২৫/১০৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৯০ - কুরবানির পশুতে সওয়ার হওয়ার শিক্ষা
কুরবানির উটের পিঠে আরোহণ করা। আল্লাহর বাণীঃ
﴾وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُمْ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ كَذَلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ﴿قَالَ مُجَاهِدٌ سُمِّيَتْ الْبُدْنَ لِبُدْنِهَا وَالْقَانِعُ السَّائِلُ وَالْمُعْتَرُّ الَّذِي يَعْتَرُّ بِالْبُدْنِ مِنْ غَنِيٍّ أَوْ فَقِيرٍ وَشَعَائِرُ اسْتِعْظَامُ الْبُدْنِ وَاسْتِحْسَانُهَا وَالْعَتِيقُ عُتُقُهُ مِنْ الْجَبَابِرَةِ وَيُقَالُ وَجَبَتْ سَقَطَتْ إِلَى الْأَرْضِ وَمِنْهُ وَجَبَتْ الشَّمْسُ“আর উটকে আমি করেছি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন, তোমাদের জন্য এতে রয়েছে মঙ্গল। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো অবস্থায় তাদের উপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর; তারপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং সাহায্য কর ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে এবং যাচ্ঞাকারী অভাবগ্রস্তকেও। আমি এভাবে ঐ পশুগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি যেন তোমরা শোকর কর। আর আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত এবং না এগুলোর রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন যেন তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর, যেহেতু তিনি তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন। সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মশীলদেরকে।” (আল-হজ্জ: ৩৬-৩৭)মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, কুরবানীর উটগুলোকে মোটা তাজা হওয়ার কারণে الْبُدْنَ বলা হয়, الْقَانِعُ অর্থাৎ যাচ্ঞাকারী, الْمُعْتَرُّ ঐ ব্যক্তি, যে ধনী হোক বা দরিদ্র, কুরবানীর উটের গোশত খাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়ায়। شَعَائِرُ অর্থাৎ কুরবানীর উটের প্রতি সম্মান করা এবং ভাল জানা। الْعَتِيقُ অর্থাৎ যালিমদের হতে মুক্ত হওয়া وَجَبَتْ অর্থ যমীনে লুটিয়ে পড়ে। এ অর্থেই হল وَجَبَتْ الشَّمْسُ অর্থ সূর্য অস্তমিত হয়েছে।"
কুরবানির উটে সওয়ার হওয়া: নবীজির সরল নির্দেশ
সহীহ বুখারী : ১৬৯০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬৯০
حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ وَشُعْبَةُ قَالاَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ رَأَى رَجُلاً يَسُوقُ بَدَنَةً فَقَالَ ارْكَبْهَا قَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ ارْكَبْهَا قَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ ارْكَبْهَا ثَلاَثًا
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। লোকটি বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে। তিনি এক ব্যক্তিকে কুরবানির উট হাঁকিয়ে নিতে দেখলেন। তখন বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। লোকটি বলল, এটি তো কুরবানির উট। নবী (صلى الله عليه وسلم) আবার বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। লোকটি আবারও একই কথা বললে তিনি তৃতীয়বারও একই নির্দেশ দিলেন। এই পুনরাবৃত্তি থেকে বোঝা যায়, ঘটনাটির শিক্ষা খুব পরিষ্কার: কুরবানির পশু হওয়া সত্ত্বেও প্রয়োজনের সময় তার পিঠে সওয়ার হওয়ার সুযোগ আছে। হাদিসে কেবল উট হাঁকিয়ে নেওয়া, লোকটির দ্বিধা এবং নবীজির বারবার নির্দেশের কথা আছে। তাই ব্যাখ্যাও এই সরাসরি বর্ণনার মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানির উটের পিঠে সওয়ার হওয়ার অনুমতির বর্ণনা এসেছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) একই নির্দেশ তিনবার বলেছেন।
- সাহাবী বা লোকটির দ্বিধা দূর করতে নির্দেশ পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।
- হাদির পশু ব্যবহারে সহজতার দিক এই বর্ণনায় দেখা যায়।
