২৬/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৮২ - রমজানে উমরার ফজিলত
রমজান মাসে উমরা আদায় করা।
রমজানে উমরা: হজের সমতুল্য ফজিলতের হাদিস
সহীহ বুখারী : ১৭৮২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৮২
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ يُخْبِرُنَا يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لاِمْرَأَةٍ مِنَ الأَنْصَارِ سَمَّاهَا ابْنُ عَبَّاسٍ، فَنَسِيتُ اسْمَهَا «مَا مَنَعَكِ أَنْ تَحُجِّي مَعَنَا». قَالَتْ كَانَ لَنَا نَاضِحٌ فَرَكِبَهُ أَبُو فُلاَنٍ وَابْنُهُ ـ لِزَوْجِهَا وَابْنِهَا ـ وَتَرَكَ نَاضِحًا نَنْضَحُ عَلَيْهِ قَالَ «فَإِذَا كَانَ رَمَضَانُ اعْتَمِرِي فِيهِ فَإِنَّ عُمْرَةً فِي رَمَضَانَ حَجَّةٌ ". أَوْ نَحْوًا مِمَّا قَالَ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) এক আনসারী মহিলাকে বললেনঃ আমাদের সঙ্গে হজ্জ করতে তোমার বাধা কিসের? ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) মহিলার নাম বলেছিলেন কিন্তু আমি ভুলে গিয়েছি। মহিলা বলল, আমাদের একটি পানি বহনকারী উট ছিল। কিন্তু তাতে অমুকের পিতা ও তার পুত্র (অর্থাৎ মহিলার স্বামী ও ছেলে) আরোহণ করে চলে গেছেন। আর আমাদের জন্য রেখে গেছেন পানি বহনকারী আরেকটি উট যার দ্বারা আমরা পানি বহন করে থাকি। নবী (ﷺ) বললেনঃ আচ্ছা, রমযান এলে তখন ‘উমরা করে নিও। কেননা, রমযানের একটি ‘উমরা একটি হজ্জের সমতুল্য। অথবা এরূপ কোন কথা তিনি বলেছিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজানে উমরার ফজিলত খুব সুন্দরভাবে এসেছে। এক আনসারী মহিলা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে হজে যেতে পারেননি। কারণ তাঁদের পরিবারের বাহনের সীমাবদ্ধতা ছিল। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে দোষারোপ না করে সহজ পথ দেখালেন। তিনি বললেন, রমজান এলে উমরা করে নিও; কারণ রমজানের একটি উমরা একটি হজের সমতুল্য। এখানে মূল বিষয় হলো, অক্ষমতা বা বাস্তব বাধা থাকলে ইসলাম মানুষের অবস্থা বোঝে। একই সঙ্গে রমজানে উমরার বিশেষ মর্যাদাও বোঝা যায়। তবে হাদিসের ভাষা অনুযায়ী এটি ফজিলতের কথা; হজের ফরজ দায়িত্ব বাদ দেওয়ার অনুমতি হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাস্তব বাধা থাকলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সহজ ও সুন্দর পরামর্শ দিতেন।
- রমজানে উমরার বিশেষ ফজিলত হাদিসে স্পষ্টভাবে এসেছে।
- ইবাদতে মানুষের সামর্থ্য ও অবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
