২/৪৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৭ - মঙ্গল কামনা
নবী (ﷺ)-এর বাণী: “দ্বীন হল কল্যাণ কামনা করা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিম নেতৃবৃন্দের জন্য এবং সমগ্র মুসলিমের জন্য।”
وَقَوْلُهُ تَعَالَى ﴾إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ﴿আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আস্থা রাখে।” (সূরা আত-তাওবা ৯/৯১)
সালাত, যাকাত ও মুসলিমের মঙ্গল কামনার বায়আত
সহীহ বুখারী : ৫৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৭
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنِي قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ بَايَعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ عَلَى إِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ.
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট বায়‘আত গ্রহণ করেছি সালাত কায়িম করার, যাকাত প্রদান করার এবং সমস্ত মুসলিমের মঙ্গল কামনা করার।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের কোর টপিক হলো মঙ্গল কামনা। জারীর ইবন আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বায়আত করেছেন সালাত কায়েম করা, যাকাত দেওয়া এবং সব মুসলিমের মঙ্গল কামনা করার উপর। এখানে ইবাদত ও সামাজিক আচরণ একসঙ্গে এসেছে। সালাত মানুষকে আল্লাহর দিকে নেয়, যাকাত সম্পদকে দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত করে, আর মুসলিমের মঙ্গল কামনা সমাজকে নিরাপদ ও আন্তরিক করে। শুধু নিজের আমল নয়, অন্য মুসলিমের ভালো চাইবার মনও দ্বীনের অংশ। তাই মুসলিমের প্রতি প্রতারণা, হিংসা বা ক্ষতি করার বদলে তার কল্যাণ চাওয়া, সৎ কথা বলা এবং ভালো পথে সাহায্য করা জরুরি। এ কারণে মুমিন নিজের ইবাদতের পাশাপাশি অন্য মুসলিমের ভালো চাইতেও সচেষ্ট থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত কায়েম করা বড় দায়িত্ব।
- যাকাত দেওয়া দ্বীনের গুরুত্বপূর্ণ আমল।
- সব মুসলিমের মঙ্গল কামনা করা ঈমানি চরিত্রের অংশ।
- ইবাদত ও ভালো আচরণ একসঙ্গে চলা দরকার।
