৩০/৩২. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৪০ - সায়েমের শিঙ্গা ও দুর্বলতার আশঙ্কা

সায়িমের সিঙ্গা লাগানো বা বমি করা।

وَقَالَ لِي يَحْيَى بْنُ صَالِحٍ حَدَّثَنَا مُعَاوِيَةُ بْنُ سَلَّامٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُمَرَ بْنِ الْحَكَمِ بْنِ ثَوْبَانَ سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ ؓ إِذَا قَاءَ فَلَا يُفْطِرُ إِنَّمَا يُخْرِجُ وَلَا يُولِجُ وَيُذْكَرُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّهُ يُفْطِرُ وَالْأَوَّلُ أَصَحُّ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ وَعِكْرِمَةُ الصَّوْمُ مِمَّا دَخَلَ وَلَيْسَ مِمَّا خَرَجَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عنهما يَحْتَجِمُ وَهُوَ صَائِمٌ ثُمَّ تَرَكَهُ فَكَانَ يَحْتَجِمُ بِاللَّيْلِ وَاحْتَجَمَ أَبُو مُوسَى لَيْلًا وَيُذْكَرُ عَنْ سَعْدٍ وَزَيْدِ بْنِ أَرْقَمَ وَأُمِّ سَلَمَةَ احْتَجَمُوا صِيَامًا وَقَالَ بُكَيْرٌ عَنْ أُمِّ عَلْقَمَةَ كُنَّا نَحْتَجِمُ عِنْدَ عَائِشَةَ فَلَا تَنْهَى وَيُرْوَى عَنْ الْحَسَنِ عَنْ غَيْرِ وَاحِدٍ مَرْفُوعًا فَقَالَ أَفْطَرَ الْحَاجِمُ وَالْمَحْجُومُ وَقَالَ لِي عَيَّاشٌ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْأَعْلَى حَدَّثَنَا يُونُسُ عَنْ الْحَسَنِ مِثْلَهُ قِيلَ لَهُ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ نَعَمْ ثُمَّ قَالَ اللَّهُ أَعْلَمُইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ইয়াহইয়া ইবন সালিহ (রহঃ) আমাকে বলেছেন...আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, বমি করলে সওম ভঙ্গ হয় না। কেননা এতে কিছু বের হয়, ভিতরে প্রবেশ করে না। আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে এও বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, সওম ভঙ্গ হয়ে যাবে। প্রথম উক্তিটি বেশি সহীহ। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) এবং ‘ইকরিমা (রহঃ) বলেন, কোনো কিছু ভিতরে প্রবেশ করলে সওম নষ্ট হয়; কিন্তু বের হওয়ার কারণে নয়।ইবন ‘উমার (রাঃ) সায়িম অবস্থায় শিঙ্গা লাগাতেন। অবশ্য পরবর্তী সময় তিনি দিনে শিঙ্গা লাগানো ছেড়ে দিয়ে রাতে শিঙ্গা লাগাতেন। আবূ মূসা (রাঃ) রাতে শিঙ্গা লাগিয়েছেন। সা‘ঈদ, যায়দ ইবন আরকাম এবং উম্মু সালামা (রাঃ) সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, তাঁরা সকলেই সওম পালনকারী অবস্থায় শিঙ্গা লাগাতেন। বুকাইর (রহঃ) উম্মু ‘আলকামা (রহঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, আমরা ‘আয়িশা (রাঃ)-এর সামনে শিঙ্গা লাগাতাম, তিনি আমাদের নিষেধ করতেন না।হাসান (রহঃ) হতে একাধিক রাবী সূত্রে মারফূ হাদীসে আছে যে, শিঙ্গা প্রয়োগকারী এবং গ্রহণকারী উভয়ের সওমই নষ্ট হয়ে যাবে। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশা (রহঃ) হাসান (রহঃ) হতে আমার নিকট অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, এ কি নবী হতে বর্ণিত? তিনি বললেন, হাঁ। অতঃপর তিনি বললেন, আল্লাহই সবচেয়ে অধিক জানেন।"

সায়েমের শিঙ্গা: অপছন্দের কারণ ছিল দুর্বলতা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৯৪০

حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ سَمِعْتُ ثَابِتًا الْبُنَانِيَّ قَالَ سُئِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ أَكُنْتُمْ تَكْرَهُونَ الْحِجَامَةَ لِلصَّائِمِ قَالَ لاَ إِلاَّ مِنْ أَجْلِ الضَّعْفِ وَزَادَ شَبَابَةُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ ﷺ

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ)-কে প্রশ্ন করা হল, আপনারা কি সায়িমের শিঙ্গা লাগানো (রক্তমোক্ষম) অপছন্দ করতেন? তিনি বললেন, না। তবে দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে অপছন্দ করতাম। শাবাবা (রহঃ) শু’বাহ (রহঃ) হতে عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ ‘নবী (ﷺ)-এর যুগে’ কথাটি অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৯৪০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আনাস ইবনু মালিক (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হয়, তাঁরা কি সায়েম ব্যক্তির শিঙ্গা লাগানো অপছন্দ করতেন। তিনি বলেন, না; তবে দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণে অপছন্দ করতেন। অন্য বর্ণনায় নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে কথাটি অতিরিক্ত এসেছে। এই বর্ণনা সাওমে শিঙ্গা বা হিজামার বিষয়টি খুব বাস্তবভাবে বুঝতে সাহায্য করে। এখানে অপছন্দের কারণ হিসেবে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার কথা এসেছে, সরাসরি অন্য কোনো কারণ বলা হয়নি। তাই ব্যাখ্যায় সতর্ক থাকা দরকার। রোজাদারের জন্য শরীরের শক্তি, ইবাদতের সামর্থ্য এবং ক্ষতি এড়ানোর দিক বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসটি সংযম ও নিজের অবস্থার খেয়াল রাখার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সায়েমের শিঙ্গা লাগানো অপছন্দের মূল কারণ হিসেবে দুর্বলতার কথা এসেছে।
  • আনাস (রাঃ) সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।
  • রোজাদারের শরীর দুর্বল হয়ে গেলে সতর্কতা দরকার।
  • কোনো আমল বোঝার সময় হাদিসে বলা কারণকে গুরুত্ব দিতে হয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন