৫২/১১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৫৬ - সেহরি ও ফজরের আযান
অন্ধের সাক্ষ্যদান করা, কোন বিষয়ে তার সিদ্ধান্ত দান করা, তার বিয়ে করা, কাউকে বিয়ে দেয়া, তার ক্রয়-বিক্রয় করা, তার আজান দেয়া ইত্যাদির ব্যাপারে তাকে অনুমোদন করা এবং আওয়াজে পরিচয় করা।
وَأَجَازَ شَهَادَتَهُ قَاسِمٌ وَالْحَسَنُ وَابْنُ سِيرِينَ وَالزُّهْرِيُّ وَعَطَاءٌ وَقَالَ الشَّعْبِيُّ تَجُوزُ شَهَادَتُهُ إِذَا كَانَ عَاقِلًا وَقَالَ الْحَكَمُ رُبَّ شَيْءٍ تَجُوزُ فِيهِ وَقَالَ الزُّهْرِيُّ أَرَأَيْتَ ابْنَ عَبَّاسٍ لَوْ شَهِدَ عَلَى شَهَادَةٍ أَكُنْتَ تَرُدُّهُ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ يَبْعَثُ رَجُلًا إِذَا غَابَتْ الشَّمْسُ أَفْطَرَ وَيُسْأَلُ عَنْ الْفَجْرِ فَإِذَا قِيلَ لَهُ طَلَعَ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَقَالَ سُلَيْمَانُ بْنُ يَسَارٍ اسْتَأْذَنْتُ عَلَى عَائِشَةَ فَعَرَفَتْ صَوْتِي قَالَتْ سُلَيْمَانُ ادْخُلْ فَإِنَّكَ مَمْلُوكٌ مَا بَقِيَ عَلَيْكَ شَيْءٌ وَأَجَازَ سَمُرَةُ بْنُ جُنْدُبٍ شَهَادَةَ امْرَأَةٍ مُنْتَقِبَةٍকাসিম, হাসান, ইবন সীরীন, যুহরী ও ‘আতা (রহঃ) অন্ধের সাক্ষ্যদান অনুমোদন করেছেন। ইমাম শা‘বী (রহঃ) বলেন, বুদ্ধিমান হলে তার সাক্ষ্যদান বৈধ। হাকাম (রহঃ) বলেন, অনেক বিষয় আছে, যেখানে তাদের সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য। ইমাম যুহরী (রহঃ) বলেন, তুমি কি মনে কর যে, ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) কোনো বিষয়ে সাক্ষ্য দিলে তা প্রত্যাখ্যান করতে পারবে? ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) (দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পাওয়ায়) জনৈক ব্যক্তিকে পাঠিয়ে সূর্য ডুবেছে কিনা জেনে নিয়ে ইফতার করতেন।অনুরূপভাবে ফজরের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতেন। ফজর হয়েছে বলা হলে তিনি দু’রাক‘আত সালাত আদায় করতেন। সুলাইমান ইবন ইয়াসার (রহঃ) বলেন, একবার আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট সাক্ষাতের অনুমতি চাইলাম। তিনি আমার আওয়াজ চিনতে পেরে বললেন, সুলাইমান না কি, এসো! তোমার সঙ্গে পর্দার প্রয়োজন নেই। (কেননা) যতক্ষণ (মুকাতাবাতের দেয় অর্থের) সামান্য পরিমাণও বাকি থাকবে ততক্ষণ তুমি গোলাম। সামুরা ইবন জুনদুব (রাঃ) মুখমণ্ডল আচ্ছাদিতা নারীর সাক্ষ্যদান অনুমোদন করেছেন।"
সেহরির শেষ সময় ও আযান: সহিহ বুখারী ২৬৫৬ এর শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৬৫৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৫৬
حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ " إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ ـ أَوْ قَالَ حَتَّى تَسْمَعُوا ـ أَذَانَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ». وَكَانَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ رَجُلاً أَعْمَى، لاَ يُؤَذِّنُ حَتَّى يَقُولَ لَهُ النَّاسُ أَصْبَحْتَ.
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, বিলাল (রাঃ) রাত থাকতেই আজান দিয়ে থাকে। সুতরাং ইবনু উম্মে মাকতূম (রাঃ) আজান দেয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার করতে পার। অথবা তিনি বলেন, ইবনু উম্মে মাকতূম (রাঃ)-এর আজান শোনা পর্যন্ত। ইবনু উম্মে মাকতূম (রাঃ) অন্ধ ছিলেন, ‘সকাল হয়েছে’ লোকেরা এ কথা তাঁকে না বলা পর্যন্ত তিনি আজান দিতেন না।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) সেহরির সময় নিয়ে পরিষ্কার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) রাত থাকতেই আযান দেন। তাই ইবন উম্মে মাকতুম (রাঃ)-এর আযান দেওয়া পর্যন্ত অথবা তাঁর আযান শোনা পর্যন্ত পানাহার করা যায়। বর্ণনায় আরও এসেছে, ইবন উম্মে মাকতুম (রাঃ) অন্ধ ছিলেন; লোকেরা সকাল হয়েছে না বলা পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না। সেহরি ও ফজরের আযান হাদিস থেকে বোঝা যায়, রাতের আযান আর ফজরের আযানের কাজ আলাদা ছিল। তাই সেহরির সময় জানতে সঠিক আযান ও সময়ের দিকেই খেয়াল রাখতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সেহরির সময় নির্ধারণে ফজরের সঠিক আযান গুরুত্বপূর্ণ।
- সব আযানের উদ্দেশ্য এক নয়; বর্ণনায় বিলাল (রাঃ)-এর রাতের আযান আলাদা বলা হয়েছে।
- ইবাদতে সময়ের ব্যাপারে সতর্ক থাকা দরকার।
