৬৪/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৩৬ - গাওরসের তরবারি ও সালাতুল খাওফ
যাতুর রিকা যুদ্ধ
وَهِيَ غَزْوَةُ مُحَارِبِ خَصَفَةَ مِنْ بَنِي ثَعْلَبَةَ مِنْ غَطَفَانَ فَنَزَلَ نَخْلًا وَهِيَ بَعْدَ خَيْبَرَ لِأَنَّ أَبَا مُوسَى جَاءَ بَعْدَ خَيْبَرَ.গাতফানের শাখা গোত্র বনূ সালাবার অন্তর্ভুক্ত খাসাফার বংশধর মুহারিব গোত্রের সঙ্গে এ যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নাখলা নামক স্থানে অবতরণ করেছিলেন। খায়বার যুদ্ধের পর এ যুদ্ধ হয়েছিল। কেননা আবূ মূসা (রাঃ) খায়বার যুদ্ধের পর (হাবশা থেকে) এসেছিলেন।"
গাওরসের তরবারি ও সালাতুল খাওফ: ভরসা, সতর্কতা ও ইবাদত
সহীহ বুখারী : ৪১৩৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪১৩৬
وَقَالَ أَبَانُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَبِيْ كَثِيْرٍ عَنْ أَبِيْ سَلَمَةَ عَنْ جَابِرٍ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ بِذَاتِ الرِّقَاعِ فَإِذَا أَتَيْنَا عَلَى شَجَرَةٍ ظَلِيْلَةٍ تَرَكْنَاهَا لِلنَّبِيِّ ﷺ فَجَاءَ رَجُلٌ مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ وَسَيْفُ النَّبِيِّ ﷺ مُعَلَّقٌ بِالشَّجَرَةِ فَاخْتَرَطَهُ فَقَالَ تَخَافُنِيْ قَالَ لَا قَالَ فَمَنْ يَمْنَعُكَ مِنِّيْ قَالَ اللهُ فَتَهَدَّدَهُ أَصْحَابُ النَّبِيِّ ﷺ وَأُقِيْمَتْ الصَّلَاةُ فَصَلَّى بِطَائِفَةٍ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ تَأَخَّرُوْا وَصَلَّى بِالطَّائِفَةِ الْأُخْرَى رَكْعَتَيْنِ وَكَانَ لِلنَّبِيِّ ﷺ أَرْبَعٌ وَلِلْقَوْمِ رَكْعَتَانِ وَقَالَ مُسَدَّدٌ عَنْ أَبِيْ عَوَانَةَ عَنْ أَبِيْ بِشْرٍ اسْمُ الرَّجُلِ غَوْرَثُ بْنُ الْحَارِثِ وَقَاتَلَ فِيْهَا مُحَارِبَ خَصَفَةَ>
আবান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যাতুর রিকা’র যুদ্ধে আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সঙ্গে ছিলাম। আমরা একটি ছায়াদার বৃক্ষের কাছে গিয়ে পৌঁছালে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জন্য আমরা তা ছেড়ে দিলাম। এমন সময় এক মুশরিক ব্যক্তি এসে গাছের সঙ্গে লটকানো নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তরবারীখানা হাতে নিয়ে তা তাঁর উপর উঁচিয়ে ধরে বলল, তুমি আমাকে ভয় পাও কি? তিনি বললেন, না। এরপর সে বলল, এখন তোমাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করবে কে? তিনি বললেন, আল্লাহ। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীগন তাকে ধমক দিলেন।এরপর সালাত আরম্ভ হলে তিনি সাহাবীদের একটি দলকে নিয়ে দু’রাক’আত সালাত আদায় করলেন। তাঁরা এখান থেকে সরে গেলে অপর দলটি নিয়ে তিনি আরো দু’রাক’আত সালাত আদায় করলেন। এভাবে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হ’ল চার রাক’আত এবং সাহাবী হ’ল দু’রাক’আত সালাত।(অন্য এক সূত্রে) মুসাদ্দাদ (রহঃ) ....... আবূ বিশর (রহঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি যে লোকটি তলোয়ার উঁচু করেছিল তার নাম গাওরাস ইবনু হারিস। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ অভিযানে খাসাফার বংশধর মুহারিব গোত্রের বিপক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪১৩৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাতুর রিকা যুদ্ধের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক একসঙ্গে এসেছে। প্রথমে দেখা যায়, সাহাবীরা ছায়াদার গাছ নবী صلى الله عليه وسلم-এর জন্য ছেড়ে দিতেন। এক মুশরিক ব্যক্তি এসে গাছে ঝুলানো নবী صلى الله عليه وسلم-এর তরবারি হাতে নিয়ে তাঁকে বলে, তুমি কি আমাকে ভয় পাও? নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, না। সে আবার জিজ্ঞেস করে, তোমাকে আমার হাত থেকে কে রক্ষা করবে? তিনি বলেন, আল্লাহ। এরপর সাহাবীরা তাকে ধমক দেন। তারপর সালাত শুরু হলে নবী صلى الله عليه وسلم এক দলকে নিয়ে দুই রাকাত এবং আরেক দলকে নিয়ে দুই রাকাত আদায় করেন। ফলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর চার রাকাত এবং সাহাবীদের দুই রাকাত হয়। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো তাওয়াক্কুল, সাহাবীদের সতর্কতা, এবং ভয়ের সময় নামাজের ব্যবস্থা। এখানে গাওরস ইবনু হারিস নামটিও অন্য সূত্রে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم বিপদের মুহূর্তে আল্লাহর উপর স্পষ্ট ভরসা করেছেন।
- সাহাবীরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর নিরাপত্তা নিয়ে সতর্ক ছিলেন।
- ভয়ের পরিবেশেও সালাতুল খাওফ আদায় করা হয়েছে।
- একই হাদিসে ভরসা, সতর্কতা ও ইবাদতের ভারসাম্য দেখা যায়।
