৩৩/১৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২০৪৫ - ইতিকাফে নেক উদ্দেশ্যের গুরুত্ব
ইতিকাফ করার সংকল্প করে পরে কোন কারণবশত তা হতে বেরিয়ে যাওয়া।
রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ: নেক উদ্দেশ্য আগে
সহীহ বুখারী : ২০৪৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২০৪৫
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ أَبُو الْحَسَنِ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَتْنِي عَمْرَةُ بِنْتُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ ذَكَرَ أَنْ يَعْتَكِفَ الْعَشْرَ الأَوَاخِرَ مِنْ رَمَضَانَ، فَاسْتَأْذَنَتْهُ عَائِشَةُ فَأَذِنَ لَهَا، وَسَأَلَتْ حَفْصَةُ عَائِشَةَ أَنْ تَسْتَأْذِنَ لَهَا فَفَعَلَتْ فَلَمَّا رَأَتْ ذَلِكَ زَيْنَبُ ابْنَةُ جَحْشٍ أَمَرَتْ بِبِنَاءٍ فَبُنِيَ لَهَا قَالَتْ وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِذَا صَلَّى انْصَرَفَ إِلَى بِنَائِهِ فَبَصُرَ بِالأَبْنِيَةِ فَقَالَ «مَا هَذَا». قَالُوا بِنَاءُ عَائِشَةَ وَحَفْصَةَ وَزَيْنَبَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " آلْبِرَّ أَرَدْنَ بِهَذَا مَا أَنَا بِمُعْتَكِفٍ». فَرَجَعَ، فَلَمَّا أَفْطَرَ اعْتَكَفَ عَشْرًا مِنْ شَوَّالٍ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করার ইচ্ছে প্রকাশ করলে ‘আয়িশা (রাঃ) তাঁর কাছে ইতিকাফ করার অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। এরপর হাফসা (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ) এর নিকট অনুমতি চাইলে তিনি তাঁকে অনুমতি দিলেন। তা দেখে যায়নাব বিনতু জাহশ (রাঃ) নিজের জন্য তাঁবু লাগানোর নির্দেশ দিলে তা পালন করা হল।‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) ফজরের সালাত আদায় করে নিজের তাঁবুতে ফিরে এসে কয়েকটি তাঁবু দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেনঃ এ কী ব্যাপার? লোকেরা বলল, ‘আয়িশা, হাফসা, যায়নাব (রাঃ)- এর তাঁবু। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তাঁরা কি নেকী পেতে চায়? আমি আর ইতিকাফ করবো না। এরপর তিনি ফিরে আসলেন। পরে সাওম শেষ করে শাওয়াল মাসের দশ দিন ইতিকাফ করেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২০৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করার ইচ্ছা, অনুমতি চাওয়া এবং কয়েকটি তাঁবু স্থাপনের ঘটনা এসেছে। আয়িশা (রাঃ) অনুমতি পান, এরপর হাফসা (রাঃ)-এর জন্যও অনুমতি নেওয়া হয়, আর যায়নাব (রাঃ) নিজের জন্য তাঁবু বানানোর নির্দেশ দেন। ফজরের সালাতের পর নবী (صلى الله عليه وسلم) কয়েকটি তাঁবু দেখে জানতে চান, এগুলো কী। তাঁকে জানানো হলে তিনি বলেন, তারা কি নেকী পেতে চায়? তারপর তিনি সে রমজানে ইতিকাফ করেননি; পরে শাওয়ালে দশ দিন ইতিকাফ করেন। এই হাদিসে ইতিকাফের মূল দিকটি খুব পরিষ্কার: ইবাদতের কাজ হলেও নিয়ত ও ভেতরের অবস্থা ঠিক থাকা দরকার। শুধু আমলের ছবি দেখা যথেষ্ট নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইতিকাফে নেক উদ্দেশ্য ও একাগ্রতা জরুরি।
- ভালো কাজে অন্যকে দেখে প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি হওয়া ঠিক নয়।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) পরিস্থিতি বিবেচনা করে আমলের সময় পরিবর্তন করেছেন।
