৪৭/১৬. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ২৫০৭ - পশু বণ্টন ও যবেহের নিয়ম

যে ব্যক্তি ভাগ করার সময় দশটি বকরীকে একটা উটের সমান মনে করে।

পশু বণ্টন, পালানো পশু ও যবেহের নিয়ম নিয়ে হাদিস

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫০৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبَايَةَ بْنِ رِفَاعَةَ، عَنْ جَدِّهِ، رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ بِذِي الْحُلَيْفَةِ مِنْ تِهَامَةَ، فَأَصَبْنَا غَنَمًا وَإِبِلاً، فَعَجِلَ الْقَوْمُ، فَأَغْلَوْا بِهَا الْقُدُورَ، فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَأَمَرَ بِهَا فَأُكْفِئَتْ، ثُمَّ عَدَلَ عَشْرًا مِنَ الْغَنَمِ بِجَزُورٍ، ثُمَّ إِنَّ بَعِيرًا نَدَّ وَلَيْسَ فِي الْقَوْمِ إِلاَّ خَيْلٌ يَسِيرَةٌ فَرَمَاهُ رَجُلٌ فَحَبَسَهُ بِسَهْمٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّ لِهَذِهِ الْبَهَائِمِ أَوَابِدَ كَأَوَابِدِ الْوَحْشِ، فَمَا غَلَبَكُمْ مِنْهَا فَاصْنَعُوا بِهِ هَكَذَا». قَالَ قَالَ جَدِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا نَرْجُو ـ أَوْ نَخَافُ ـ أَنْ نَلْقَى الْعَدُوَّ غَدًا وَلَيْسَ مَعَنَا مُدًى، فَنَذْبَحُ بِالْقَصَبِ فَقَالَ «اعْجَلْ أَوْ أَرْنِي، مَا أَنْهَرَ الدَّمَ وَذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ فَكُلُوا، لَيْسَ السِّنَّ وَالظُّفُرَ، وَسَأُحَدِّثُكُمْ عَنْ ذَلِكَ، أَمَّا السِّنُّ فَعَظْمٌ، وَأَمَّا الظُّفُرُ فَمُدَى الْحَبَشَةِ».

রাফি’ ইবনু খাদীজ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিহামার অন্তর্গত যুলহুলায়ফা নামক স্থানে আমরা নবী (ﷺ)-এর সাথে অবস্থান করছিলাম। সে সময় আমরা (গনীমতের অংশ হিসাবে) কিছু বকরী কিংবা উট পেয়ে গেলাম। সাহাবীগণ (অনুমতির অপেক্ষা না করেই) তাড়াহুড়া করে পাত্রে গোশত চড়িয়ে দিলেন। পরে রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) এসে পাত্রগুলো উল্টিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। (বন্টনকালে) প্রতি দশটি বকরীকে তিনি একটি উটের সমান ধার্য করলেন।ইতিমধ্যে একটি উট পালিয়ে গেল। সে সময় দলে ঘোড়ার সংখ্যাও ছিল খুব অল্প। তাই একজন তীর ছুঁড়ে সেটাকে আটকালেন। তখন রাসূলুল্লাহ্‌ (ﷺ) বললেন, দেখ পলায়নপর বন্য জন্তুদের মতো এই গৃহপালিত পশুগুলোর মধ্যেও কোন কোনটা পলায়নপর স্বভাব বিশিষ্ট। কাজেই সেগুলোর মধ্যে যেটা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠবে তার সাথে এরূপই করবে।[রাবী আবায়াহ (রহঃ)] বলেন, আমার দাদা বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা আশংকা করি; আগামীকাল হয়ত আমরা শত্রুর মুখোমুখী হব। আমাদের সাথে তো কোন ছুরি নেই। এমতাবস্থায় আমরা কি বাঁশের ধারালো কঞ্চি দিয়ে যবেহ করতে পারি? তিনি বললেন, যে রক্ত বের করে দেয় তা দিয়ে দ্রুত কর। যা আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে যবেহ হয়, তা তোমরা খেতে পার। তবে তা যেন দাঁত বা নখ না হয়। তোমাদের আমি এর কারণ বলছি, দাঁত তো হাড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।

সহীহ বুখারী হাদিস ২৫০৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাহাবীদের একটি সফরের ঘটনা এসেছে। তাঁরা কিছু বকরী ও উট পান। কেউ কেউ তাড়াহুড়া করে গোশত রান্না শুরু করেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এসে পাত্রগুলো উল্টে ফেলতে বলেন। এরপর বণ্টনের সময় দশটি বকরীকে একটি উটের সমান ধরা হয়। একটি উট পালিয়ে গেলে একজন তীর ছুঁড়ে তাকে আটকান। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, গৃহপালিত পশুর মধ্যেও কিছু পশু বন্য প্রাণীর মতো পালিয়ে যেতে পারে। এমন পশু নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের ব্যবস্থা করা যায়। পরে ছুরি না থাকলে বাঁশের ধারালো কঞ্চি দিয়ে যবেহ করা যাবে কি না জিজ্ঞেস করা হয়। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যা রক্ত বের করে এবং আল্লাহর নাম নিয়ে করা হয়, তা খাওয়া যাবে; তবে দাঁত ও নখ নয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বণ্টনের আগে অনুমতি ছাড়া গনীমতের পশু ব্যবহার করা ঠিক নয়।
  • পালানো পশু নিয়ন্ত্রণে বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
  • যবেহের সময় আল্লাহর নাম নেওয়া এবং রক্ত বের হওয়া জরুরি।
  • দাঁত ও নখ দিয়ে যবেহ না করার নির্দেশ এই হাদিসে এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন