৫৪/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭১৪ - প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা
ইসলামে আহকামে ও ক্রয়-বিক্রয়ে যে সব শর্ত জায়েয।
প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা: বায়আতের গুরুত্বপূর্ণ শর্ত
সহীহ বুখারী : ২৭১৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭১৪
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، قَالَ سَمِعْتُ جَرِيرًا ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَاشْتَرَطَ عَلَىَّ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ.
জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি জারীর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট বায়‘আত গ্রহণ করলাম। তিনি আমার উপর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনার শর্তারোপ করলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৭১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জারীর (রাঃ) বলেন, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বায়আত গ্রহণ করেছিলেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর ওপর প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনার শর্তারোপ করেন। হাদিসটি ছোট, কিন্তু এর শিক্ষা অনেক বড়। একজন মুসলিমের আচরণ শুধু নিজের ইবাদতে সীমাবদ্ধ নয়; অন্য মুসলিমের ভালো চাওয়াও এর অংশ। কল্যাণ কামনা মানে মানুষের ক্ষতি না চাওয়া, ভালো পথে সাহায্য করা, সৎ পরামর্শ দেওয়া এবং অন্তরে হিংসা না রাখা—এসব অর্থ ইসলামী স্কলারদের আলোচনায় আসে। তবে এই হাদিসের সরাসরি কথা হলো, বায়আতের শর্ত হিসেবে প্রত্যেক মুসলিমের জন্য নসীহত বা কল্যাণ কামনা রাখা হয়েছে। তাই মুসলিম সমাজে আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ব ও ভালো আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনা ঈমানি আচরণের অংশ।
- বায়আত শুধু আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার নয়, নৈতিক দায়িত্বও।
- অন্য মুসলিমের ভালো চাওয়া সামাজিক সম্পর্ককে সুন্দর করে।
- নসীহত মানে আন্তরিকভাবে মঙ্গল চাওয়া।
