২৬/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৮৩ - ঋতুবতী নারীর হজ ও উমরা
মুহাসসাবের রাত্রিতে ও অন্য সময়ে উমরা আদায় করা।
ঋতুবতী নারীর হজ ও তানঈম থেকে উমরার নির্দেশ
সহীহ বুখারী : ১৭৮৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৮৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مُوَافِينَ لِهِلاَلِ ذِي الْحَجَّةِ فَقَالَ لَنَا «مَنْ أَحَبَّ مِنْكُمْ أَنْ يُهِلَّ بِالْحَجِّ فَلْيُهِلَّ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يُهِلَّ بِعُمْرَةٍ فَلْيُهِلَّ بِعُمْرَةٍ، فَلَوْلاَ أَنِّي أَهْدَيْتُ لأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ».قَالَتْ فَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ، وَمِنَّا مَنْ أَهَلَّ بِحَجٍّ، وَكُنْتُ مِمَّنْ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ، فَأَظَلَّنِي يَوْمُ عَرَفَةَ، وَأَنَا حَائِضٌ، فَشَكَوْتُ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ «ارْفُضِي عُمْرَتَكِ، وَانْقُضِي رَأْسَكِ وَامْتَشِطِي، وَأَهِلِّي بِالْحَجِّ ". فَلَمَّا كَانَ لَيْلَةُ الْحَصْبَةِ أَرْسَلَ مَعِي عَبْدَ الرَّحْمَنِ إِلَى التَّنْعِيمِ، فَأَهْلَلْتُ بِعُمْرَةٍ مَكَانَ عُمْرَتِي.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর সঙ্গে রওয়ানা হলাম যখন যুলহজ্জ আগত প্রায়। তখন তিনি আমাদের বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যে হজ্জের ইহরাম বাঁধতে চায়, সে যেন হজ্জের ইহরাম বেঁধে নেয়। আর যে ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধতে চায় সে যেন ‘উমরা’র ইহরাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই আমি ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধতাম।‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ ‘উমরা’র ইহরাম বাঁধলেন, আবার কেউ হজ্জের। যারা ‘উমরা’র ইহ্রাম বেঁধেছিলেন, আমি তাঁদের একজন। ‘আরাফার দিন এল, তখন আমি ঋতুবতী ছিলাম। নবী (ﷺ) -এর নিকট তা জানালাম। তিনি বললেনঃ ‘উমরা ছেড়ে দাও এবং মাথার বেণী খুলে মাথা আঁচড়িয়ে নাও। অতঃপর হজ্জের ইহরাম বাঁধ। যখন মুহাসসাবের রাত হল, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমার সঙ্গে (আমার ভাই) ‘আবদুর রহমানকে তান‘ঈমে পাঠালেন এবং আমি ছেড়ে দেয়া ‘উমরা’র স্থলে নতুনভাবে ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধলাম।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ)-এর হজ ও উমরার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। যুলহজ্জ মাস আসন্ন হলে সাহাবীরা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে রওয়ানা হন। কেউ হজের ইহরাম বাঁধেন, কেউ উমরার। আয়েশা (রাঃ) উমরার ইহরাম বেঁধেছিলেন, কিন্তু আরাফার দিন তিনি ঋতুবতী অবস্থায় ছিলেন। তিনি নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-কে বিষয়টি জানালে নবীজি তাঁকে উমরা ছেড়ে হজের ইহরাম বাঁধতে বলেন। পরে মুহাস্সাবের রাতে তাঁকে আবদুর রহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে তানঈমে পাঠানো হয় এবং তিনি আগের উমরার বদলে নতুন উমরা করেন। এই হাদিসে হজের সময় নারীর বিশেষ অবস্থায় নবীজির বাস্তব নির্দেশনা দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঋতুবতী অবস্থায় আয়েশা (রাঃ)-কে হজের ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
- হারিয়ে যাওয়া বা ছেড়ে দেওয়া উমরার বদলে পরে উমরা করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) মানুষের অবস্থা বুঝে স্পষ্ট ও সহজ নির্দেশ দিতেন।
