৬৪/৭৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৮৩ - ওয়াদা পূরণ ও কৃপণতা থেকে বাঁচা
ওমান ও বাহরাইনের ঘটনা
ওয়াদা পূরণ: আবু বকর (রাঃ)-এর দায়িত্ববোধ
সহীহ বুখারী : ৪৩৮৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৮৩
قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيْدٍ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ سَمِعَ ابْنُ الْمُنْكَدِرِ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا يَقُوْلُ قَالَ لِيْ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ لَوْ قَدْ جَاءَ مَالُ الْبَحْرَيْنِ لَقَدْ أَعْطَيْتُكَ هَكَذَا وَهَكَذَا ثَلَاثًا فَلَمْ يَقْدَمْ مَالُ الْبَحْرَيْنِ حَتَّى قُبِضَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَلَمَّا قَدِمَ عَلَى أَبِيْ بَكْرٍ أَمَرَ مُنَادِيًا فَنَادَى مَنْ كَانَ لَهُ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ دَيْنٌ أَوْ عِدَةٌ فَلْيَأْتِنِيْ قَالَ جَابِرٌ فَجِئْتُ أَبَا بَكْرٍ فَأَخْبَرْتُهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ لَوْ جَاءَ مَالُ الْبَحْرَيْنِ أَعْطَيْتُكَ هَكَذَا وَهَكَذَا ثَلَاثًا قَالَ فَأَعْطَانِيْقَالَ جَابِرٌ فَلَقِيْتُ أَبَا بَكْرٍ بَعْدَ ذَلِكَ فَسَأَلْتُهُ فَلَمْ يُعْطِنِيْ ثُمَّ أَتَيْتُهُ فَلَمْ يُعْطِنِيْ ثُمَّ أَتَيْتُهُ الثَّالِثَةَ فَلَمْ يُعْطِنِيْ فَقُلْتُ لَهُ قَدْ أَتَيْتُكَ فَلَمْ تُعْطِنِيْ ثُمَّ أَتَيْتُكَ فَلَمْ تُعْطِنِيْ ثُمَّ أَتَيْتُكَ فَلَمْ تُعْطِنِيْ فَإِمَّا أَنْ تُعْطِيَنِيْ وَإِمَّا أَنْ تَبْخَلَ عَنِّيْ فَقَالَ أَقُلْتَ تَبْخَلُ عَنِّيْ وَأَيُّ دَاءٍ أَدْوَأُ مِنَ الْبُخْلِ قَالَهَا ثَلَاثًا مَا مَنَعْتُكَ مِنْ مَرَّةٍ إِلَّا وَأَنَا أُرِيْدُ أَنْ أُعْطِيَكَوَعَنْ عَمْرٍو عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَلِيٍّ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَقُوْلُ جِئْتُهُ فَقَالَ لِيْ أَبُوْ بَكْرٍ عُدَّهَا فَعَدَدْتُهَا فَوَجَدْتُهَا خَمْسَ مِائَةٍ فَقَالَ خُذْ مِثْلَهَا مَرَّتَيْنِ.
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেন, বাহরাইনের অর্থ-সম্পদ (জিযিয়া) আসলে তোমাকে এত দেব, এত দেব এত দেব। তিনবার বললেন। এরপর বাহরাইন থেকে আর কোন অর্থ-সম্পদ আসেনি। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর ওফাত হয়ে গেল। এরপর আবূ বাকরের যুগে যখন সেই অর্থ সম্পদ আসল তখন তিনি একজন ঘোষণাকারীকে নির্দেশ দিলেন। সে ঘোষণা করলঃ নবী (ﷺ)- এর কাছে যার প্রাপ্য ঋণ আছে কিংবা কোন ওয়াদা অপূর্ণ আছে সে যেন আমার কাছে আসে।জাবির (রাঃ) বলেনঃ আমি আবূ বাকর (রাঃ)- এর কাছে এসে তাঁকে জানালাম যে, নবী (ﷺ) আমাকে বলেছিলেন, যদি বাহরাইন থেকে অর্থ-সম্পদ আসে তা হলে তোমাকে আমি এত দেব, এত দেব এত দেব। তিনবার বললেন। জাবির (রাঃ) বলেনঃ তখন আবূ বকর (রাঃ) আমাকে অর্থ-সম্পদ দিলেন। জাবির (রাঃ) বলেন, এরপর (আবার) আমি আবূ বকর (রাঃ)- এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলাম এবং তাঁর কাছে মাল চাইলাম। কিন্তু তিনি আমাকে কিছুই দিলেন না।এরপর আমি তাঁর কাছে দ্বিতীয়বার আসি, তিনি আমাকে কিছুই দেননি। এরপর আমি তাঁর কাছে তৃতীয়বার এলাম। তখনো তিনি আমাকে কিছুই দিলেন না। কাজেই আমি তাঁকে বললামঃ আমি আপনার কাছে এসেছিলাম কিন্তু আপনি আমাকে দেননি। তারপর (আবার) এসেছিলাম তখনো দেননি। এরপরেও এসেছিলাম তখনো আমাকে আপনি দেননি। কাজেই এখন হয় আপনি আমাকে সম্পদ দিবেন নয়তো আমি মনে করবঃ আপনি আমার ব্যাপারে কৃপণতা করছেন।তখন তিনি বললেনঃ এ কী বলছ 'আমার ব্যাপারে কৃপণতা করছেন'। কৃপণতা থেকে মারাত্মক ব্যাধি আর কি হতে পারে। কথাটি তিনি তিনবার বললেন। (এরপর তিনি বললেন) যতবারই আমি তোমাকে সম্পদ দেয়া থেকে বিরত রয়েছি ততবারই আমার ইচ্ছা ছিল যে, তোমাকে দেব। 'আম্র [ইবনু দীনার (রহঃ)] মুহাম্মাদ ইবনু 'আলী (রাঃ)- এর কাছে আসলে তিনি আমাকে বললেন, এ (আশরাফী) গুলো গুণো, আমি এগুলো গুণে দেখলাম এখানে পাঁচশ' (আশরাফী) রয়েছে। তিনি বললেন, এ পরিমাণ আরো দু'বার উঠিয়ে নাও।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওয়াদা পূরণ, প্রাপ্য অধিকার এবং কৃপণতা থেকে দূরে থাকার শিক্ষা আছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জাবির (রাঃ)-কে বলেছিলেন, বাহরাইনের সম্পদ এলে তাঁকে দেবেন। কিন্তু সেই সম্পদ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জীবদ্দশায় আসেনি। পরে আবু বকর (রাঃ)-এর সময়ে এলে তিনি ঘোষণা করালেন, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে কারও ঋণ বা অপূর্ণ ওয়াদা থাকলে সে যেন আসে। জাবির (রাঃ) এলে তিনি তাঁকে দিলেন। পরে জাবির (রাঃ) আবার চাইলে দেরি হলো। তখন কৃপণতার কথা উঠলে আবু বকর (রাঃ) কৃপণতাকে কঠিন ব্যাধি বলে উল্লেখ করলেন এবং তাঁর ইচ্ছা ছিল দেওয়ার—এ কথাও জানালেন। হাদিসটি দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, ওয়াদা পূরণ এবং উদারতার সুন্দর দৃষ্টান্ত তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়াদা ও প্রাপ্য অধিকার পূরণে যত্ন নেওয়া উচিত।
- নেতৃত্বে থাকলে মানুষের দাবি শুনে ন্যায়ভাবে ব্যবস্থা করা দরকার।
- কৃপণতা একটি নিন্দিত স্বভাব—এ থেকে নিজেকে বাঁচানো দরকার।
- কারও কাছে প্রাপ্য থাকলে ভদ্রভাবে তা জানানো যায়।
