৬৪/৩১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১২৪ - মুশরিকদের জবাবে হাসসান (রাঃ)-এর ভূমিকা
আহযাব নবী (ﷺ)-এর প্রত্যাবর্তন এবং তাঁর বনু কুরাইযাহ অভিযান ও তাদের অবরোধ
মুশরিকদের জবাবে কবিতা: হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ)-এর ভূমিকা
সহীহ বুখারী : ৪১২৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১২৪
وَزَادَ إِبْرَاهِيْمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ الشَّيْبَانِيِّ عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَوْمَ قُرَيْظَةَ لِحَسَّانَ بْنِ ثَابِتٍ اهْجُ الْمُشْرِكِيْنَ فَإِنَّ جِبْرِيْلَ مَعَكَ
ইবরাহীম ইবনু তাহ্মান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে অধিক বর্ণনা করে বলেছেন, নবী (ﷺ) বনু কুরাইজার সঙ্গে যুদ্ধের দিন হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে বলেছিলেন, ‘(কবিতা আবৃত্তি করে) মুশরিকদের দোষ-ত্রুটি তুলে ধরো। এ ব্যাপারে জিবরীল (আঃ) তোমার সঙ্গী।’
[৩২১৩] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৮১৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৮২০)[৩৯] হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কবি বা ইসলামের কবি বলা হতো। কারণ, কাফির কবিরা যেমন আল্লাহর রসূল ও ইসলামের বিরুদ্ধে কুৎসা ও বদনাম করতো তেমনি তিনিও কাফিরদেরকে কবিতা ও সাহিত্যের মাধ্যমে তার জবাব দিতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১২৪-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, বনু কুরাইযার যুদ্ধের দিন নবী صلى الله عليه وسلم হাসসান ইবনু সাবিত (রাঃ)-কে বলেছিলেন, কবিতা আবৃত্তি করে মুশরিকদের দোষত্রুটি তুলে ধরো। আরও বলা হয়েছে, এ কাজে জিবরীল (আঃ) তাঁর সঙ্গী। হাদিসটি ৪১২৩ নম্বর বর্ণনার সঙ্গে খুব কাছাকাছি, তবে এখানে “বনু কুরাইযার দিন” কথাটি স্পষ্ট আছে। এর মূল শিক্ষা হলো, সত্যের পক্ষ থেকে জবাব দেওয়ার ক্ষেত্রে ভাষা, কবিতা ও বক্তব্যের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এখানে একটি নির্দিষ্ট সময়, নির্দিষ্ট ব্যক্তি এবং নির্দিষ্ট কাজের কথা এসেছে। তাই এই হাদিসকে ব্যবহার করে সব ধরনের কঠোর কথা বা অপমানকে বৈধ বলা যাবে না। বরং বলা যায়, যখন দ্বীনের বিরুদ্ধে আক্রমণ আসে, তখন জ্ঞানী ও যোগ্য ব্যক্তি সুন্দর, শক্তিশালী এবং সত্যনিষ্ঠ ভাষায় জবাব দিতে পারেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সত্যের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার জন্য যোগ্যতা ও সঠিক সময় গুরুত্বপূর্ণ।
- হাসসান (রাঃ)-এর কবিতা ছিল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জবাব দেওয়ার মাধ্যম।
- হাদিসটি কথার শক্তি ও দায়িত্ব—দুই দিকই মনে করিয়ে দেয়।
- দ্বীনের পক্ষে কথা বললেও সীমা লঙ্ঘন করা উচিত নয়।
