২৫/১৪৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৬২ - ঋতুবতী নারীর হজ্জ ও উমরার শিক্ষা
তাওয়াফে জিয়ারতের পর কোন স্ত্রী লোকের ঋতু আসলে।
ঋতুবতী নারীর হজ্জ ও তানঈম থেকে উমরার ঘটনা
সহীহ বুখারী : ১৭৬২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৬২
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ عَنْ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ خَرَجْنَا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ وَلاَ نَرَى إِلاَّ الْحَجَّ فَقَدِمَ النَّبِيُّ ﷺ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَبَيْنَ الصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَلَمْ يَحِلَّ وَكَانَ مَعَهُ الْهَدْيُ فَطَافَ مَنْ كَانَ مَعَهُ مِنْ نِسَائِهِ وَأَصْحَابِهِ وَحَلَّ مِنْهُمْ مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ الْهَدْيُ فَحَاضَتْ هِيَ فَنَسَكْنَا مَنَاسِكَنَا مِنْ حَجِّنَا فَلَمَّا كَانَ لَيْلَةَ الْحَصْبَةِ لَيْلَةُ النَّفْرِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ كُلُّ أَصْحَابِكَ يَرْجِعُ بِحَجٍّ وَعُمْرَةٍ غَيْرِي قَالَ مَا كُنْتِ تَطُوفِينَ بِالْبَيْتِ لَيَالِيَ قَدِمْنَا قُلْتُ لاَ قَالَ فَاخْرُجِي مَعَ أَخِيكِ إِلَى التَّنْعِيمِ فَأَهِلِّي بِعُمْرَةٍ وَمَوْعِدُكِ مَكَانَ كَذَا وَكَذَا فَخَرَجْتُ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ إِلَى التَّنْعِيمِ فَأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ وَحَاضَتْ صَفِيَّةُ بِنْتُ حُيَيٍّ فَقَالَ النَّبِيُّ عَقْرَى حَلْقَى إِنَّكِ لَحَابِسَتُنَا أَمَا كُنْتِ طُفْتِ يَوْمَ النَّحْرِ قَالَتْ بَلَى قَالَ فَلاَ بَأْسَ انْفِرِي فَلَقِيتُهُ مُصْعِدًا عَلَى أَهْلِ مَكَّةَ وَأَنَا مُنْهَبِطَةٌ أَوْ أَنَا مُصْعِدَةٌ وَهُوَ مُنْهَبِطٌ وَقَالَ مُسَدَّدٌ قُلْتُ لاَ تَابَعَهُ جَرِيرٌ عَنْ مَنْصُورٍ فِي قَوْلِهِ لاَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে বের হলাম। হজই ছিল আমাদের উদ্দেশ্য। নবী (ﷺ) মক্কায় পৌঁছে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা ও মারওয়ার সা’য়ী করলেন। তবে ইহ্রাম খুলেনি। তাঁর সঙ্গে কুরবানীর জানওয়ার ছিল। তাঁর সহধর্মিণী ও সাহাবীগণের মধ্যে যারা তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁরাও তাওয়াফ করলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিলনা, তাঁরা হালাল হয়ে গেলেন। এরপর ‘আয়েশা (রাঃ) ঋতুবর্তী হয়ে পড়লেও(বর্ণনাকারী) বলেন) আমরা হজের সমুদয় হুকুম-আহকাম আদায় করলাম।এরপর যখন লায়লাতুল –হাসবা অর্থাৎ রওয়ানা হওয়ার রাত হল, তখন তিনি বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমি ব্যতীত আপনার সকল সাহাবীতো হজ ও উমরাহ করে ফিরেছেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আমরা যে রাতে এসেছি সে রাতে তুমি কি বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করনি? আমি বললাম, না। অতঃপর তিনি বললেনঃ তুমি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে তান’ঈম(নামক স্থানে) চলে যাও এবং সেখান হতে উমরাহ’র ইহ্রাম বেঁধে নাও। আর অমুক অমুক স্থানে তোমার সঙ্গে সাক্ষাতের ওয়াদা থাকল।‘আয়েশা (রাঃ) বলেন, এরপর আমি আব্দুর রাহমান (রাঃ)-এর সাথে তান’ঈম এর দিকে গেলাম এবং উমরাহর ইহ্রাম বাঁধলাম। আর সাফিয়্যা বিনতে হুয়াই (রাঃ)-এর ঋতু দেখা দিল। নবী (ﷺ) তা শুনে বিরক্ত হয়ে বলেনঃ তুমিতো আমাদেরকে আটকিয়ে ফেললে। তুমি কি কুরবানীর দিন তাওয়াফ করেছিলে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নবী (ﷺ) বললেন তাহলে কোন বাধা নেই, রওয়ানা হও। [আয়েশা (রাঃ) বলেন] আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে মিলিত হলাম। এমতাবস্থায় যে, তিনি মক্কার উপরের দিকে উঠছিলেন, আর আমি নিচের দিকে নামছিলাম। অথবা আমি উঠছিলাম আর তিনি নামছিলেন।মুসাদ্দাস(রহঃ)-এর বর্ণনায় এ হাদীসে(হ্যাঁ)-এর পরিবর্তে ‘লা’ (না) রয়েছে। রাবী জারীর (রহঃ) মনসূর (রহঃ) হতে এ হাদীস বর্ণনায় মুসাদ্দাদ(রহঃ)-এর অনুরূপ ‘লা’ (না) বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে আয়েশা (রাঃ)-এর হজ্জের একটি বাস্তব ঘটনা এসেছে। তাঁরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সঙ্গে হজ্জের উদ্দেশ্যে বের হন। মক্কায় এসে তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সাঈ করা হয়। আয়েশা (রাঃ) ঋতুবতী হয়ে পড়ায় তিনি শুরুতে উমরার কাজ করতে পারেননি। পরে রওনার রাতে তিনি তাঁর অবস্থা জানালে নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে ভাই আবদুর রহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে তানঈমে গিয়ে উমরার ইহরাম বাঁধতে বলেন। একই হাদিসে সাফিয়্যা (রাঃ)-এর ঋতু শুরু হওয়ার ঘটনাও আছে। তিনি কুরবানির দিন তাওয়াফ করে থাকলে নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে রওনা হতে বলেন। এতে হজ্জে নারী, ঋতু, তাওয়াফ, উমরা ও সহজতার শিক্ষা স্পষ্ট হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋতুবতী নারীর জন্য হজ্জের কাজে অবস্থাভেদে সহজতা রাখা হয়েছে।
- তাওয়াফ হয়ে গেলে রওনার ক্ষেত্রে বাধা না থাকার বিষয়টি হাদিসে এসেছে।
- উমরা আদায়ের জন্য তানঈম থেকে ইহরাম বাঁধার ঘটনা এখানে পাওয়া যায়।
- হজ্জের সমস্যায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ অনুযায়ী সমাধান নেওয়া উচিত।
