৫৪/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭১২ - সন্ধির শর্ত ও নারীদের ফেরত না দেওয়া
ইসলামে আহকামে ও ক্রয়-বিক্রয়ে যে সব শর্ত জায়েয।
সন্ধির শর্ত ও মুমিন নারীদের না ফেরানোর বিধান
সহীহ বুখারী : ২৭১২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭১২
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ، أَنَّهُ سَمِعَ مَرْوَانَ، وَالْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ، رضى الله عنهما يُخْبِرَانِ عَنْ أَصْحَابِ، رَسُولِ اللَّهِ ﷺ قَالَ لَمَّا كَاتَبَ سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو يَوْمَئِذٍ كَانَ فِيمَا اشْتَرَطَ سُهَيْلُ بْنُ عَمْرٍو عَلَى النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ لاَ يَأْتِيكَ مِنَّا أَحَدٌ وَإِنْ كَانَ عَلَى دِينِكَ إِلاَّ رَدَدْتَهُ إِلَيْنَا، وَخَلَّيْتَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُ.فَكَرِهَ الْمُؤْمِنُونَ ذَلِكَ، وَامْتَعَضُوا مِنْهُ، وَأَبَى سُهَيْلٌ إِلاَّ ذَلِكَ، فَكَاتَبَهُ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى ذَلِكَ، فَرَدَّ يَوْمَئِذٍ أَبَا جَنْدَلٍ عَلَى أَبِيهِ سُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو، وَلَمْ يَأْتِهِ أَحَدٌ مِنَ الرِّجَالِ إِلاَّ رَدَّهُ فِي تِلْكَ الْمُدَّةِ، وَإِنْ كَانَ مُسْلِمًا، وَجَاءَ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ، وَكَانَتْ أُمُّ كُلْثُومٍ بِنْتُ عُقْبَةَ بْنِ أَبِي مُعَيْطٍ مِمَّنْ خَرَجَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَوْمَئِذٍ وَهْىَ عَاتِقٌ، فَجَاءَ أَهْلُهَا يَسْأَلُونَ النَّبِيَّ ﷺ أَنْ يَرْجِعَهَا إِلَيْهِمْ، فَلَمْ يَرْجِعْهَا إِلَيْهِمْ لِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِنَّ ﴾إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ اللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِهِنَّ} إِلَى قَوْلِهِ ﴾وَلاَ هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ}.
মারওয়ান (রাঃ) ও মিসওয়ার ইব্নু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সেদিন সুহাইল ইব্নু ‘আম্র যখন সন্ধিপত্র লিখল তখন সুহাইল ইব্নু ‘আম্র আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর প্রতি এরূপ শর্তারোপ করল যে, আমাদের কেউ আপনার নিকট আসলে সে আপনার দ্বীন গ্রহণ করা সত্ত্বেও আপনি তাকে আমাদের নিকট ফিরিয়ে দিবেন। আর আমাদের ও তার মধ্যে হস্তক্ষেপ করবেন না। মুমিনরা এটা অপছন্দ করলেন এবং এতে রাগান্বিত হলেন।সুহাইল এটা ব্যতীত সন্ধি করতে অস্বীকার করল। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) সে শর্ত মেনেই সন্ধিপত্র লেখালেন। সেদিন তিনি আবু জানদাল (রাঃ)-কে তার পিতা সুহাইল ইব্নু ‘আমরের নিকট ফেরত দিলেন এবং সে চুক্তির মেয়াদ কালে পুরুষদের মধ্যে যেই এসেছিলো মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাকে ফেরত দিলেন। মুমিন নারীরাও হিজরত করে আসলেন।সে সময় আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে উম্মু কুলসুম বিনতে ‘উকবাহ ইব্নু আবু মুয়ায়ত (রাঃ) ছিলেন। তিনি ছিলেন যুবতী। তাঁর পরিজন তাঁকে তাদের নিকট ফেরত দেয়ার জন্য নবী (ﷺ)-এর কাছে দাবী জানালো। কিন্তু তাঁকে তিনি তাদের নিকট ফেরত দিলেন না।কেননা, সেই নারীদের সম্পর্কে আল্লাহ্ তায়ালা আয়াত নাযিল করেছিলেনঃ মুমিন নারীরা হিজরত করে তোমাদের নিকট আসলে তাদের তোমরা পরীক্ষা কর। আল্লাহ্ তাদের ঈমান সম্বন্ধে সম্যক অবগত আছেন। যদি তোমরা জানতে পার যে, তারা মুমিন তাদেরকে কাফিরদের নিকট ফেরত পাঠাবে না- (সূরা আল-মুমতাহিনা : ১০)।‘উরওয়াহ (রহঃ) বলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, নবী (ﷺ) (আরবী) এই আয়াতের ভিত্তিতেই তাদের পরীক্ষা করে দেখতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের বর্ণনার মতোই হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত এসেছে। শর্ত ছিল, কুরাইশদের কেউ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে এলে, সে মুসলিম হলেও তাকে ফেরত দিতে হবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) পুরুষদের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত পালন করেছেন। কিন্তু মুমিন নারীরা হিজরত করে এলে তাঁদের সম্পর্কে আল্লাহর আয়াত নাযিল হয়। তাই উম্মু কুলসুম বিনতে উকবা (রাঃ)-কে তাঁর পরিজনদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় দেখা যায়: চুক্তি পালন করা জরুরি, কিন্তু আল্লাহর স্পষ্ট নির্দেশ এলে সেই নির্দেশই মানা হয়। হাদিসটি হুদায়বিয়ার সন্ধি, মুমিন নারীদের পরীক্ষা, কুরআনের নির্দেশ এবং নববী সিদ্ধান্তের একটি সুন্দর উদাহরণ। ব্যাখ্যায় এর বাইরে বাড়তি ঘটনা যোগ না করাই নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চুক্তি পালন করা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলে গুরুত্ব পেয়েছে।
- আল্লাহর নির্দেশ এলে সেটিই চূড়ান্ত মানদণ্ড।
- মুমিন নারীদের ঈমান যাচাইয়ের বিষয়টি কুরআনের নির্দেশে এসেছে।
- ধর্মীয় সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত পছন্দ নয়, ওহির নির্দেশ অনুসরণ করতে হয়।
