয়াফ একটি ইবাদত, আর ইবাদতে মানুষের সম্মান ও স্বাভাবিক চলাচল বজায় রাখা দরকার। কাউকে এমনভাবে পরিচালনা করা, যাতে তার মর্যাদা কমে বা অস্বাভাবিক দৃশ্য তৈরি হয়, তা নবীজি পছন্দ করেননি। তাই এই হাদিস তাওয়াফের নিয়ম, কা’বা ঘরের আদব এবং হাজীর সম্মান—সবগুলো দিকেই সুন্দর নির্দেশনা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাওয়াফের সময় মানুষের সম্মান রক্ষা করা জরুরি।
- ইবাদতের নামে অস্বাভাবিক বা অপমানজনক রীতি গ্রহণ করা ঠিক নয়।
- ভুল কাজ দেখা গেলে নরমভাবে তা সংশোধন করা নবীজির শিক্ষার অংশ।
- কা’বা ঘরের তাওয়াফ শৃঙ্খলা ও আদবের সঙ্গে হওয়া উচিত।
