৬৪/৪৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪২৫০ - উসামা (রাঃ)-এর নেতৃত্ব ও যোগ্যতা
যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ)-এর অভিযান
উসামা (রাঃ)-এর নেতৃত্ব: যোগ্যতা ও নবীজির ভালোবাসা
সহীহ বুখারী : ৪২৫০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪২৫০
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ دِيْنَارٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا قَالَ أَمَّرَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أُسَامَةَ عَلَى قَوْمٍ فَطَعَنُوْا فِيْ إِمَارَتِهِ فَقَالَ إِنْ تَطْعَنُوْا فِيْ إِمَارَتِهِ فَقَدْ طَعَنْتُمْ فِيْ إِمَارَةِ أَبِيْهِ مِنْ قَبْلِهِ وَايْمُ اللهِ لَقَدْ كَانَ خَلِيْقًا لِلْإِمَارَةِ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ وَإِنَّ هَذَا لَمِنْ أَحَبِّ النَّاسِ إِلَيَّ بَعْدَهُ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উসামাহ (ইবনু যায়দ) (রাঃ)-কে একটি বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত করেছিলেন। লোকজন তাঁর অধিনায়ক নিযুক্তির সমালোচনা করলে তিনি [নবী (ﷺ)] বললেন, আজ তোমরা তাঁর অধিনায়ক নিযুক্তির সমালোচনা করছ, এর পূর্বেও তোমরা তাঁর পিতার অধিনায়ক নিযুক্তিতে সমালোচনা করেছিলে। আল্লাহ্র কসম! সে (উসামার পিতা) ছিল অধিনায়ক হওয়ার জন্য যথোপযুক্ত এবং আমার সবচেয়ে প্রিয়পাত্র। তাঁর মৃত্যুর পর এ হচ্ছে আমার নিকট সবচেয়ে প্রিয়পাত্র।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪২৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ)-কে বাহিনীর অধিনায়ক করা হলে কিছু লোকের সমালোচনার কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাদের জবাবে বলেন, তারা আগে তাঁর পিতা যায়দ (রাঃ)-এর নেতৃত্ব নিয়েও সমালোচনা করেছিল। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্ট করে জানান, যায়দ (রাঃ) নেতৃত্বের উপযুক্ত ছিলেন এবং তাঁর প্রিয় মানুষের একজন ছিলেন; আর উসামা (রাঃ)ও তাঁর পরে প্রিয়দের একজন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নেতৃত্বের মূল্যায়ন বাহ্যিক ধারণা বা লোকের কথায় নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) প্রিয় মানুষকেও দায়িত্ব দিয়েছেন, কিন্তু হাদিসের ভাষায় সেই দায়িত্বের সঙ্গে যোগ্যতার কথাও বলেছেন। তাই নেতৃত্ব, অধিনায়কত্ব এবং সমালোচনার আদব—এই হাদিসের প্রধান বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কাউকে দায়িত্ব দিলে তার যোগ্যতা বিবেচনা করা দরকার।
- অকারণ সমালোচনা মানুষের মর্যাদাকে আঘাত করতে পারে।
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) যায়দ (রাঃ) ও উসামা (রাঃ)-এর মর্যাদা স্পষ্ট করেছেন।
- নেতৃত্ব নিয়ে কথা বলার সময় ন্যায় ও আদব রাখা দরকার।
