২৫/১০৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৯১ - বিদায় হজ্জে তামাত্তু ও হাদির নিয়ম
যে ব্যক্তি কুরবানির জন্তু সাথে নিয়ে যায়।
বিদায় হজ্জে তামাত্তু: উমরা, হজ্জ, হাদি ও হালাল হওয়ার ধাপ
সহীহ বুখারী : ১৬৯১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬৯১
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ قَالَ تَمَتَّعَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ وَأَهْدَى فَسَاقَ مَعَهُ الْهَدْيَ مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ وَبَدَأَ رَسُولُ اللهِ ﷺ فَأَهَلَّ بِالْعُمْرَةِ ثُمَّ أَهَلَّ بِالْحَجِّ فَتَمَتَّعَ النَّاسُ مَعَ النَّبِيِّ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَكَانَ مِنْ النَّاسِ مَنْ أَهْدَى فَسَاقَ الْهَدْيَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ يُهْدِ فَلَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ مَكَّةَ قَالَ لِلنَّاسِمَنْ كَانَ مِنْكُمْ أَهْدَى فَإِنَّهُ لاَ يَحِلُّ لِشَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَجَّهُ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَهْدَى فَلْيَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَلْيُقَصِّرْ وَلْيَحْلِلْ ثُمَّ لِيُهِلَّ بِالْحَجِّ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ هَدْيًا فَلْيَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةً إِذَا رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ فَطَافَ حِينَ قَدِمَ مَكَّةَ وَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ أَوَّلَ شَيْءٍ ثُمَّ خَبَّ ثَلاَثَةَ أَطْوَافٍ وَمَشَى أَرْبَعًا فَرَكَعَ حِينَ قَضَى طَوَافَهُ بِالْبَيْتِ عِنْدَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ فَانْصَرَفَ فَأَتَى الصَّفَا فَطَافَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ سَبْعَةَ أَطْوَافٍ ثُمَّ لَمْ يَحْلِلْ مِنْ شَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى قَضَى حَجَّهُ وَنَحَرَ هَدْيَهُ يَوْمَ النَّحْرِ وَأَفَاضَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ ثُمَّ حَلَّ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ وَفَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلَ رَسُولُ اللهِ ﷺ مَنْ أَهْدَى وَسَاقَ الْهَدْيَ مِنْ النَّاسِ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
বিদায় হজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ) হজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে পালন করেছেন। তিনি হাদী পাঠান অর্থাৎ যুল-হুলাইফা হতে কুরবানীর জানোয়ার সাথে নিয়ে নেন। অত:পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রথমে ‘উমরাহ’র ইহ্রাম বাঁধেন, এরপর হজ্জের ইহ্রাম বাঁধেন। সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে ‘উমরাহ’র ও হজ্জের নিয়্যাতে তামাত্তু‘ করলেন। সাহাবীগণের কতেক হাদী সাথে নিয়ে চললেন, আর কেউ কেউ হাদী সাথে নেননি।এরপর নবী (ﷺ) মক্কা পৌঁছে সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছ, তাদের জন্য হজ্জ সমাপ্ত করা পর্যন্ত কোন নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে আসনি, তারা বাইতুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবে। এরপর হজ্জের ইহ্রাম বাঁধবে। তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা হজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সাওম পালন করবে।নবী (ﷺ) মক্কা পৌঁছেই তাওয়াফ করলেন। প্রথমে হাজরে আসওয়াদ চুম্বন করলেন এবং তিন চক্কর রামল করে আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, সালাম ফিরিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সা‘ঈ করলেন।হজ্জ সমাধান করা পর্যন্ত তিনি যা কিছু হারাম ছিল তা হতে হালাল হননি। তিনি কুরবানীর দিনে হাদী কুরবানী করলেন, সেখান হতে এসে তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। অত:পর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সব কিছু হতে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা সেরূপ করলেন, যেরূপ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) করেছিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে বিদায় হজ্জের সময় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল বিস্তারিতভাবে এসেছে। তিনি যুল-হুলাইফা থেকে কুরবানির পশু সঙ্গে নিয়ে প্রথমে উমরার ইহরাম বাঁধেন, এরপর হজ্জের ইহরাম বাঁধেন। সাহাবীদের কেউ হাদি সঙ্গে নিয়েছিলেন, কেউ নেননি। নবী (صلى الله عليه وسلم) মক্কায় এসে বলেন, যাদের সঙ্গে হাদি আছে তারা হজ্জ শেষ না করা পর্যন্ত ইহরামের নিষিদ্ধ বিষয় থেকে হালাল হবে না। আর যাদের হাদি নেই তারা বাইতুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সাঈ এবং চুল ছোট করে হালাল হবে, পরে হজ্জের ইহরাম বাঁধবে। যারা কুরবানি পাবে না, তারা হজ্জে তিন দিন এবং বাড়ি ফিরে সাত দিন সাওম রাখবে। হাদিসে তাওয়াফ, হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ, রামল, মাকামে ইব্রাহিমের কাছে দুই রাকাত, সাঈ, কুরবানি ও তাওয়াফে যিয়ারাহ—সবই ধারাবাহিকভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিদায় হজ্জে নবী (صلى الله عليه وسلم) উমরা ও হজ্জের আমল একত্রে করেছেন।
- হাদি সঙ্গে থাকা ও না থাকার ভিত্তিতে হালাল হওয়ার পদ্ধতি আলাদা হয়েছে।
- কুরবানি না পেলে সাওমের বিকল্প এই হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
- তাওয়াফ, সাঈ, সালাত ও কুরবানি হজ্জের ধারাবাহিক আমল হিসেবে এসেছে।
