৪৮/৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫১৪ - বাদীর সাক্ষী ও বিবাদীর কসম
বন্ধকদাতা ও বন্ধক গ্রহীতার মাঝে বিরোধ দেখা দিলে বা অনুরূপ কোন কিছু হলে বাদীর দায়িত্ব সাক্ষী পেশ করা আর বিবাদীর দায়িত্ব শপথ করা।
বিরোধ মীমাংসায় সাক্ষী ও কসমের নীতি
সহীহ বুখারী : ২৫১৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫১৪
حَدَّثَنَا خَلاَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، قَالَ كَتَبْتُ إِلَى ابْنِ عَبَّاسٍ فَكَتَبَ إِلَىَّ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَضَى أَنَّ الْيَمِينَ عَلَى الْمُدَّعَى عَلَيْهِ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট আমি (একবার বাদী বিবাদীর মতবিরোধ সম্পর্কে) লিখে পাঠালাম। তার জবাবে তিনি আমাকে লিখলেন, নবী (ﷺ) এই ফায়সালা দিয়েছেন যে, (বাদী সাক্ষী পেশ করতে ব্যর্থ হলে) কসম করা বিবাদীর কর্তব্য।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর জবাবের মাধ্যমে একটি বিচারনীতি এসেছে। বর্ণনাকারী তাঁর কাছে বাদী ও বিবাদীর মতবিরোধ সম্পর্কে লিখে পাঠান। জবাবে তিনি জানান, নবী (صلى الله عليه وسلم) ফায়সালা দিয়েছেন যে, বাদী সাক্ষী পেশ করতে ব্যর্থ হলে কসম করা বিবাদীর দায়িত্ব। এতে বোঝা যায়, দাবির ক্ষেত্রে শুধু কথাই যথেষ্ট নয়; প্রমাণের দরকার হয়। আর যখন বাদী প্রমাণ দিতে পারে না, তখন বিবাদীর কসমের বিষয় আসে। হাদিসটি বিচার, দাবি, সাক্ষ্য ও শপথের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু পরিষ্কার শিক্ষা দেয়। এতে ব্যক্তিগত ঝগড়া নয়, বরং ন্যায্য নিয়মে বিরোধ মীমাংসার দিকটি সামনে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাবি করলে প্রমাণ বা সাক্ষী পেশ করার গুরুত্ব আছে।
- বাদী সাক্ষী দিতে না পারলে বিবাদীর কসমের বিষয় আসে।
- বিরোধ মীমাংসায় নিয়ম ও ইনসাফ দরকার।
- শুধু অভিযোগ নয়, প্রমাণভিত্তিক বিচারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
