২৫/১০৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৮৯ - কুরবানির উটে আরোহণের অনুমতি
কুরবানির উটের পিঠে আরোহণ করা। আল্লাহর বাণীঃ
﴾وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُمْ مِنْ شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ كَذَلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ لَنْ يَنَالَ اللَّهَ لُحُومُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلَكِنْ يَنَالُهُ التَّقْوَى مِنْكُمْ كَذَلِكَ سَخَّرَهَا لَكُمْ لِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَى مَا هَدَاكُمْ وَبَشِّرِ الْمُحْسِنِينَ﴿قَالَ مُجَاهِدٌ سُمِّيَتْ الْبُدْنَ لِبُدْنِهَا وَالْقَانِعُ السَّائِلُ وَالْمُعْتَرُّ الَّذِي يَعْتَرُّ بِالْبُدْنِ مِنْ غَنِيٍّ أَوْ فَقِيرٍ وَشَعَائِرُ اسْتِعْظَامُ الْبُدْنِ وَاسْتِحْسَانُهَا وَالْعَتِيقُ عُتُقُهُ مِنْ الْجَبَابِرَةِ وَيُقَالُ وَجَبَتْ سَقَطَتْ إِلَى الْأَرْضِ وَمِنْهُ وَجَبَتْ الشَّمْسُ“আর উটকে আমি করেছি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন, তোমাদের জন্য এতে রয়েছে মঙ্গল। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো অবস্থায় তাদের উপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর; তারপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং সাহায্য কর ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্তকে এবং যাচ্ঞাকারী অভাবগ্রস্তকেও। আমি এভাবে ঐ পশুগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি যেন তোমরা শোকর কর। আর আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত এবং না এগুলোর রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন যেন তোমরা আল্লাহর মহত্ত্ব ঘোষণা কর, যেহেতু তিনি তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন। সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মশীলদেরকে।” (আল-হজ্জ: ৩৬-৩৭)মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, কুরবানীর উটগুলোকে মোটা তাজা হওয়ার কারণে الْبُدْنَ বলা হয়, الْقَانِعُ অর্থাৎ যাচ্ঞাকারী, الْمُعْتَرُّ ঐ ব্যক্তি, যে ধনী হোক বা দরিদ্র, কুরবানীর উটের গোশত খাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়ায়। شَعَائِرُ অর্থাৎ কুরবানীর উটের প্রতি সম্মান করা এবং ভাল জানা। الْعَتِيقُ অর্থাৎ যালিমদের হতে মুক্ত হওয়া وَجَبَتْ অর্থ যমীনে লুটিয়ে পড়ে। এ অর্থেই হল وَجَبَتْ الشَّمْسُ অর্থ সূর্য অস্তমিত হয়েছে।"
কুরবানির উটে আরোহণ: প্রয়োজনের সময় সহজতার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৬৮৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬৮৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ رَأَى رَجُلاً يَسُوقُ بَدَنَةً فَقَالَ ارْكَبْهَا فَقَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ فَقَالَ ارْكَبْهَا قَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ ارْكَبْهَا وَيْلَكَ فِي الثَّالِثَةِ أَوْ فِي الثَّانِيَةِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হাঁকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, এ-তো কুরবানীর উট। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এর পিঠে সওয়ার হয়ে চল। এবারও লোকটি বলল, এ-তো কুরবানীর উট। এরপরও আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর, তোমার সর্বনাশ! এ কথাটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারে বলেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরবানির উট বা হাদির পশু নিয়ে একটি সহজ শিক্ষা আছে। আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) এক ব্যক্তিকে কুরবানির উট হাঁকিয়ে নিতে দেখেন। তিনি তাকে বলেন, উটের পিঠে আরোহণ কর। লোকটি মনে করল, কুরবানির পশু হওয়ায় হয়তো এতে ওঠা যাবে না। তাই সে বলল, এটি তো কুরবানির উট। নবী (صلى الله عليه وسلم) আবারও বলেন, এর পিঠে সওয়ার হয়ে চল। লোকটি একই কথা পুনরাবৃত্তি করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) আবারও তাকে আরোহণ করতে বলেন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, কুরবানির পশু সম্মানিত হলেও প্রয়োজনে তার পিঠে ওঠার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে হাদিসে শুধু এই ঘটনাটিই এসেছে; এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত শর্ত যোগ করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরবানির উট হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তার পিঠে ওঠার নির্দেশ এসেছে।
- লোকটি বারবার প্রশ্ন করলেও নবী (صلى الله عليه وسلم) একই নির্দেশ পুনরাবৃত্তি করেন।
- কুরবানির পশুর সম্মান থাকলেও প্রয়োজনের সহজতা বিবেচিত হয়েছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ বোঝার ক্ষেত্রে দ্বিধা হলে আবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে।
