৫২/১১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৫৭ - কণ্ঠস্বর চেনা ও উপহার
অন্ধের সাক্ষ্যদান করা, কোন বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত দান করা, তার বিয়ে করা, কাউকে বিয়ে দেয়া, তার ক্রয়-বিক্রয় করা, তার আজান দেয়া ইত্যাদির ব্যাপারে তাকে অনুমোদন করা এবং আওয়াজে পরিচয় করা।
وَأَجَازَ شَهَادَتَهُ قَاسِمٌ وَالْحَسَنُ وَابْنُ سِيرِينَ وَالزُّهْرِيُّ وَعَطَاءٌ وَقَالَ الشَّعْبِيُّ تَجُوزُ شَهَادَتُهُ إِذَا كَانَ عَاقِلًا وَقَالَ الْحَكَمُ رُبَّ شَيْءٍ تَجُوزُ فِيهِ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ أَرَأَيْتَ ابْنَ عَبَّاسٍ لَوْ شَهِدَ عَلَى شَهَادَةٍ أَكُنْتَ تَرُدُّهُ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَبْعَثُ رَجُلًا إِذَا غَابَتْ الشَّمْسُ أَفْطَرَ وَيُسْأَلُ عَنْ الْفَجْرِ فَإِذَا قِيلَ لَهُ طَلَعَ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَقَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ اسْتَأْذَنْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَعَرَفَتْ صَوْتِي قَالَتْ سُلَيْمَانُ ادْخُلْ فَإِنَّكَ مَمْلُوكٌ مَا بَقِيَ عَلَيْكَ شَيْءٌ وَأَجَازَ سَمُرَةُ بْنُ جُنْدُبٍ شَهَادَةَ امْرَأَةٍ مُنْتَقِبَةٍকাসিম, হাসান, ইবন সীরীন, যুহরী ও ‘আতা (রহঃ) অন্ধের সাক্ষ্যদান অনুমোদন করেছেন। ইমাম শা‘বী (রহঃ) বলেন, বুদ্ধিমান হলে তার সাক্ষ্যদান বৈধ। হাকাম (রহঃ) বলেন, অনেক বিষয় আছে, যেখানে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন, তুমি কি মনে কর যে, ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) কোনো বিষয়ে সাক্ষ্য দিলে তা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে? ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) (দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়ায়) জনৈক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে সূর্য ডুবেছে কিনা জেনে নিয়ে ইফতার করতেন।অনুরূপভাবে ফজরের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। ফজর হয়েছে বলা হলে তিনি দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। সুলাইমান ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলেন, একবার আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট সাক্ষাতের অনুমতি চাইলাম। তিনি আমার আওয়াজ চিনতে পেরে বললেন, সুলাইমান না কি, এসো! তোমার সঙ্গে পর্দার প্রয়োজন নেই। (কেননা) যতক্ষণ (মুকাতাবাতের দেয় অর্থের) সামান্য পরিমাণও বাকি থাকবে ততক্ষণ তুমি গোলাম। সামুরা ইবন জুনদুব (রাঃ) মুখমণ্ডল আচ্ছাদিতা নারীর সাক্ষ্যদান অনুমোদন করেছেন।"
কণ্ঠস্বর চেনা ও স্নেহ: সহিহ বুখারী ২৬৫৭ এর শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৬৫৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৫৭
حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا حَاتِمُ بْنُ وَرْدَانَ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَدِمَتْ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ أَقْبِيَةٌ فَقَالَ لِي أَبِي مَخْرَمَةُ انْطَلِقْ بِنَا إِلَيْهِ عَسَى أَنْ يُعْطِيَنَا مِنْهَا شَيْئًا. فَقَامَ أَبِي عَلَى الْبَابِ فَتَكَلَّمَ، فَعَرَفَ النَّبِيُّ ﷺ صَوْتَهُ فَخَرَجَ النَّبِيُّ ﷺ وَمَعَهُ قَبَاءٌ وَهُوَ يُرِيهِ مَحَاسِنَهُ وَهُوَ يَقُولَ «خَبَأْتُ هَذَا لَكَ، خَبَأْتُ هَذَا لَكَ».
মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর নিকট ‘কাবা’ (পোশাক) আসল। আমার পিতা মাখরামা (রাঃ) তা শুনে আমাকে বললেন, আমাকে তাঁর নিকট নিয়ে চল। সেখান থেকে তিনি আমাদের কিছু দিতেও পারেন। আমার পিতা দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বললেন, নবী (ﷺ) তার আওয়াজ চিনতে পারলেন। নবী (ﷺ) তখন একটি ‘কাবা’ সঙ্গে করে বেরিয়ে এলেন, তিনি তার সৌন্দর্য বর্ণনা করছিলেন এবং বলছিলেন, আমি এটা তোমার জন্য যত্ন করে রেখেছিলাম। আমি এটা তোমার জন্য যত্ন করে রেখেছিলাম।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে কিছু কাবা বা পোশাক আসে। মিসওয়ার (রাঃ)-এর পিতা মাখরামা (রাঃ) আশা করেন, নবীজি হয়তো তাদের কিছু দেবেন। তিনি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর আওয়াজ চিনতে পারেন। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) একটি পোশাক নিয়ে বের হন, তার সৌন্দর্য দেখান এবং বলেন, এটি তোমার জন্য যত্ন করে রেখেছিলাম। এই কণ্ঠস্বর চেনা হাদিসে সাক্ষ্যদানের অধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দিক আছে—কণ্ঠস্বর চিনে মানুষকে জানা। পাশাপাশি নবীজির কোমল আচরণও দেখা যায়, যেখানে তিনি একজন সাহাবীর মন ভালো করার মতো ভাষা ব্যবহার করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চেনা মানুষের কণ্ঠস্বর দ্বারা তাকে চিনতে পারা বর্ণনায় এসেছে।
- উপহার দেওয়ার সময় ভালো কথা বলা সুন্দর আচরণ।
- নবীজি সাহাবীদের সঙ্গে স্নেহপূর্ণভাবে আচরণ করতেন।
