২/১৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭ - মুমিন না মুসলিম: দানের হিকমত
ইসলাম গ্রহণ যদি বিশুদ্ধ না হয় বরং বাহ্যিক আনুগত্য প্রদর্শনের জন্য বা হত্যার আশঙ্কায় হয়, তবে তার ইসলাম গ্রহণ।
لِقَوْلِهِ تَعَالَى ﴾قَالَتِ الْأَعْرَابُ آمَنَّا قُلْ لَمْ تُؤْمِنُوا وَلَكِنْ قُولُوا أَسْلَمْنَا﴿ فَإِذَا كَانَ عَلَى الْحَقِيقَةِ فَهُوَ عَلَى قَوْلِهِ جَلَّ ذِكْرُهُ ﴾إِنَّ الدِّينَ عِنْدَ اللَّهِ الْإِسْلَامُ﴿ ﴾وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلَامِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ﴿মহান আল্লাহর এ বাণী অনুযায়ী হবে: “আরব মরুবাসীরা বলে, আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম; আপনি বলে দিন, “তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করনি; বরং তোমরা বল, ‘আমরা বাহ্যিক দৃষ্টিতে মুসলিম হয়েছি’।” (সূরা হুজুরাত ৪৯/১৪)আর ইসলাম গ্রহণ খাঁটি হলে তা হবে আল্লাহ তা‘আলার এ বাণী অনুযায়ী: “নিশ্চয়ই ইসলাম আল্লাহর মনোনীত একমাত্র দীন।” (সূরা আলে ‘ইমরান ৩/১৯)“আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো দীন অন্বেষণ করবে তবে তা গৃহীত হবে না।” (সূরা আলে ‘ইমরান ৩/৮৫)
মুমিন না মুসলিম: বাহ্যিক ইসলাম ও দানের হিকমতের হাদিস
সহীহ বুখারী : ২৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ سَعْدٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَعْطَى رَهْطًا وَسَعْدٌ جَالِسٌ، فَتَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ رَجُلاً هُوَ أَعْجَبُهُمْ إِلَىَّ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ فَوَاللَّهِ إِنِّي لأَرَاهُ مُؤْمِنًا. فَقَالَ «أَوْ مُسْلِمًا».فَسَكَتُّ قَلِيلاً، ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ مِنْهُ فَعُدْتُ لِمَقَالَتِي فَقُلْتُ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ فَوَاللَّهِ إِنِّي لأَرَاهُ مُؤْمِنًا فَقَالَ «أَوْ مُسْلِمًا». ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ مِنْهُ فَعُدْتُ لِمَقَالَتِي وَعَادَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ قَالَ «يَا سَعْدُ، إِنِّي لأُعْطِي الرَّجُلَ وَغَيْرُهُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْهُ، خَشْيَةَ أَنْ يَكُبَّهُ اللَّهُ فِي النَّارِ».وَرَوَاهُ يُونُسُ وَصَالِحٌ وَمَعْمَرٌ وَابْنُ أَخِي الزُّهْرِيِّ عَنِ الزُّهْرِيِّ.
সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) একদল লোককে কিছু দান করলেন। সা‘দ (রাঃ) সেখানে বসেছিলেন। বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার নিকট তাদের চেয়ে অধিক পছন্দের ছিল। তাই আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মুমিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না, মুসলিম।তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। অতঃপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দান থেকে বাদ রাখলেন? আল্লাহর শপথ! আমি তো তাকে মুমিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ ‘না, মুসলিম?’ তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা (ব্যক্ত করার) প্রবল ইচ্ছা হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) পুনরায় সেই একই জবাব দিলেন। তারপর বললেনঃ ‘সা’দ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্যলোক আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে (সে ঈমান থেকে ফিরে যেতে পারে পরিণামে), আল্লাহ তা‘আলা তাকে অধঃমুখে জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত করবেন।এ হাদীস ইউনুস, সালিহ, মা‘মার এবং যুহরী (রহঃ)-এর ভ্রাতুষ্পুত্র যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাদ (রাঃ) দেখলেন, রাসূল (صلى الله عليه وسلم) একদলকে দান করলেন, কিন্তু তাঁর পছন্দের এক ব্যক্তিকে দিলেন না। সাদ (রাঃ) বললেন, তিনি তো মুমিন। রাসূল (صلى الله عليه وسلم) বারবার বললেন, না, মুসলিম। এরপর তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তিনি কখনো এমন ব্যক্তিকে দান করেন, যদিও অন্য কেউ তাঁর কাছে বেশি প্রিয়; কারণ তিনি আশঙ্কা করেন, দান না পেলে সে বিপদে পড়তে পারে। এই হাদিসে দুটি শিক্ষা স্পষ্ট। প্রথমত, কাউকে অন্তরের ঈমানের বিষয়ে নিশ্চিত ভাষায় বলা সহজ নয়। দ্বিতীয়ত, দান সবসময় পছন্দের মাপকাঠি নয়; কখনো তা মানুষের অবস্থা বিবেচনা করেও দেওয়া হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারও অন্তরের ঈমান সম্পর্কে চূড়ান্ত দাবি করা সতর্কতার বিষয়।
- মুসলিম ও মুমিন শব্দের ব্যবহারে নবীজি সূক্ষ্ম শিক্ষা দিয়েছেন।
- দান সবসময় ব্যক্তিগত ভালোবাসার কারণে হয় না।
- কখনো দান মানুষের ঈমানি অবস্থার আশঙ্কা বিবেচনা করে দেওয়া হতে পারে।
