৫১/৩৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৩১ - চল্লিশ সৎ স্বভাব ও মানীহা
দুগ্ধ পান করানোর জন্য সাময়িকভাবে উট-বকরি প্রদানের ফজিলত।
চল্লিশ সৎ স্বভাব: মানীহা ও ছোট আমলের গুরুত্ব
সহীহ বুখারী : ২৬৩১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৩১
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ حَسَّانَ بْنِ عَطِيَّةَ، عَنْ أَبِي كَبْشَةَ السَّلُولِيِّ، سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرٍو ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَرْبَعُونَ خَصْلَةً أَعْلاَهُنَّ مَنِيحَةُ الْعَنْزِ، مَا مِنْ عَامِلٍ يَعْمَلُ بِخَصْلَةٍ مِنْهَا رَجَاءَ ثَوَابِهَا وَتَصْدِيقَ مَوْعُودِهَا إِلاَّ أَدْخَلَهُ اللَّهُ بِهَا الْجَنَّةَ ". قَالَ حَسَّانُ فَعَدَدْنَا مَا دُونَ مَنِيحَةِ الْعَنْزِ مِنْ رَدِّ السَّلاَمِ، وَتَشْمِيتِ الْعَاطِسِ، وَإِمَاطَةِ الأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ وَنَحْوِهِ، فَمَا اسْتَطَعْنَا أَنْ نَبْلُغَ خَمْسَ عَشْرَةَ خَصْلَةً.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, চল্লিশটি স্বভাবের মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হল দুধ পান করার জন্য কাউকে বকরী দেয়া। কোন বান্দা যদি সওয়াবের আশায় এবং পুরস্কার দানের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস রেখে উক্ত চল্লিশ স্বভাবের যে কোন একটির উপরে আমল করে তবে আল্লাহ অবশ্যই তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। হাস্সান (রহঃ) বলেন, দুধেল বকরী মানহি দেয়া ব্যতীত আর যে কয়টি স্বভাব আমরা গণনা করলাম, সেগুলো হল সালামের উত্তর দেয়া, হাঁচি দাতার হাঁচির উত্তরে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা, পথ হতে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ইত্যাদি। কিন্তু আমরা পনেরটি স্বভাবের অধিক গণনা করতে পারলাম না।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) চল্লিশটি সৎ স্বভাবের কথা বলেছেন, যার মধ্যে সর্বোৎকৃষ্ট হলো দুধ পান করার জন্য কাউকে বকরী দেওয়া। যে ব্যক্তি সওয়াবের আশা ও আল্লাহর প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস রেখে এসব স্বভাবের কোনো একটির ওপর আমল করে, তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের সুসংবাদ এসেছে। বর্ণনাকারী হাসান (রহঃ) বলেন, তাঁরা মানীহা ছাড়া আরও কিছু কাজ গণনা করেছিলেন—সালামের উত্তর দেওয়া, হাঁচিদাতার জন্য ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা, পথ থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো ইত্যাদি। তবে তাঁরা পনেরটির বেশি গণনা করতে পারেননি। এই হাদিস ছোট মনে হওয়া সৎ কাজকে অবহেলা না করার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুধেল বকরী মানীহা দেওয়া সৎ কাজের উঁচু উদাহরণ।
- সালামের উত্তর ও পথের কষ্টদায়ক জিনিস সরানোও মূল্যবান আমল।
- সওয়াবের আশা ও আল্লাহর প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস নিয়ে আমল করা দরকার।
- ছোট ভালো কাজকেও হালকা মনে করা উচিত নয়।
