৩০/১৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯১৫ - সাহরি ও রাতের বৈধতার বিধান
মহান আল্লাহর বাণী :
﴾أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ هُنَّ لِبَاسٌ لَكُمْ وَأَنْتُمْ لِبَاسٌ لَهُنَّ عَلِمَ اللَّهُ أَنَّكُمْ كُنْتُمْ تَخْتَانُونَ أَنْفُسَكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ وَعَفَا عَنْكُمْ فَالْآنَ بَاشِرُوهُنَّ وَابْتَغُوا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ﴿“তোমাদের জন্য বৈধ করা হয়েছে সিয়ামের রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক। আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের সাথে প্রতারণা করছিলে। সুতরাং তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করলেন এবং তোমাদের অব্যাহতি দিলেন। অতএব, এখন থেকে তোমরা তাদের সাথে সহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা কিছু বিধিবদ্ধ করেছেন তা কামনা কর।” (আল-বাকারা: ১৮৭)"
সাওমের রাতে পানাহার ও সাহরির সময়ের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৯১৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৯১৫
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ بْنُ مُوسَى عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ الْبَرَاءِ قَالَ كَانَ أَصْحَابُ مُحَمَّدٍ إِذَا كَانَ الرَّجُلُ صَائِمًا فَحَضَرَ الإِفْطَارُ فَنَامَ قَبْلَ أَنْ يُفْطِرَ لَمْ يَأْكُلْ لَيْلَتَهُ وَلاَ يَوْمَهُ حَتَّى يُمْسِيَ وَإِنَّ قَيْسَ بْنَ صِرْمَةَ الأَنْصَارِيَّ كَانَ صَائِمًا فَلَمَّا حَضَرَ الإِفْطَارُ أَتَى امْرَأَتَهُ فَقَالَ لَهَا أَعِنْدَكِ طَعَامٌ قَالَتْ لاَ وَلَكِنْ أَنْطَلِقُ فَأَطْلُبُ لَكَ وَكَانَ يَوْمَهُ يَعْمَلُ فَغَلَبَتْهُ عَيْنَاهُ فَجَاءَتْهُ امْرَأَتُهُ فَلَمَّا رَأَتْهُ قَالَتْ خَيْبَةً لَكَ فَلَمَّا انْتَصَفَ النَّهَارُ غُشِيَ عَلَيْهِ فَذُكِرَ ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ ﷺفَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ {أُحِلَّ لَكُمْ لَيْلَةَ الصِّيَامِ الرَّفَثُ إِلَى نِسَائِكُمْ﴿ فَفَرِحُوا بِهَا فَرَحًا شَدِيدًا وَنَزَلَتْ ﴾وَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يَتَبَيَّنَ لَكُمْ الْخَيْطُ الأَبْيَضُ مِنْ الْخَيْطِ الأَسْوَدِ﴿
বারা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর সাহাবীগণের অবস্থা এই ছিল যে, যদি তাঁদের কেউ সাওম পালন করতেন তাহলে ইফ্তারের সময় হলে ইফ্তার না করে নিদ্রা গেলে সে রাত্রে এবং পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খেতেন না। কায়স ইব্নু সিরমা আনসারী (রাঃ) সাওম করেছিলেন। ইফ্তারের সময় তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট এসে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু খাবার আছে কি? তিনি বললেন, না, তবে আমি যাচ্ছি, দেখি আপনার জন্য কিছু খোঁজ করে আনি। তিনি দিনে কাজে নিয়োজিত থাকতেন। তাই ঘুমে তাঁর দু’চোখ বুজে গেল।এরপর তাঁর স্ত্রী এসে যখন তাঁকে দেখলেন, তখন তাঁকে বললেন, হায়, তুমি বঞ্চিত হয়ে গেলে! পরদিন দুপুর হলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। এ ঘটনাটি নবী (ﷺ)-এর নিকট উল্লেখ করা হলে কোরআনের এ আয়াত অবতীর্ণ হয়- “সিয়ামের রাতে তোমাদের স্ত্রী সম্ভোগ হালাল করা হয়েছে”- (আল-বাকারাহ্: ১৮৭)। এর হুকুম সম্বন্ধে অবহিত হয়ে সাহাবীগণ খুবই খুশি হলেন।এরপর নাযিল হলঃ “আর তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ না কাল রেখা থেকে ভোরের সাদা রেখা পরিষ্কার দেখা যায়”- (আল-বাকারাহ্: ১৮৭)।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৯১৫-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: সাহরি। এই হাদিসে সাহাবীদের একটি ঘটনা এসেছে। আগে তাঁদের মধ্যে এমন অবস্থা ছিল যে কেউ রোজা রেখে ইফতারের আগে ঘুমিয়ে গেলে সে রাত এবং পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছু খেত না। কাইস ইবন সিরমা আনসারী (রাঃ) এমন অবস্থায় কষ্ট পান এবং পরদিন দুপুরে অজ্ঞান হয়ে যান। ঘটনাটি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বলা হলে কুরআনের আয়াত নাজিল হয়, যাতে সাওমের রাতে স্ত্রীদের সঙ্গে সম্পর্কের বৈধতা এবং ফজরের সাদা রেখা স্পষ্ট হওয়া পর্যন্ত পানাহারের অনুমতি জানানো হয়। এতে সাহাবীরা খুব খুশি হন। হাদিসটি রোজার রাতে আল্লাহর সহজ বিধান ও সাহরির সময় বুঝতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাওমের রাতে পানাহারের অনুমতি কুরআনের আয়াতে স্পষ্ট হয়েছে।
- ফজর স্পষ্ট হওয়ার আগ পর্যন্ত খাওয়া-পানার সময় আছে।
- সাহাবীরা বিধান জানার পর আনন্দিত হয়েছিলেন।
- ইসলামী বিধান মানুষের কষ্ট লাঘবের দিকও দেখায়।
