৪৯/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫৩৩ - সন্তানের নসব ও পর্দার শিক্ষা
উম্মু ওয়ালাদ সম্পর্কে
قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ مِنْ أَشْرَاطِ السَّاعَةِ أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّهَاআবূ হুরাইরা (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন, কিয়ামতের একটি আলামত এই যে, বাঁদী তার মুনিবকে প্রসব করবে।"
সন্তানের নসব: শয্যার হক ও সতর্ক পর্দার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৫৩৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৫৩৩
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ إِنَّ عُتْبَةَ بْنَ أَبِي وَقَّاصٍ عَهِدَ إِلَى أَخِيهِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ أَنْ يَقْبِضَ إِلَيْهِ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ، قَالَ عُتْبَةُ إِنَّهُ ابْنِي. فَلَمَّا قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ زَمَنَ الْفَتْحِ أَخَذَ سَعْدٌ ابْنَ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ. فَأَقْبَلَ بِهِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَقْبَلَ مَعَهُ بِعَبْدِ بْنِ زَمْعَةَ.فَقَالَ سَعْدٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا ابْنُ أَخِي عَهِدَ إِلَىَّ أَنَّهُ ابْنُهُ. فَقَالَ عَبْدُ بْنُ زَمْعَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَذَا أَخِي ابْنُ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ، وُلِدَ عَلَى فِرَاشِهِ. فَنَظَرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِلَى ابْنِ وَلِيدَةِ زَمْعَةَ، فَإِذَا هُوَ أَشْبَهُ النَّاسِ بِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «هُوَ لَكَ يَا عَبْدُ بْنَ زَمْعَةَ». مِنْ أَجْلِ أَنَّهُ وُلِدَ عَلَى فِرَاشِ أَبِيهِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «احْتَجِبِي مِنْهُ يَا سَوْدَةُ بِنْتَ زَمْعَةَ». مِمَّا رَأَى مِنْ شَبَهِهِ بِعُتْبَةَ. وَكَانَتْ سَوْدَةُ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘উতবাহ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস আপন ভাই সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাসকে ওসীয়্যাত করেছিলেন, তিনি যেন যাম’আর দাসীর গর্ভজাত পুত্রকে গ্রহণ করেন (কারণ স্বরূপ) ‘উতবাহ বলেছিলেন, সে আমার (ঔরসজাত) পুত্র। মক্কা বিজয়কালে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মক্কায় তাশরীফ আনলেন; তখন সা’দ যাম’আর দাসীর পুত্রকে নিয়ে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর খিদমতে আসলেন এবং তার সাথে আব্দ ইবনু যাম’আকে নিয়ে আসলেন।সা’দ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার ভাতিজা, (আমার ভাই ‘উতবাহ) আমাকে ওসীয়্যাত করেছে যে, এ তার পুত্র। আব্দ ইবনু যাম’আ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এ আমার ভাই, যাম’আর দাসীর পুত্র। তার শয্যাতেই এ জন্ম নিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন যাম’আর দাসীর পুত্রের দিকে তাকালেন। দেখলেন, উতবার সাথেই তার (আদলের) সর্বাধিক মিল। তবু রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আব্দ ইবনু যাম’আ! এ তোমারই (ভাই), কেননা এ তার (আব্দ ইবনু যাম’আর) শয্যাতে জন্মগ্রহণ করেছে।তারপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে সাওদা বিনতে যাম’আ। তুমি এ হতে পর্দা করবে। কেননা, তিনি উতবার সাথেই তার (চেহারার) মিল দেখতে পেয়েছিলেন। সাওদা ছিলেন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর স্ত্রী।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৫৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাম‘আর দাসীর গর্ভজাত পুত্রকে নিয়ে সা‘দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) এবং আবদ ইবনু যাম‘আ-এর দাবি এসেছে। সা‘দ (রাঃ) বলেন, উতবা তাকে নিজের পুত্র বলে ওসিয়ত করেছিলেন। অন্যদিকে আবদ ইবনু যাম‘আ বলেন, সে যাম‘আর দাসীর পুত্র এবং তার শয্যাতেই জন্ম নিয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) ছেলেটির চেহারায় উতবার সঙ্গে মিল দেখলেন, তবু রায় দিলেন যে সে আবদ ইবনু যাম‘আর। কারণ সে তার পিতার শয্যায় জন্ম নিয়েছে। তবে চেহারার মিলের কারণে সাওদা (রাঃ)-কে তার থেকে পর্দা করতে বললেন। এই হাদিসে নসব, শয্যার হক এবং সতর্কতার ভারসাম্য দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তানের নসব নির্ধারণে শয্যার বিষয়টি হাদিসে গুরুত্ব পেয়েছে।
- চেহারার মিল থাকলেও নবী (صلى الله عليه وسلم) শয্যার ভিত্তিতে রায় দিয়েছেন।
- সন্দেহের দিক থাকলে পর্দার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের শিক্ষা আছে।
- বিচারে আবেগ নয়, নির্ধারিত ভিত্তি অনুসরণ করা জরুরি।
