২৫/৩৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৭২ - তামাত্তু হজ্জের পূর্ণ বিধান
মহান আল্লাহর বানী : তা (হজ্জে তামাত্তু‘) তাদের জন্য, যাদের পরিবার-পরিজন মাসজিদুল হারামের (সীমানার) মধ্যে বসবাস করে না। (আল-বাকারা : ১৯৬)
তামাত্তু হজ্জের পূর্ণ নিয়ম: উমরাহ, ইহরাম, দম ও সিয়াম
সহীহ বুখারী : ১৫৭২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৫৭২
وَقَالَ أَبُو كَامِلٍ فُضَيْلُ بْنُ حُسَيْنٍ الْبَصْرِيُّ حَدَّثَنَا أَبُو مَعْشَرٍ الْبَرَّاءُ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ غِيَاثٍ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّهُ سُئِلَ عَنْ مُتْعَةِ الْحَجِّ فَقَالَ أَهَلَّ الْمُهَاجِرُونَ وَالأَنْصَارُ وَأَزْوَاجُ النَّبِيِّ ﷺ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ وَأَهْلَلْنَا فَلَمَّا قَدِمْنَا مَكَّةَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اجْعَلُوا إِهْلاَلَكُمْ بِالْحَجِّ عُمْرَةً إِلاَّ مَنْ قَلَّدَ الْهَدْيَ فَطُفْنَا بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَأَتَيْنَا النِّسَاءَ وَلَبِسْنَا الثِّيَابَ وَقَالَ مَنْ قَلَّدَ الْهَدْيَ فَإِنَّهُ لاَ يَحِلُّ لَهُ {حَتَّى يَبْلُغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ} ثُمَّ أَمَرَنَا عَشِيَّةَ التَّرْوِيَةِ أَنْ نُهِلَّ بِالْحَجِّ فَإِذَا فَرَغْنَا مِنْ الْمَنَاسِكِ جِئْنَا فَطُفْنَا بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ فَقَدْ تَمَّ حَجُّنَا وَعَلَيْنَا الْهَدْيُ كَمَا قَالَ اللهُ تَعَالَى {فَمَا اسْتَيْسَرَ مِنْ الْهَدْيِ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةٍ إِذَا رَجَعْتُمْ} إِلَى أَمْصَارِكُمْ الشَّاةُ تَجْزِي فَجَمَعُوا نُسُكَيْنِ فِي عَامٍ بَيْنَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ فَإِنَّ اللهَ تَعَالَى أَنْزَلَهُ فِي كِتَابِهِ وَسَنَّهُ نَبِيُّهُ وَأَبَاحَهُ لِلنَّاسِ غَيْرَ أَهْلِ مَكَّةَ قَالَ اللهُ ﴾ذَلِكَ لِمَنْ لَمْ يَكُنْ أَهْلُهُ حَاضِرِي الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ﴿وَأَشْهُرُ الْحَجِّ الَّتِي ذَكَرَ اللهُ تَعَالَى فِي كِتَابهِ شَوَّالٌ وَذُو الْقَعْدَةِ وَذُو الْحَجَّةِ فَمَنْ تَمَتَّعَ فِي هَذِهِ الأَشْهُرِ فَعَلَيْهِ دَمٌ أَوْ صَوْمٌ وَالرَّفَثُ الْجِمَاعُ وَالْفُسُوقُ الْمَعَاصِي وَالْجِدَالُ الْمِرَاءُ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হজ্জে তামাত্তু’ সম্পর্কে তাঁর নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন, বিদায় হজ্জের বছর আনসার ও মুহাজির সাহাবীগণ, নবী-সহধর্মিণীগণ ইহ্রাম বাঁধলেন, আর আমরাও ইহ্রাম বাঁধলাম। আমরা মক্কায় পৌঁছুলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমরা হজ্জ-এর ইহ্রামকে ‘উমরায় পরিণত কর। তবে যারা কুরবানীর পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, তাদের কথা ব্যতিক্রম (তারা ইহ্রাম ভঙ্গ করতে পারবে না)। আমরা বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা মারওয়ার সা’য়ী করলাম। এরপর স্ত্রী-সহবাস করলাম এবং কাপড়-চোপড় পরিধান করলাম।নবী (ﷺ) বললেনঃ যে ব্যক্তি কুরবানীর জন্য উপস্থিত করার উদ্দেশে পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছে, পশু কুরবানীর স্থানে না পৌঁছা পর্যন্ত সে হালাল হতে পারে না। এরপর যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ বিকালে আমাদেরকে হজ্জ-এর ইহ্রাম বাঁধার নির্দেশ দেন। যখন আমরা হজ্জ-এর সকল কার্য শেষ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সা’য়ী করে অবসর হলাম, তখন আমাদের হজ্জ পূর্ণ হল এবং আমাদের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব হলো।যেমন মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন : “যার পক্ষে সম্ভব সে একটি কুরবানী করবে, আর যার পক্ষে সম্ভব নয় সে হজ্জ চলাকালে তিনটি সাওম পালন করবে এবং ফিরে এসে সাত দিন সাওম পালন করবে অর্থাৎ নিজ দেশে ফিরে”- (আল-বাকারা : ১৯৬)।একটি বকরীই দম হিসেবে কুরবানীর জন্য যথেষ্ট। একই বছরে সাহাবীগণ হজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে আদায় করলেন। আল্লাহ তাঁর কোরআনে এ বিধান নাযিল করেছেন এবং নবী (ﷺ) এ তরীকা জারী করেছেন আর মক্কাবাসী ব্যতীত অন্যদের জন্য তা বৈধ করেছেন।আল্লাহ ইরশাদ করেন : “(হজ্জে তামাত্তু’) তাদের জন্য, যাদের পরিবার-পরিজন মাসজিদে হারামের (হারামের সীমার) মধ্যে বাস করে না” – (আল-বাকারা : ১৯৬)।আল্লাহ তাঁর কোরআনে হজ্জের যে মাসগুলোর কথা উল্লেখ করেছেন তা হলো : শাওয়াল, যিলক্বাদ ও যিলহজ্জ। যারা এ মাসগুলোতে তামাত্তু’ হজ্জ করবে তাদের অবশ্য দম দিতে হবে অথবা সাওম পালন করতে হবে। الرَّفَثُ অর্থ স্ত্রী সহবাস, الْفُسُوقُ অর্থ গুনাহ, الْجِدَالُ অর্থ বিবাদ।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজ্জে তামাত্তু সম্পর্কে বিস্তৃত বর্ণনা এসেছে। ইবন আব্বাস (রাঃ) বলেন, বিদায় হজ্জে আনসার, মুহাজির, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সহধর্মিণীগণ এবং অন্যরা ইহরাম বাঁধেন। মক্কায় পৌঁছার পর নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের হজ্জের ইহরামকে উমরাহতে পরিণত করতে বলেন। তবে যারা কুরবানির পশুর গলায় মালা ঝুলিয়েছিল, তারা এর ব্যতিক্রম। সাহাবীরা তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করেন, এরপর হালাল হন। যিলহজ্জের আট তারিখ বিকালে তাঁদের আবার হজ্জের ইহরাম বাঁধতে বলা হয়। হজ্জের কাজ শেষ হলে তাওয়াফ ও সাঈ করে হজ্জ পূর্ণ হয়। বর্ণনায় কুরবানি, না পারলে হজ্জে তিন দিন এবং ফিরে এসে সাত দিন সিয়ামের কথাও এসেছে। এখানে তামাত্তু হজ্জ, দম, সিয়াম, হজ্জের মাস এবং মক্কাবাসী ব্যতীত অন্যদের বিধান পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তামাত্তু হজ্জে প্রথমে উমরাহ শেষ করে হালাল হওয়ার বিষয়টি এসেছে।
- যিলহজ্জের আট তারিখে আবার হজ্জের ইহরাম বাঁধার নির্দেশ আছে।
- তামাত্তু করলে সামর্থ্য অনুযায়ী কুরবানি, না পারলে সিয়ামের বিধান এসেছে।
- হজ্জের মাস হিসেবে শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজের কথা বর্ণনায় এসেছে।
