৮/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৩৫০ - সফরের সালাত ও মুকিম সালাতের পার্থক্য
ইসরা মি‘রাজে কীভাবে সালাত ফরজ হলো?
وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي أَبُو سُفْيَانَ فِي حَدِيثِ هِرَقْلَ فَقَالَ يَأْمُرُنَا يَعْنِي النَّبِيَّ ﷺ بِالصَّلَاةِ وَالصِّدْقِ وَالْعَفَافِ.ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন: আমার নিকট আবূ সুফিয়ান ইবন হারব (রাঃ) হিরাকল-এর হাদীসে বর্ণনা করেছেন। তাতে তিনি এ কথা বলেছেন যে, নবী (ﷺ) আমাদেরকে সালাত, সত্যবাদিতা ও চারিত্রিক পবিত্রতার নির্দেশ দিয়েছেন।"
সফরের সালাত: কসর নামাজের সহজ হাদিস
সহীহ বুখারী : ৩৫০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৩৫০
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ صَالِحِ بْنِ كَيْسَانَ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ، قَالَتْ «فَرَضَ اللَّهُ الصَّلاَةَ حِينَ فَرَضَهَا رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ، فَأُقِرَّتْ صَلاَةُ السَّفَرِ، وَزِيدَ فِي صَلاَةِ الْحَضَرِ».
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ তা’আলা মুকীম অবস্থায় ও সফরে দু’রাক’আত সালাত ফরজ করেছিলেন। পরে সফরের সালাত আগের মত রাখা হয় আর মুকীম অবস্থার সালাত বাড়িয়ে দেয়া হয়।
সহীহ বুখারী হাদিস ৩৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সফরের সালাত ও মুকিম অবস্থার সালাত নিয়ে সংক্ষিপ্ত কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কথা এসেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, প্রথমে মুকিম ও সফর—দুই অবস্থাতেই দুই রাকাত করে সালাত ফরজ করা হয়েছিল। পরে সফরের সালাত আগের মতো রাখা হয়, আর মুকিম অবস্থার সালাত বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এই বর্ণনা সফরের সালাতের হালকা করার দিকটি বুঝতে সাহায্য করে। এখানে নির্দিষ্ট কোন সালাত কত রাকাত, সেই বিস্তারিত নেই; শুধু ফরজ হওয়ার প্রথম অবস্থা এবং পরে পার্থক্যের কথা আছে। তাই ব্যাখ্যার সময় হাদিসের সীমার মধ্যে থাকা জরুরি। মূল শিক্ষা হলো, সালাতের বিধানে আল্লাহর পক্ষ থেকে বান্দার অবস্থার দিকে খেয়াল রাখা হয়েছে, বিশেষ করে সফরের কষ্টের সময়। তাই সফরের কষ্টের সময়ও সালাতের সম্পর্ক বজায় রাখার সহজ দিক এই বর্ণনায় সামনে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফর ও মুকিম অবস্থায় সালাতের বিধানে পার্থক্য আছে।
- সফরের সালাত আগের অবস্থায় রাখা হয়েছে।
- মুকিম অবস্থার সালাত পরে বাড়ানো হয়েছে।
- সালাতের বিধান বান্দার অবস্থার দিকে খেয়াল রেখে এসেছে।
