২৫/১৫১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৭২ - তানঈম থেকে উমরা ও সফিয়্যার রওনা
মুহাসসাব হতে শেষ রাতে যাত্রা করা।
তানঈম থেকে উমরা ও ঋতুবতী নারীর রওনার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৭৭২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৭২
قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَزَادَنِي مُحَمَّدٌ حَدَّثَنَا مُحَاضِرٌ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ ﷺ لاَ نَذْكُرُ إِلاَّ الْحَجَّ فَلَمَّا قَدِمْنَا أَمَرَنَا أَنْ نَحِلَّ فَلَمَّا كَانَتْ لَيْلَةُ النَّفْرِ حَاضَتْ صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَيٍّ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ حَلْقَى عَقْرَى مَا أُرَاهَا إِلاَّ حَابِسَتَكُمْ ثُمَّ قَالَ كُنْتِ طُفْتِ يَوْمَ النَّحْرِ قَالَتْ نَعَمْ قَالَ فَانْفِرِي قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ إِنِّي لَمْ أَكُنْ حَلَلْتُ قَالَ فَاعْتَمِرِي مِنْ التَّنْعِيمِ فَخَرَجَ مَعَهَا أَخُوهَا فَلَقِينَاهُ مُدَّلِجًا فَقَالَ مَوْعِدُكِ مَكَانَ كَذَا وَكَذَا
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। হজ আদায় করাই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। আমরা (মক্কায়) আসলাম, তখন আমাদের হালাল হওয়ার নির্দেশ দেন। অতঃপর প্রত্যাবর্তনের রাত এলে সাফিয়্যাহ বিন্তু হুয়াই (রাঃ) এর ঋতু আরম্ভ হল। নবী (ﷺ) ‘হালকা’ ‘আকরা’, বলে বিরক্তি প্রকাশ করে বললেনঃ আমার ধারণা, সে তোমাদের আটকিয়েই ফেলবে। অতঃপর বললেনঃ তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? সাফিয়্যাহ (রাঃ) বললেনঃ হ্যাঁ। তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তবে চল।আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আমি তো (‘উমরা আদায় করে) হালাল হইনি। তিনি বললেনঃ তাহলে এখন তুমি তান’ঈম হতে ‘উমরাহ আদায় করে নাও। অতঃপর তাঁর সঙ্গে তাঁর ভাই [‘আব্দুর রাহমান ইব্নু আবূ বক্র (রাঃ)] গেলেন। ‘আয়েশা (রাঃ) বলেন, (‘উমরা আদায় করার পর) নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়, যখন তিনি শেষ রাতে (বিদায়ী তাওয়াফের জন্য) যাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেনঃ অমুক স্থানে তোমরা সাক্ষাৎ করবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি সম্পর্কিত ঘটনা এসেছে। প্রথমে বলা হয়েছে, তাঁরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হন। মক্কায় এসে হালাল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে রওনার রাতে সাফিয়্যা বিনতু হুয়াই (রাঃ)-এর ঋতু শুরু হলে নবী صلى الله عليه وسلم মনে করলেন তিনি হয়তো সবাইকে আটকে দেবেন। এরপর জিজ্ঞেস করা হলো, তিনি কুরবানির দিন তাওয়াফ করেছেন কি না। তিনি হ্যাঁ বললে নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে রওনা হতে বলেন। এরপর আয়েশা (রাঃ) জানান, তিনি হালাল হননি। তখন নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে তানঈম থেকে উমরা করতে বলেন এবং তাঁর ভাই সঙ্গে যান। এখানে তানঈম থেকে উমরা, হজ্জে নারী, তাওয়াফ ও সহজতার শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তানঈম থেকে উমরা করার নির্দেশের বর্ণনা পাওয়া যায়।
- কুরবানির দিনের তাওয়াফ হয়ে গেলে সাফিয়্যা (রাঃ)-কে রওনা হতে বলা হয়েছে।
- হজ্জে ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধানে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশই অনুসরণীয়।
- নারীদের হজ্জের অবস্থাকে বাস্তবভাবে বিবেচনা করা হয়েছে।
