৪৭/১৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫০৬ - হজ্জের নির্দেশ ও হাদিতে শরীক হওয়া
কুরবানির জানোয়ার ও উটে অংশগ্রহণ
وَإِذَا أَشْرَكَ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فِي هَدْيِهِ بَعْدَ مَا أَهْدَىকুরবানীর জানোয়ার (জবাই করার স্থানে) রওনা করার পর কেউ কোনো ব্যক্তিকে তার কুরবানীর জানোয়ারের শরীক করলে তার বিধান।"
হজ্জে নবীজির নির্দেশ ও হাদিতে অংশীদারির শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৫০৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫০৬
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ.وَعَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهم ـ قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ صُبْحَ رَابِعَةٍ مِنْ ذِي الْحَجَّةِ مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ، لاَ يَخْلِطُهُمْ شَىْءٌ، فَلَمَّا قَدِمْنَا أَمَرَنَا فَجَعَلْنَاهَا عُمْرَةً، وَأَنْ نَحِلَّ إِلَى نِسَائِنَا، فَفَشَتْ فِي ذَلِكَ الْقَالَةُ.قَالَ عَطَاءٌ فَقَالَ جَابِرٌ فَيَرُوحُ أَحَدُنَا إِلَى مِنًى وَذَكَرُهُ يَقْطُرُ مَنِيًّا. فَقَالَ جَابِرٌ بِكَفِّهِ، فَبَلَغَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَامَ خَطِيبًا فَقَالَ «بَلَغَنِي أَنَّ أَقْوَامًا يَقُولُونَ كَذَا وَكَذَا، وَاللَّهِ لأَنَا أَبَرُّ وَأَتْقَى لِلَّهِ مِنْهُمْ، وَلَوْ أَنِّي اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ، وَلَوْلاَ أَنَّ مَعِي الْهَدْىَ لأَحْلَلْتُ».فَقَامَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هِيَ لَنَا أَوْ لِلأَبَدِ فَقَالَ «لاَ بَلْ لِلأَبَدِ». قَالَ وَجَاءَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ ـ فَقَالَ أَحَدُهُمَا يَقُولُ لَبَّيْكَ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ. وَقَالَ وَقَالَ الآخَرُ لَبَّيْكَ بِحَجَّةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ـ فَأَمَرَ النَّبِيُّ ﷺ أَنْ يُقِيمَ عَلَى إِحْرَامِهِ، وَأَشْرَكَهُ فِي الْهَدْىِ.
জাবির (রাঃ) ও ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ ৪ঠা যিলহজ্জ ভোরে শুধু হজ্জের ইহরাম বেঁধে মক্কায় এসে পৌছলেন। কিন্তু আমরা মক্কায় এসে পৌছলে তিনি আমাদেরকে হজ্জের ইহরামকে ‘উমরা-তে পরিবর্তিত করার আদেশ দিলেন। তখন আমরা হজ্জকে ‘উমরা-তে পরিবর্তিত করলাম। তিনি আমাদেরকে স্ত্রীদের সাথে সহবাসেরও অনুমতি দিলেন। এ বিষয়ে কেউ কথা ছড়ালো (অধস্তন রাবী) আতা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে মিনায় যাবে। এ কথা বলে জাবির (রাঃ) নিজের হাত লজ্জাস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন।এ খবর নবী (ﷺ)-এর কানে পৌছলে তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। আমি শুনতে পেয়েছি যে, লোকেরা এটা সেটা বলছে। আল্লাহর কসম! আমি তাদের চেয়ে অধিক পরহেযগার এবং অধিক আল্লাহ ভীরু। পরে যা জেনেছি তা আগে ভাগে জানতে পারলে হাদী (হজ্জের কুরবানীর জন্তু) সাথে নিয়ে আসতাম না। আর সাথে হাদী না থাকলে আমিও ইহরাম হতে হালাল হয়ে যেতাম।তখন সুরাকা ইবনু মালিক ইবনু জু’সুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ হুকুম শুধু আমাদের জন্য, না এটা সর্বকালের জন্য। তিনি বললেন, না, বরং সর্বকালের জন্য [রাবী আতা (রহঃ)] বলেন, পরে ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) (ইয়ামান থেকে) মক্কায় এলেন। দুই রাবীর একজন বলেন যে, ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর অনুরূপ হজ্জ করব। অপরজনের মতে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর অনুরূপ ইহরাম বাঁধলাম। ফলে নবী (ﷺ) তাঁকে ইহরাম অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁকেও হাদী এর মধ্যে শরীক করে দিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫০৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজ্জের সফরের একটি ঘটনা এসেছে। সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম নিয়ে মক্কায় পৌঁছান। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের হজ্জের ইহরামকে উমরায় বদলাতে বলেন এবং হালাল হওয়ার অনুমতি দেন। কিছু মানুষ এ বিষয়ে কথা তুললে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) দাঁড়িয়ে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, আল্লাহর কসম, তিনি আল্লাহকে বেশি ভয় করেন এবং বেশি পরহেজগার। তিনি আরও জানান, সঙ্গে হাদি না থাকলে তিনিও হালাল হয়ে যেতেন। সুরাকা (রাঃ) জিজ্ঞেস করেন, এই নিয়ম কি শুধু তাদের জন্য, না সব সময়ের জন্য। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, বরং সব সময়ের জন্য। পরে আলী (রাঃ) এলে তাঁকে ইহরামে থাকতে বলা হয় এবং হাদিতে শরীক করা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জ ও উমরার বিষয়ে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশই ছিল সাহাবীদের পথ।
- মানুষের কথার জবাবে সত্য বিষয় পরিষ্কারভাবে বলা উচিত।
- হাদি সঙ্গে থাকলে ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা অবস্থা তৈরি হয়।
- হাদিতে অংশীদারিত্বের একটি সরাসরি দৃষ্টান্ত এই হাদিসে আছে।
