৫৩/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৯০ - সালাতের আদব ও বিবাদ মীমাংসা
মানুষের মধ্যে আপোস-মীমাংসা করে দেয়া।
وَقَوْلِ اللهِ تَعَالَى ﴾لَا خَيْرَ فِي كَثِيرٍ مِنْ نَجْوَاهُمْ إِلَّا مَنْ أَمَرَ بِصَدَقَةٍ أَوْ مَعْرُوفٍ أَوْ إِصْلَاحٍ بَيْنَ النَّاسِ وَمَنْ يَفْعَلْ ذَلِكَ ابْتِغَاءَ مَرْضَاةِ اللهِ فَسَوْفَ نُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا﴿ (النساء : ١١٤) وَخُرُوجِ الْإِمَامِ إِلَى الْمَوَاضِعِ لِيُصْلِحَ بَيْنَ النَّاسِ بِأَصْحَابِهِআল্লাহ তা‘আলার বাণী: তাদের অধিকাংশ গোপন পরামর্শে কোনো কল্যাণ নেই। তবে কল্যাণ আছে যে দান-খয়রাত, সৎকার্য ও মানুষের মধ্যে সমঝোতা স্থাপনের নির্দেশ দেয় তার পরামর্শে.....শেষ পর্যন্ত (সূরা আন-নিসা ১১৪)। মানুষের মধ্যে আপোস করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে ইমামের (ঘটনা) স্থানে যাওয়া।"
সালাতে সুবহানাল্লাহ বলার হাদিস: ইমামতি, আদব ও মীমাংসা
সহীহ বুখারী : ২৬৯০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৯০
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ، حَدَّثَنَا أَبُو غَسَّانَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ ـ رضى الله عنه أَنَّ أُنَاسًا، مِنْ بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ كَانَ بَيْنَهُمْ شَىْءٌ، فَخَرَجَ إِلَيْهِمُ النَّبِيُّ ﷺ فِي أُنَاسٍ مِنْ أَصْحَابِهِ يُصْلِحُ بَيْنَهُمْ، فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ، وَلَمْ يَأْتِ النَّبِيُّ ﷺ، فَجَاءَ بِلاَلٌ، فَأَذَّنَ بِلاَلٌ بِالصَّلاَةِ، وَلَمْ يَأْتِ النَّبِيُّ ﷺ فَجَاءَ إِلَى أَبِي بَكْرٍ فَقَالَ إِنَّ النَّبِيَّ ﷺ حُبِسَ، وَقَدْ حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَهَلْ لَكَ أَنْ تَؤُمَّ النَّاسَ فَقَالَ نَعَمْ إِنْ شِئْتَ. فَأَقَامَ الصَّلاَةَ فَتَقَدَّمَ أَبُو بَكْرٍ، ثُمَّ جَاءَ النَّبِيُّ ﷺ يَمْشِي فِي الصُّفُوفِ، حَتَّى قَامَ فِي الصَّفِّ الأَوَّلِ، فَأَخَذَ النَّاسُ بِالتَّصْفِيحِ حَتَّى أَكْثَرُوا، وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ لاَ يَكَادُ يَلْتَفِتُ فِي الصَّلاَةِ، فَالْتَفَتَ فَإِذَا هُوَ بِالنَّبِيِّ ﷺ وَرَاءَهُ فَأَشَارَ إِلَيْهِ بِيَدِهِ، فَأَمَرَهُ يُصَلِّي كَمَا هُوَ، فَرَفَعَ أَبُو بَكْرٍ يَدَهُ، فَحَمِدَ اللَّهَ، ثُمَّ رَجَعَ الْقَهْقَرَى وَرَاءَهُ حَتَّى دَخَلَ فِي الصَّفِّ، وَتَقَدَّمَ النَّبِيُّ ﷺ فَصَلَّى بِالنَّاسِ، فَلَمَّا فَرَغَ أَقْبَلَ عَلَى النَّاسِ فَقَالَ «يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَا لَكُمْ إِذَا نَابَكُمْ شَىْءٌ فِي صَلاَتِكُمْ أَخَذْتُمْ بِالتَّصْفِيحِ، إِنَّمَا التَّصْفِيحُ لِلنِّسَاءِ، مَنْ نَابَهُ شَىْءٌ فِي صَلاَتِهِ فَلْيَقُلْ سُبْحَانَ اللَّهِ، فَإِنَّهُ لا يَسْمَعُهُ أَحَدٌ إِلاَّ الْتَفَتَ، يَا أَبَا بَكْرٍ مَا مَنَعَكَ حِينَ أَشَرْتُ إِلَيْكَ لَمْ تُصَلِّ بِالنَّاسِ ". فَقَالَ مَا كَانَ يَنْبَغِي لاِبْنِ أَبِي قُحَافَةَ أَنْ يُصَلِّيَ بَيْنَ يَدَىِ النَّبِيِّ ﷺ.
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আম্র ইব্নু ‘আউফ গোত্রের কিছু লোকের মধ্যে সামান্য বিবাদ ছিল। তাই নবী (ﷺ) তাঁর সাহাবীগণের একটি জামা‘আত নিয়ে তাদের মধ্যে আপোষ-মীমাংসা করে দেয়ার জন্য সেখানে গেলেন। এদিকে সালাতের সময় হয়ে গেল। কিন্তু নবী (ﷺ) মসজিদে নাবাবীতে এসে পৌছেননি। বিলাল (রাঃ) আবু বক্র (রাঃ)-এর নিকট এসে বললেন, নবী (ﷺ) কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এদিকে সালাতেরও সময় হয়ে গেছে। আপনি কি সালাতে লোকদের ইমামতি করবেন? তিনি বললেন, ‘হ্যা, তুমি যদি ইচ্ছা কর।’ অতঃপর বিলাল (রাঃ) সালাতের ইকামত বললেন, আর আবূ বকর (রাঃ) এগিয়ে গেলেন।পরে নবী (ﷺ) এলেন এবং কাতারগুলো অতিক্রম করে প্রথম কাতারে এসে দাঁড়ালেন। (তা দেখে) লোকেরা হাততালি দিতে শুরু করল এবং তা অধিক মাত্রায় দিতে লাগল। আবূ বকর (রাঃ) সালাত অবস্থায় কোন দিকে তাকাতেন না, কিন্তু (হাততালির কারণে) তিনি তাকিয়ে দেখতে পেলেন যে, নবী (ﷺ) তাঁর পেছনে দাঁড়িয়েছেন। নবী (ﷺ) তাঁকে হাতের ইশারায় আগের মত সালাত আদায় করে যেতে নির্দেশ দিলেন। আবু বক্র (রাঃ) তাঁর দু’হাত উপরে তুলে আল্লাহ্র হামদ বর্ণনা করলেন। অতঃপর কেবলার দিকে মুখ রেখে পেছনে ফিরে এসে কাতারে সামিল হলেন।তখন নবী (ﷺ) আগে বেড়ে লোকদের ইমামতি করলেন এবং সালাত সমাপ্ত করে লোকদের দিকে ফিরে বললেন ‘হে লোক সকল! সালাত অবস্থায় তোমাদের কিছু ঘটলে তোমরা হাত তালি দিতে শুরু কর। অথচ হাততালি দেয়া মেয়েদের কাজ। সালাত অবস্থায় কারো কিছু ঘটলে সে যেন ‘সুবহানআল্লাহ্’ ‘সুবহানআল্লাহ্’ বলে। কেননা, এটা শুনলে কেউ তার দিকে দৃষ্টিপাত না করে পারতো না। ‘হে আবূ বক্র! তোমাকে যখন ইশারা করলাম, তখন সালাত আদায় করাতে তোমার কিসের বাধা ছিল? ’তিনি বলেন, ‘আবূ কুহাফার পুত্রের জন্য শোভা পায় না নবী (ﷺ)-এর সামনে ইমামতি করা।
[১] ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ পঞ্চম খণ্ড, দ্বিতীয় সংস্করণ- জুন ১৯৯৯ সংস্করণের ক্রমিক নং অনুযায়ী।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক আছে। প্রথমত, নবী صلى الله عليه وسلم আমর ইবন আওফ গোত্রের বিবাদ মীমাংসা করতে যান। এতে বোঝা যায়, মানুষের মধ্যে আপোষ করানো গুরুত্বপূর্ণ কাজ। দ্বিতীয়ত, সালাতের সময় নবী صلى الله عليه وسلم দেরি করায় আবু বকর (রাঃ) ইমামতি শুরু করেন। পরে নবী صلى الله عليه وسلم এসে প্রথম কাতারে দাঁড়ালে লোকেরা হাততালি দিতে থাকে। সালাত শেষে নবী صلى الله عليه وسلم শেখান, সালাতে কোনো কিছু ঘটলে পুরুষ যেন সুবহানাল্লাহ বলে; হাততালি নারীদের জন্য। আবু বকর (রাঃ)-এর বিনয়ও এখানে স্পষ্ট, তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সামনে ইমামতি চালিয়ে যেতে সংকোচ করেন। এই হাদিস সালাতের আদব, ইমামের অবস্থান এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি সাহাবীদের সম্মান শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের বিবাদ মীমাংসা করা গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কাজ।
- সালাতে কিছু ঘটলে পুরুষের জন্য সুবহানাল্লাহ বলা নির্দেশিত।
- আবু বকর (রাঃ)-এর আচরণে নবী صلى الله عليه وسلم-এর প্রতি গভীর সম্মান দেখা যায়।
- সালাতের ভেতরেও আদব ও নিয়ম মানা দরকার।
