৪৭/১৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫০৫ - হজ্জ, উমরা ও হাদিতে অংশগ্রহণ
কুরবানির জানোয়ার ও উটে অংশগ্রহণ
وَإِذَا أَشْرَكَ الرَّجُلُ الرَّجُلَ فِي هَدْيِهِ بَعْدَ مَا أَهْدَىকুরবানীর জানোয়ার (জবাই করার স্থানে) রওনা করার পর কেউ কোনো ব্যক্তিকে তার কুরবানীর জানোয়ারের শরীক করলে তার বিধান।"
হজ্জের ইহরাম, উমরা এবং হাদিতে অংশগ্রহণের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৫০৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫০৫
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ جَابِرٍ.وَعَنْ طَاوُسٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهم ـ قَالَ قَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ صُبْحَ رَابِعَةٍ مِنْ ذِي الْحَجَّةِ مُهِلِّينَ بِالْحَجِّ، لاَ يَخْلِطُهُمْ شَىْءٌ، فَلَمَّا قَدِمْنَا أَمَرَنَا فَجَعَلْنَاهَا عُمْرَةً، وَأَنْ نَحِلَّ إِلَى نِسَائِنَا، فَفَشَتْ فِي ذَلِكَ الْقَالَةُ.قَالَ عَطَاءٌ فَقَالَ جَابِرٌ فَيَرُوحُ أَحَدُنَا إِلَى مِنًى وَذَكَرُهُ يَقْطُرُ مَنِيًّا. فَقَالَ جَابِرٌ بِكَفِّهِ، فَبَلَغَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَامَ خَطِيبًا فَقَالَ «بَلَغَنِي أَنَّ أَقْوَامًا يَقُولُونَ كَذَا وَكَذَا، وَاللَّهِ لأَنَا أَبَرُّ وَأَتْقَى لِلَّهِ مِنْهُمْ، وَلَوْ أَنِّي اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ، وَلَوْلاَ أَنَّ مَعِي الْهَدْىَ لأَحْلَلْتُ».فَقَامَ سُرَاقَةُ بْنُ مَالِكِ بْنِ جُعْشُمٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هِيَ لَنَا أَوْ لِلأَبَدِ فَقَالَ «لاَ بَلْ لِلأَبَدِ». قَالَ وَجَاءَ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ ـ فَقَالَ أَحَدُهُمَا يَقُولُ لَبَّيْكَ بِمَا أَهَلَّ بِهِ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ. وَقَالَ وَقَالَ الآخَرُ لَبَّيْكَ بِحَجَّةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ ـ فَأَمَرَ النَّبِيُّ ﷺ أَنْ يُقِيمَ عَلَى إِحْرَامِهِ، وَأَشْرَكَهُ فِي الْهَدْىِ.
জাবির (রাঃ) ও ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এবং তাঁর সাহাবীগণ ৪ঠা যিলহজ্জ ভোরে শুধু হজ্জের ইহরাম বেঁধে মক্কায় এসে পৌছলেন। কিন্তু আমরা মক্কায় এসে পৌছলে তিনি আমাদেরকে হজ্জের ইহরামকে ‘উমরা-তে পরিবর্তিত করার আদেশ দিলেন। তখন আমরা হজ্জকে ‘উমরা-তে পরিবর্তিত করলাম। তিনি আমাদেরকে স্ত্রীদের সাথে সহবাসেরও অনুমতি দিলেন। এ বিষয়ে কেউ কথা ছড়ালো (অধস্তন রাবী) আতা (রহঃ) বলেন, জাবির (রাঃ) বলেছেন, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করে মিনায় যাবে। এ কথা বলে জাবির (রাঃ) নিজের হাত লজ্জাস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন।এ খবর নবী (ﷺ)-এর কানে পৌছলে তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। আমি শুনতে পেয়েছি যে, লোকেরা এটা সেটা বলছে। আল্লাহর কসম! আমি তাদের চেয়ে অধিক পরহেযগার এবং অধিক আল্লাহ ভীরু। পরে যা জেনেছি তা আগে ভাগে জানতে পারলে হাদী (হজ্জের কুরবানীর জন্তু) সাথে নিয়ে আসতাম না। আর সাথে হাদী না থাকলে আমিও ইহরাম হতে হালাল হয়ে যেতাম।তখন সুরাকা ইবনু মালিক ইবনু জু’সুম (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ হুকুম শুধু আমাদের জন্য, না এটা সর্বকালের জন্য। তিনি বললেন, না, বরং সর্বকালের জন্য [রাবী আতা (রহঃ)] বলেন, পরে ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) (ইয়ামান থেকে) মক্কায় এলেন। দুই রাবীর একজন বলেন যে, ‘আলী (রাঃ) বলেছেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর অনুরূপ হজ্জ করব। অপরজনের মতে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর অনুরূপ ইহরাম বাঁধলাম। ফলে নবী (ﷺ) তাঁকে ইহরাম অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিলেন এবং তাঁকেও হাদী এর মধ্যে শরীক করে দিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫০৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজ্জের সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) ও সাহাবীগণ যিলহজ্জের চতুর্থ দিনের ভোরে মক্কায় পৌঁছান। তাঁরা হজ্জের ইহরাম করেছিলেন। মক্কায় পৌঁছার পর নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের হজ্জের ইহরামকে উমরায় পরিবর্তন করতে বলেন এবং হালাল হওয়ার অনুমতি দেন। এ নিয়ে কিছু লোক কথা বলতে থাকে। তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) ভাষণ দিয়ে জানান, তিনি আল্লাহকে তাদের চেয়ে বেশি ভয় করেন, আর যদি তাঁর সঙ্গে হাদি না থাকত, তিনিও হালাল হয়ে যেতেন। সুরাকা (রাঃ) জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, এই হুকুম শুধু তখনকার জন্য নয়, বরং স্থায়ী। পরে আলী (রাঃ) এলে তাঁকে ইহরামে থাকতে বলা হয় এবং হাদিতে শরীক করা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজ্জের কাজে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ মানা সাহাবীদের জন্য মূল পথ ছিল।
- ধর্মীয় বিষয়ে কথা ছড়ালে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) পরিষ্কারভাবে বিষয়টি বুঝিয়ে দিতেন।
- হাদি সঙ্গে থাকলে ইহরামের অবস্থার বিষয়ে আলাদা নির্দেশ ছিল।
- হাদিতে অংশগ্রহণের বিষয়টি এই বর্ণনায় স্পষ্টভাবে এসেছে।
