৫৪/৯. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ২৭২৫ - ন্যায়বিচার ও সঠিক ফয়সালা

দণ্ড বিধিতে যে সকল শর্ত বৈধ নয়।

ন্যায়বিচারের হাদিস: আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ফয়সালা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৭২৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ الْجُهَنِيِّ، رضى الله عنهم أَنَّهُمَا قَالاَ إِنَّ رَجُلاً مِنَ الأَعْرَابِ أَتَى رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولَ اللَّهِ أَنْشُدُكَ اللَّهَ إِلاَّ قَضَيْتَ لِي بِكِتَابِ اللَّهِ. فَقَالَ الْخَصْمُ الآخَرُ وَهْوَ أَفْقَهُ مِنْهُ نَعَمْ فَاقْضِ بَيْنَنَا بِكِتَابِ اللَّهِ، وَائْذَنْ لِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «قُلْ». قَالَ إِنَّ ابْنِي كَانَ عَسِيفًا عَلَى هَذَا، فَزَنَى بِامْرَأَتِهِ، وَإِنِّي أُخْبِرْتُ أَنَّ عَلَى ابْنِي الرَّجْمَ، فَافْتَدَيْتُ مِنْهُ بِمِائَةِ شَاةٍ وَوَلِيدَةٍ، فَسَأَلْتُ أَهْلَ الْعِلْمِ فَأَخْبَرُونِي أَنَّمَا عَلَى ابْنِي جَلْدُ مِائَةٍ، وَتَغْرِيبُ عَامٍ، وَأَنَّ عَلَى امْرَأَةِ هَذَا الرَّجْمَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لأَقْضِيَنَّ بَيْنَكُمَا بِكِتَابِ اللَّهِ، الْوَلِيدَةُ وَالْغَنَمُ رَدٌّ، وَعَلَى ابْنِكَ جَلْدُ مِائَةٍ وَتَغْرِيبُ عَامٍ، اغْدُ يَا أُنَيْسُ إِلَى امْرَأَةِ هَذَا فَإِنِ اعْتَرَفَتْ فَارْجُمْهَا». قَالَ فَغَدَا عَلَيْهَا فَاعْتَرَفَتْ، فَأَمَرَ بِهَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَرُجِمَتْ.

আবূ হুরায়রা (রাঃ) ও যায়দ ইব্‌নু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তাঁরা বলেন, এক বেদুঈন আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনাকে আল্লাহ্‌র শপথ দিয়ে বলছি, আমার ব্যাপারে আল্লাহ্‌র কিতাব মত ফয়সালা করুন।’ তখন তার প্রতিপক্ষ, যে তার তুলনায় বেশি জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন সে বলল, ‘হ্যাঁ, আপনি আমাদের মধ্যে আল্লাহ্‌র কিতাব মত ফয়সালা করুন এবং আমাকে বলার অনুমতি দিন।’ আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘বল’।সে বলল, আমার ছেলে এর নিকট মজুর ছিলো। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে যিনা করেছে। আমাকে অবহিত করা হয়েছে যে, আমার ছেলের প্রাপ্য দণ্ড হল রজম। তখন আমি তাকে (ছেলেকে) একশ’ বকরী এবং একটি বাঁদীর বিনিময়ে তার নিকট হতে ছাড়িয়ে এনেছি। পরে আমি আলিমদের জিজ্ঞেস করলাম। তাঁরা আমাকে জানালেন যে, আমার ছেলের দণ্ড হল একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। আর এই লোকের স্ত্রীর দণ্ড হল রজম।আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ) বললেন, ‘যাঁর হাতে আমার প্রাণ তাঁর কসম, অবশ্যই আমি তোমাদের মধ্যে আল্লাহ্‌র কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করব। বাঁদী এবং একশ’ বকরী তোমাকে ফেরত দেয়া হবে। আর তোমার ছেলের শাস্তি একশ’ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন। হে উনায়স! আগামীকাল সকালে এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাবে। যদি সে স্বীকার করে তাহলে তাকে রজম করবে।রাবী বলেন, উনায়স (রাঃ) পরদিন সকালে সে স্ত্রীলোকের নিকট গেলেন। সে অপরাধ স্বীকার করল। তখন আল্লাহ্‌র রাসূল (ﷺ)-এর নির্দেশে তাকে রজম করা হল।

সহীহ বুখারী হাদিস ২৭২৫-এর সারসংক্ষেপ

এই বর্ণনায় একই ধরনের একটি বিচারিক ঘটনা এসেছে, যেখানে দুই পক্ষ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা চায়। এক ব্যক্তির ছেলে মজুর ছিল এবং সে অন্যের স্ত্রীর সঙ্গে যিনায় জড়ায়। বিষয়টি ভুলভাবে একশ বকরী ও একটি বাঁদীর বিনিময়ে মীমাংসা করা হয়েছিল। পরে জানা যায়, ছেলের জন্য নির্দিষ্ট দণ্ড এবং বিবাহিত নারীর জন্য ভিন্ন দণ্ডের কথা রয়েছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তিনি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ফয়সালা করবেন। ফলে সম্পদ ফেরত দেওয়া হলো এবং স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বিচার সম্পন্ন হলো। এই হাদিস আমাদের শেখায়, শরীয়ত-সংক্রান্ত বিচার ব্যক্তিগত দর-কষাকষির বিষয় নয়। ন্যায়বিচার করতে হলে সঠিক তথ্য, স্বীকারোক্তি এবং আল্লাহর হুকুমকে সামনে রাখতে হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সঠিক বিচার পেতে জ্ঞানীদের কাছে বিষয় বুঝে নেওয়া দরকার।
  • ব্যক্তিগত মীমাংসা দিয়ে আল্লাহর নির্ধারিত বিধান বদলানো যায় না।
  • অন্যায়ভাবে নেওয়া সম্পদ ফেরত দেওয়া ন্যায়ের অংশ।
  • বিচারে সত্য, স্বীকারোক্তি ও বিধান—সবকিছুর গুরুত্ব আছে।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন