২/৪৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৮ - নসীহত
নবী (ﷺ)-এর বাণী: “দ্বীন হল কল্যাণ কামনা করা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তাঁর রাসূলের জন্য, মুসলিম নেতৃবৃন্দের জন্য এবং সমগ্র মুসলিমের জন্য।”
وَقَوْلُهُ تَعَالَى ﴾إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ﴿আল্লাহ তা‘আলার বাণী: “যদি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি আস্থা রাখে।” (সূরা আত-তাওবা ৯/৯১)
নসীহত ও মুসলিমের কল্যাণ: বায়আতের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৮
حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، قَالَ سَمِعْتُ جَرِيرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يَقُولُ يَوْمَ مَاتَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ قَامَ فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَقَالَ عَلَيْكُمْ بِاتِّقَاءِ اللَّهِ وَحْدَهُ لاَ شَرِيكَ لَهُ، وَالْوَقَارِ وَالسَّكِينَةِ حَتَّى يَأْتِيَكُمْ أَمِيرٌ، فَإِنَّمَا يَأْتِيكُمُ الآنَ، ثُمَّ قَالَ اسْتَعْفُوا لأَمِيرِكُمْ، فَإِنَّهُ كَانَ يُحِبُّ الْعَفْوَ.ثُمَّ قَالَ أَمَّا بَعْدُ، فَإِنِّي أَتَيْتُ النَّبِيَّ ﷺ قُلْتُ أُبَايِعُكَ عَلَى الإِسْلاَمِ. فَشَرَطَ عَلَىَّ وَالنُّصْحِ لِكُلِّ مُسْلِمٍ. فَبَايَعْتُهُ عَلَى هَذَا، وَرَبِّ هَذَا الْمَسْجِدِ إِنِّي لَنَاصِحٌ لَكُمْ. ثُمَّ اسْتَغْفَرَ وَنَزَلَ.
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুগীরাহ ইব্নু শু‘বাহ (রাঃ) [১] যেদিন ইন্তিকাল করেন সেদিন আমি জারীর ইবনূ ‘আব্দুল্লাহ্ (রাঃ)-এর নিকটে শুনেছি, তিনি (মিম্বারে) দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা ও সানা বর্ণনা করে বললেন, তোমরা এক আল্লাহকে ভয় কর যাঁর কোন অংশীদার নেই এবং নতুন কোন নেতার আগমন না হওয়া পর্যন্ত শৃঙ্খলা বজায় রাখ, অতি সত্বর তোমাদের নেতা আগমন করবেন। অতঃপর জারীর (রাঃ) বললেন, তোমাদের নেতার জন্য ক্ষমা চাও; কেননা, তিনি ক্ষমা করা পছন্দ করেন।অতঃপর বললেন, একদা আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকটে এসে আরয করলাম, আমি আপনার নিকট ইসলামের বায়‘আত নিতে চাই। তিনি (অন্যান্য বিষয়ের সাথে) আমার উপর শর্ত দিয়ে বললেনঃ আর সকল মুসলমানের মঙ্গল কামনা করবে। অতঃপর আমি তাঁর নিকট এ শর্তের উপর বায়‘আত নিলাম। এ মসজিদের প্রতিপালকের শপথ! আমি তোমাদের মঙ্গলকামনাকারী। অতঃপর তিনি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলেন এবং (মিম্বার হতে) নেমে গেলেন।
[১] বিখ্যাত সাহাবী। তিনি কূফার আমীর ছিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় নসীহত ও মুসলিমের মঙ্গল কামনা। জারীর (রাঃ) মুগীরা ইবন শুআবাহ (রাঃ)-এর মৃত্যুর দিনে মানুষকে আল্লাহকে ভয় করতে, শৃঙ্খলা রাখতে এবং নেতার জন্য ক্ষমা চাইতে বললেন। এরপর তিনি নিজের বায়আতের কথা স্মরণ করালেন। তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে ইসলামের বায়আত নিতে গেলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তার উপর শর্ত দিলেন—সব মুসলিমের মঙ্গল কামনা করবে। জারীর (রাঃ) বললেন, তিনি তাদের মঙ্গলকামী। এই বর্ণনা দেখায়, মুসলিম সমাজে নসীহত মানে শুধু কথা বলা নয়; এতে আন্তরিকতা, শান্তভাব, ক্ষমা চাওয়া এবং মানুষের ভালো চাওয়ার মন থাকে। এমন নসীহত কাউকে ছোট করার জন্য নয়; বরং কল্যাণের পথ দেখানোর জন্য। এতে সম্পর্কেও নম্রতা থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিম সমাজে শান্ত ও শৃঙ্খল থাকা দরকার।
- নেতার জন্য ক্ষমা চাওয়া এই বর্ণনায় এসেছে।
- সব মুসলিমের মঙ্গল কামনা বায়আতের শর্ত ছিল।
- নসীহত আন্তরিকতার সঙ্গে হওয়া উচিত।
