৪৭/১৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫০৩ - শরীকী গোলাম আযাদের বিধান
কৃতদাস দাসীতে অংশীদারিত্ব।
শরীকী গোলাম আযাদ করলে ন্যায্য মূল্য পরিশোধের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৫০৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫০৩
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ بْنُ أَسْمَاءَ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي مَمْلُوكٍ وَجَبَ عَلَيْهِ أَنْ يُعْتِقَ كُلَّهُ، إِنْ كَانَ لَهُ مَالٌ قَدْرَ ثَمَنِهِ يُقَامُ قِيمَةَ عَدْلٍ وَيُعْطَى شُرَكَاؤُهُ حِصَّتَهُمْ وَيُخَلَّى سَبِيلُ الْمُعْتَقِ ".
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, (শরীকী) গোলাম হতে কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে সেই গোলামের সম্পূর্ণটা আযাদ করা তার জন্য ওয়াজিব হয়ে যাবে। যদি তার কাছে সেই গোলামের মূল্য পরিশোধ পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে অংশীদারদের তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করা হবে এবং আযাদ কৃত গোলামের পথ ছেড়ে দেয়া হবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫০৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শরীকী গোলাম আযাদ করার একটি স্পষ্ট বিধান এসেছে। কোনো গোলামের মালিকানা যদি কয়েকজনের মধ্যে ভাগ থাকে, আর তাদের একজন নিজের অংশ আযাদ করে দেয়, তাহলে শুধু নিজের অংশের কথা বলে থেমে থাকা যাবে না। যদি তার কাছে গোলামের পুরো মূল্য দেওয়ার মতো সম্পদ থাকে, তাহলে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা হবে। এরপর অন্য অংশীদারদের তাদের পাওনা অংশ দেওয়া হবে এবং গোলামকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত করে দেওয়া হবে। এখানে ক্রীতদাস আযাদ করার পাশাপাশি অন্য মালিকদের অধিকার রক্ষার কথাও আছে। তাই হাদিসটি ইনসাফ, সম্পদের হক এবং মানুষের মুক্তির বিষয়কে একসঙ্গে শেখায়। এতে বোঝা যায়, ভালো কাজ করতে গিয়েও অন্যের প্রাপ্য নষ্ট করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শরীকী সম্পদে সিদ্ধান্ত নিলে অন্য অংশীদারদের অধিকার মানতে হবে।
- গোলাম আযাদ করা কল্যাণকর কাজ, তবে ন্যায্য হিসাবও জরুরি।
- ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করার শিক্ষা পাওয়া যায়।
- মানুষের মুক্তি ও সম্পদের হক—দুই দিকেই ইনসাফ রাখতে হবে।
